আনারস পাতায় সম্ভাবনা: ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইলের সুতা যাচ্ছে  ইউরোপ-আমেরিকা

০২ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৪৮ AM , আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৪৮ AM
আনারস পাতা থেকে তৈরী সুতা

আনারস পাতা থেকে তৈরী সুতা © টিডিসি ফটো

আনারস খাওয়ার পর পাতাগুলো ফেলে দেওয়া হয় এটাই ছিল এতদিনকার চিরচেনা চিত্র। কিন্তু সেই ফেলনা পাতাই এখন হয়ে উঠছে স্বর্ণের সমতুল্য। ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের পাহাড়ি অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে আনারসের পাতায় লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। আনারসের পাতা থেকে তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের ফাইবার, যা দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুতা। আর সেই সুতা পৌঁছে যাচ্ছে ফিলিপাইন, নেদারল্যান্ডস থেকে শুরু করে আমেরিকা ও ইউরোপের নামকরা ফ্যাশন ব্র্যান্ডে।

আদিকালের ঐতিহ্য, আধুনিক ফ্যাশনে পুনরুজ্জীবন
পাইনা বা পিনা নামে পরিচিত এই তন্তু আদিকাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। হিসপানিক আমলে এই ফাইবার দিয়ে তৈরি কাপড় রপ্তানি হতো গ্রিস ও আফ্রিকার দেশগুলোতে। বিশেষ করে ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘বারোং তাগালোগ’, ‘রারোত সায়া’ প্রভৃতি তৈরিতে এই ফাইবার বহুল ব্যবহৃত।
সুতি ও সিল্কের আরামে অভ্যস্ত হয়ে মানুষ একসময় পাইনা ফাইবার ভুলতে বসেছিল। তবে দুই দশকের মধ্যে আবারও ফিলিপিনোরা এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছে। এখন এটি ইউরোপ-আমেরিকার ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

গ্রামবাংলার পাতায় বৈশ্বিক বাজার
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া ও টাঙ্গাইলের মধুপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম মহিষমারাতে আনারসের পাতা থেকে এই মূল্যবান ফাইবার উৎপাদন করছে মেসার্স রনি এগ্রো ফাইবার প্রসেসিং ফার্ম। প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জহির রায়হান তালুকদার জানান, এই প্রকল্প শুধু রপ্তানিমুখী আয়ই করছে না, বরং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছে।
প্রতিদিন শত শত আনারসের পাতা হাতে ঘষে ঘষে তন্তু বের করছেন নারী-পুরুষ কর্মীরা। প্রতি কেজি পাতায় পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ সুতা। একেকজন কর্মী নারকেলের খোল ও ভাঙা প্লেট দিয়ে ৫০০ পাতা থেকে তন্তু বের করতে পারেন। এরপর সেই তন্তু ধুয়ে, শুকিয়ে, মোম দিয়ে মসৃণ করে, জোড়া দিয়ে সুতা বানানো হয়।
তৈরি সুতা দিয়ে কাপড় বোনা হয়। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তাতে সূচিকর্ম (ফিলিপিনো ভাষায় ‘কালাডা’) করা হয়। ফলাফল একটি হালকা, মসৃণ, টেকসই এবং বিলাসবহুল কাপড়, যা ব্যবহার হয় ফ্যাশনেবল পোশাক, ব্যাগ, টেবিল ম্যাট প্রভৃতিতে।

কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস
আনারস চাষি শাহিদা আক্তার বলেন, ‘আগে ফল তোলার পর পাতাগুলো ফেলেই দিতাম। এখন সেগুলোই বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে। আগে বাগান কেটে ফেলতে হত, এখন কারখানার লোকজন টাকা দিয়ে পাতা কিনে নিয়ে যায়।’
চাষিদের দাবি, এ ধরনের আরও কারখানা স্থাপন হলে শুধু আনারস চাষই নয়, পাতা বিক্রিও লাভজনক হয়ে উঠবে। এতে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

এক সময়ের অবহেলিত আনারসের পাতার মধ্যে সম্ভাবনার যে সোনার সুতো লুকিয়ে ছিল, তা খুঁজে পেয়েছে ময়মনসিংহের গ্রামবাংলা। এখান থেকে উৎপাদিত ফাইবার দিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে বিশ্বের ফ্যাশনপ্রেমীদের পোশাক। কৃষক পাচ্ছেন ন্যায্য মূল্য, শ্রমিক পাচ্ছেন কাজ, আর দেশ পাচ্ছে রপ্তানি আয়।

গভীর রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুন
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
কুমিল্লা-৪: প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন…
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
সর্বোচ্চ দল নিয়ে বুধবার শুরু হচ্ছে ১৬তম জাতীয় আরচ্যারী চ্য…
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
সুজুকি মোটরবাইক প্রেসিডেন্ট কাপ ফেন্সিংয়ে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন …
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
ই-টিকেটিং ও কাউন্টার পদ্ধতির আওতায় আসছে রাজধানীর বাস
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
শাকসু নির্বাচনের স্থগিতাদেশ গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ও স্বৈরা…
  • ২০ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9