অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় দুই মাসে ৪০ শতাংশ আবেদন বাতিল

০১ মে ২০২৬, ১০:৫৩ AM
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষায় ভিসা বাতিল

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষায় ভিসা বাতিল © টিডিসি সম্পাদিত

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক প্রক্রিয়াকরণ সময়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি আবেদনকারী ভিসা পাননি। এটি টানা দ্বিতীয় মাসে ভিসা প্রত্যাখ্যান বৃদ্ধির চিত্র।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর (ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স) জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে বিদেশ থেকে জমা দেওয়া উচ্চশিক্ষার ভিসা আবেদনগুলোর মাত্র ৫৯ শতাংশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মাসভিত্তিক অনুমোদনের ইতিহাসে সর্বনিম্ন হার, যা আগের মাসের রেকর্ডের তুলনায় আরও ৮ শতাংশ কম।

বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম উৎস দেশ ভারত ও নেপালের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও নাজুক। ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অনুমোদনের হার ৪৯ শতাংশ, আর নেপালের ক্ষেত্রে তা মাত্র ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ এই দুই দেশের অধিকাংশ আবেদনকারীই প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই তালিকায় আছে বাংলাদেশও। 

এত বিপুল হারে ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং কোনো উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও অনুমোদনের হার দ্রুত কমে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসকরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। এর কারণ খুঁজে বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্যামে ১ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে গ্রাহকরা

ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ফিল হানিওউড বলেন, সরকার কি সবক্ষেত্রে ‘ভিসা ট্যাপ’ কমিয়ে দিচ্ছে কিনা তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তিনি জানান, ডিএইচএ দুই বছর আগের ‘মিনিস্টেরিয়াল ডিরেকশন ১০৬’ নীতির আওতায় আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে ‘সমন্বিত মূল্যায়ন’ শুরু করেছে। এতে আবেদনকারীরা পুরো পড়াশোনার সময়কালজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে পারবেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

তবে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কেবল এক বছরের খরচ বহনের সক্ষমতা দেখালেই যথেষ্ট। এ বিষয়ে হানিওউড বলেন, সরকার বিদ্যমান ও নতুন নীতিগুলো কীভাবে প্রয়োগ করছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট খাতের জন্য স্পষ্টতা প্রয়োজন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডিএইচএ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জানায়, দক্ষিণ এশিয়ার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ‘আর্থিক সক্ষমতা’ ভিসা প্রত্যাখ্যানের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া এবং তা পরিশোধের সীমিত সক্ষমতা থাকা আবেদনকারীদের বিষয়ে কড়াকড়ি নজরদারি করা হচ্ছে।

নাভিটাসের চিফ ইনসাইটস অফিসার জন চিউ বলেন, আগে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আর্থিক নথিতে জালিয়াতি আছে কি না তা যাচাই করতেন। তবে এখন বিদেশি ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, যা একটি নতুন প্রবণতা। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সঠিক কাগজপত্র যাচাইয়ের যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো, তা এখন ভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চিউ আরও বলেন, অতীতে ভিসা প্রত্যাখ্যান বাড়লে ডিএইচএ স্পষ্ট কারণ জানাতো, ফলে শিক্ষার্থী, এজেন্ট ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করতে পারত। কিন্তু এবার কেন প্রত্যাখ্যান হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ডিএইচএ কী ধরনের শিক্ষার্থী চায় তা পরিষ্কার না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে উপযুক্ত শিক্ষার্থী নির্বাচন করবে। একইভাবে শিক্ষার্থীরাও বুঝতে পারছে না তারা যোগ্য আবেদনকারী কিনা।

চিউর মতে, এই পরিস্থিতি সরকারের মেধাবী শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করার লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে। কারণ উচ্চমানের শিক্ষার্থীরা যদি ৪০ শতাংশ প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি দেখে এবং তা কমানোর কোনো স্পষ্ট উপায় না পায়, তাহলে তারা অন্য দেশে চলে যেতে পারে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে তা যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ অন্যান্য দেশে আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, যারা স্টুডেন্ট ভিসাকে ‘ব্যাকডোর’ কর্মসংস্থানের উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তারা বরং ঝুঁকি নিয়ে আবেদন করতে আগ্রহী হতে পারে। ফলে তথ্যের স্বচ্ছতার অভাবে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হবে, আর তুলনামূলকভাবে অনুপযুক্ত আবেদনকারীরা আবেদন চালিয়ে যাবে। তথ্যসূত্র: টাইমস হায়ার এডুকেশন

তারকা হল্যান্ডকে নিয়ে শক্তিশালী দল ঘোষণা নরওয়ের
  • ২২ মে ২০২৬
কিশোরীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ভাইরাল, গ্রেপ্তার ৩, ধরা-ছোঁয়ার বা…
  • ২২ মে ২০২৬
এজলাসে এক আসামিকে গাঁজা-ইয়াবা সাপ্লাই আরেকজনের, দুজনকেই জেল…
  • ২২ মে ২০২৬
স্কুলে যাওয়ার টাকা না পেয়ে বাবার ওপর অভিমান, অষ্টম শ্রেণির …
  • ২২ মে ২০২৬
পরিচয় মিলেছে নিহতের, ১৭ বছর আগে অভিমানে ছেড়েছিলেন বাড়ি
  • ২১ মে ২০২৬
শিশু ধর্ষণে অভিযুক্তকে ‘আটক’ করতে পুলিশের গুলি, ২ সাংবাদিক …
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081