শ্রমিকের পাওনা না দিয়ে ভবনকে ‘অবৈধ’ বললেন কলেজ অধ্যক্ষ

২১ মে ২০২৫, ০২:৫৩ PM , আপডেট: ২১ মে ২০২৫, ০৬:৪৮ PM
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ © টিডিসি ফটো

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজের প্রায় ১৭ লাখ টাকা মজুরি এখনো বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নির্মাণশ্রমিক মো. ওবায়দুল ইসলাম। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই পাওনা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভবনটিকেই অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে।

জানা যায়, ২০১৯ সালে কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর আফজাল হোসেন ও ভাইস প্রিন্সিপাল আমানউল্লাহ আল হাদীর নির্দেশে প্রশাসনিক ভবন-২ এবং মহিলা কমনরুমের নির্মাণকাজে হাত দেন ওবায়দুল। প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী কাজের মূল্য ধরা হয় স্কয়ারফুটপ্রতি নির্ধারিত হারে। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর প্রাপ্য বিল দাঁড়ায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত তিনি পেয়েছেন ৪৩ লাখ টাকার মতো। স্বেচ্ছায় ১০ লাখ টাকা ছেড়ে দিলেও এখনো ১৭ লাখ টাকা দাবি করছেন তিনি।

তবে বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হাশেম বলছেন, ভবনটির কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভবনসংক্রান্ত কোনো নথিপত্র পাননি। ফলে আগের কোনো বিল তিনি মেটাতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: সাত কলেজের প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি, প্রকাশ করবে না মন্ত্রণালয়

প্রশ্ন উঠেছে, যে ভবনকে বর্তমান অধ্যক্ষ অবৈধ বলছেন, সেটিতে বর্তমানে সরকারি বরাদ্দে সংস্কারকাজ চলছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে ভবনটির জন্য একাধিকবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমানউল্লাহ আল হাদী বলেন, ওবায়দুল ইসলাম কাজ করেছেন। আমরা মেপে হিসাব করে দেখি ২৬–২৭ লাখ টাকা পাওনার কথা ওঠে। তিনি ১০ লাখ ছেড়ে দিলেও এখনো প্রায় ১৭ লাখ টাকার মতো পাওনা রয়েছে।

এ হিসাব নির্ধারণে যুক্ত ছিলেন কলেজের তিন শিক্ষক—অর্থনীতি, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের সদস্যরা। তাদের হিসাবেই ওবায়দুলের দাবি বৈধ বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থী আলভি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহিনুর রহমান বলেন, ওবায়দুল ভাই যে এখনো টাকা পাননি, এটা আমরা সবাই জানি। আগের অধ্যক্ষের সময় ফান্ড কালেকশন করে কাজ করানো হয়েছিল। বিল পুরোটা দেওয়া হয়নি।

সাতক্ষীরা জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সিকদার বলেন, ওবায়দুল ইসলাম আমাদের সদস্য। তার পাওনা মিটিয়ে না দিয়ে নতুন করে কাজ করানো অনৈতিক। আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।

অন্যদিকে, নিজের পাওনা টাকার জন্য চরম সংকটে পড়েছেন নির্মাণ শ্রমিক ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমার অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, সংসার চালানো—সবই এখন হুমকির মুখে। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আমি আমার ন্যায্য পাওনা চাই।

শিক্ষকদের সম্মান জানিয়ে বিইউবিটিতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
একাদশে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভর্তির ফল প্রকাশ, জিপিএ-৫ পেয়েও কলে…
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
এসএসসি-এইচএসসির খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ৫ বছরের ক…
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
বিদায়ের মঞ্চ প্রস্তুত, আবেগঘন বার্তায় যা বললেন মেসি
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
বিএনপির বিরুদ্ধে ‘মুনাফেকি’র অভিযোগ জুনায়েদের, জবাব দিলেন শ…
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬
নেশার টাকা জোগাতে ভাগিনাকে বিক্রির অভিযোগ, মামা গ্রেপ্তার
  • ০৬ অক্টোবর ২০২৬