সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্যামে ১ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে গ্রাহকরা

০১ মে ২০২৬, ১০:৩৩ AM , আপডেট: ০১ মে ২০২৬, ১০:৩৩ AM
সোশ্যাল মিডিয়া

সোশ্যাল মিডিয়া © সংগৃহীত

২০২৫ সালে সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক প্রতারণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতারণার অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় সামাজিক মাধ্যম থেকেই সবচেয়ে বেশি অর্থ হারিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর যেসব মানুষ প্রতারণার শিকার হয়ে অর্থ হারানোর অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রায় ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন—প্রতারকের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। প্ল্যাটফর্মভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে ফেসবুক থেকে শুরু হওয়া প্রতারণায়। এর পরের অবস্থানে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম।

এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকভিত্তিক প্রতারণায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ টেক্সট মেসেজ বা ইমেইলভিত্তিক প্রতারণার তুলনায় বেশি। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রতারকেরা এখন ভুক্তভোগীদের টার্গেট করতে সামাজিক মাধ্যমকেই প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতারণার ধরনও বৈচিত্র্যময়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে অনলাইন শপিং সংক্রান্ত প্রতারণা। ক্ষতিগ্রস্তদের ৪০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য অর্ডার করেছিলেন। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল পোশাক, প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশ এমনকি পোষা প্রাণীও। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা অপরিচিত ওয়েবসাইটে গেছেন, আবার কোথাও পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ওয়েবসাইটে বড় ছাড়ের প্রলোভন দেখানো হয়েছে।

বিনিয়োগ প্রতারণাও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বা পোস্টের মাধ্যমে সহজ বিনিয়োগের সুযোগ দেখানো হয়। পরে প্রতারকেরা নিজেদের পরামর্শক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া প্রশংসাসূচক মন্তব্যভরা গ্রুপ তৈরি করে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে। এ ধরনের প্রতারণায় ২০২৫ সালে মোট ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এছাড়া রোমান্স বা প্রেমের সম্পর্কভিত্তিক প্রতারণাও বেড়েছে। এই ধরনের প্রতারণায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় ৬০ শতাংশ জানিয়েছেন, যোগাযোগের শুরু হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমেই। প্রতারকেরা প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে, পরে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ দাবি করে। কখনো আবার বিনিয়োগের নামে ভুয়া প্ল্যাটফর্মে টাকা পাঠাতে প্রলুব্ধ করে।

এফটিসি ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও পোস্ট কারা দেখতে পারবে তা সীমিত রাখা উচিত। অনলাইনে পরিচিত কারও পরামর্শে বিনিয়োগ না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো পণ্য কেনার আগে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া এবং নামের সঙ্গে ‘স্ক্যাম’ বা ‘অভিযোগ’ শব্দ যুক্ত করে অনুসন্ধান করার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সহজলভ্যতা প্রতারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। ফলে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে যা জানাল সরকার
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে নয়, এনটিআরসিএতে…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রক্টর নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জন, আলোচ…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
সিনিয়র অফিসার নিয়োগ দেবে ব্র্যাক, আবেদন ১৮ আগস্ট পর্যন্ত
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
ভাইরাল দাঁড়িপাল্লা নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন চিত্রশিল্পী
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
ফুটবলে বেজোসের বড় পদক্ষেপ, লিভারপুলের এক-তৃতীয়াংশ কিনতে এগি…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬