পদ্মায় বাস ডুবি © টিডিসি সম্পাদিত
পৃথিবীতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রাণিকে মৃত্যু আলিঙ্গন করতে হবে, চলে যেতে হবে অনন্ত এক জীবনে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘প্রতিটি জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আনকাবুত: ৫৭)
বিভিন্নভাবে মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। কারও মৃত্যু স্বাভাবিক হয়, কারও মৃত্যু অস্বাভাবিক। তবে দুর্ঘটনা কবলিত মৃত্যু মানুষকে মর্মাহত করে বেশি। গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে যায়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এমন মৃত্যু বেদনাহত করলেও এমন মৃত্যুর বিষয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে সুসংবাদ রয়েছে। তিনি এমন মৃত্যুকে শহিদের মৃত্যু বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
শহিদদের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আর আল্লাহর পথে যারা নিহত হয় তাদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করতে পার না। -(সুরা বাকারা, আয়াত, ১৫৪)
অর্থাৎ, যেসব লোক আল্লাহর রাস্তায় নিহত হন, তাদেরকে শহিদ বলা হয়। তাদের মৃত্যুকে অন্যান্যদের মৃত্যুর সমপর্যায়ভুক্ত মনে করতে নিষেধ করা হয়েছে। শহিদদের জীবন অন্যান্য মৃতের তুলনায় একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদাপূর্ণ।
তবে আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি ছাড়াও মহামারী, আগুনে পুড়ে, পানিতে ডুবে ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারীরাও শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন।
আবদুল্লাহ ইবনে জাবের রা. তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাবা জাবের রা.-কে তার রোগশয্যায় দেখতে গেলেন। তার কাছে গিয়ে দেখলেন নারীরা কেঁদে কেঁদে বলছে, আমরা মনে করেছিলাম, তুমি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।
তখন মহানবী (সা.) বলেন, আল্লাহর রাস্তায় শহীদ না হলে তোমরা কাউকে শহীদ মনে করো না? এমন হলে তো তোমাদের শহীদের সংখ্যা অতি অল্পই হবে। আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ, পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ, আগুনে পুড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি শহীদ, কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, নিউমোনিয়াজাতীয় কঠিন পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ, যে নারী গর্ভাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সেও শহীদ…। (আবু দাউদ: ৩১১১)
হজরত ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, শহীদ ও বিছানায় মৃত্যুবরণকারী আল্লাহ তাআলার সঙ্গে মহামারিতে মৃত্যুবরণকারীর ব্যাপারে বিতর্ক করে। শহীদ বলে, আমাদের ভাইয়েরা আমাদের মতোই মৃত্যুবরণ করেছে, সুতরাং তাদের আমাদের মতো মর্যাদা দান করুন। আর বিছানায় মৃত্যুবরণকারীরা বলবে আমাদের ভাইয়েরা আমাদের মতো মৃত্যুবরণ করেছে। সুতরাং তাদের আমাদের মতো সম্মান দেওয়া হোক।
হঠাৎ মৃত্যু থেকে বাঁচতে নবীজির (সা.) শেখানো দোয়া:
নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) হঠাৎ বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করেছেন এবং উম্মতকেও তা শিখিয়েছেন।
দোয়াটি হলো: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারকি ওয়াল হারামি ওয়া আউজুবিকা আঁইয়াতাখব্বাতানিশ শাইতনু ইংদাল মাওতি ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদি-গান’।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ থেকে, আমি আপনার কাছ থেকে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ থেকে’। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫৫২; নাসায়ি, হাদিস : ৫৫৪৬)