ড্যাবের বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এই সেমিনারের আয়োজন করে © টিডিসি ছবি
ডেঙ্গু পরিস্থিতি কেবল মশা নিধন বা চিকিৎসাসেবার বিষয় নয়, বরং এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সংকট বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, শুধু ফগিং বা কেমিক্যাল দিয়ে মশা মেরে ডেঙ্গু চক্র ভাঙা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী সমন্বিত কৌশল ও আগাম পূর্বাভাসমূলক ব্যবস্থা। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। সেমিনারে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বহু-খাতভিত্তিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সংকটকালীন পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালে ‘স্পেশাল ফোর্স’ গঠন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়।
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিচ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা ও মুগদা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান।
‘বিয়ন্ড মস্কিউটো কন্ট্রোল: অ্যান ইন্টিগ্রেটেড স্ট্র্যাটেজি টু এন্ড দ্য ডেঙ্গু সাইকেল’ শীর্ষক উপস্থাপনায় জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা বলেন, ডেঙ্গু কেবল মশার সমস্যা নয়; এটি একটি পদ্ধতির সমস্যা। এর সাথে বিভিন্ন অংশীদার বা স্টেকহোল্ডার জড়িত। এককভাবে শুধু মশা নিয়ন্ত্রণ ডেঙ্গু দমনের জন্য যথেষ্ট নয়। ডেঙ্গু বিস্তার নির্ভর করে মশা, ভাইরাস, মানুষের আচরণ, পরিবেশ, জলবায়ু, জনসংখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের আচরণের ওপর। তাই আমাদের পুরো পরিস্থিতিটিকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।
মশা নিধনে ফগিংয়ের অকার্যকরতা নিয়ে তিনি বলেন, শুধু ফগিং ও রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ কেন ব্যর্থ হয়? আমরা বলতে চাই, কেবল ফগিং যথেষ্ট নয়। কারণ ব্যাপক ফগিং শুধু সাময়িকভাবে পূর্ণাঙ্গ মশাকে লক্ষ্য করে, যা ডিম বা লার্ভার প্রজনন রোধ করতে পারে না। তাই এটি কার্যকর নয়। এখানে বহু-খাতভিত্তিক সহযোগিতা অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মূল ভিত্তি হলো ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট (আইভিএম)। এ সময় তিনি সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কৌশল তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, সিঙ্গাপুর উচ্চ প্রযুক্তির সাহায্যে ভেক্টর দমন, জরিমানা, পর্যবেক্ষণ ও উলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার। ব্রাজিল গবেষণাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর, উলবাকিয়া প্রয়োগ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে টিকাদানের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করছে। একই ভাবে ফিলিপাইন নিয়েছে ‘4S’ কৌশল। এগুলো হচ্ছে—Search and destroy, Self-protection, Seek early consultation, Say yes to fogging in outbreak areas।
সুপারিশ উপস্থাপন করে নিপসম পরিচালক বলেন, প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সাথে প্রতিক্রিয়ার চেয়ে প্রতিরোধ জরুরি। শুধু সংক্রমণ বাড়ার পর পদক্ষেপ না নিয়ে আগে থেকেই নজরদারি ও পূর্বাভাসমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ সময় রুটিন পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন,প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৫ মিনিট সময় দিয়ে বাসা-বাড়ি পরিদর্শনের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস কর প্রয়োজন। একই সাথে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার, নেট বা মশারির ব্যবহার এবং হাসপাতাল ও স্কুলে সুরক্ষা জোরদার করা, অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবস্থা হিসেবে টিকাদান এবং স্থানীয় নেতৃত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে নিয়মিত সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
বক্তব্য উপস্থাপনকালে মুগদা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে আমাদের এখানে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব (আউটব্রেক) দেখা দিয়েছিল। এর মৌসুমী ধরন বা সময়সীমাও পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে এটি কেবল তিন মাসের জন্য হতো—জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর। এখন এটি পাঁচ থেকে ছয় মাস জুড়ে স্থায়ী হচ্ছে, যদিও রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর মূল মাত্রা এখনও সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসেই বেশি দেখা যায়।
তিনি বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকেও, আগে ডেঙ্গু ‘ঢাকা ফিভার’ নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন এটি আর শুধু ঢাকার জ্বর নয়, এটি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ‘কেস ফ্যাটালিটি রেট’—অর্থাৎ মোট আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার কম, সাধারণত ১%-এর কম, প্রায় ০.৩% থেকে ০.৫%-এর মধ্যে থাকে—তবে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি হওয়ায়, সার্বিক মৃত্যুর সংখ্যাটি অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৭১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চিকিৎসাগত বা ক্লিনিক্যাল চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এই চিকিৎসক বলেন, প্রথমত হলো রোগীদের ক্যাটাগরি বা শ্রেণিবিন্যাস করা। 'ক্যাটাগরি এ' হলো কোনো বিপদচিহ্ন ছাড়া মৃদু ডেঙ্গু, যা তত্ত্বাবধানে রেখে ঘরেই ব্যবস্থাপনা বা চিকিৎসা করা যায়। 'ক্যাটাগরি বি' আক্রান্ত রোগীদের বিপদচিহ্ন বা অন্যান্য জটিল শারীরিক সমস্যা/ঝুঁকি থাকে এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন হয়। 'ক্যাটাগরি সি' রোগীরা হলো মারাত্মক ডেঙ্গু, এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিন্ড্রোম বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকার্যকর হওয়া রোগী, যাদের হাই-ডিপেনডেন্সি (HDU) বা নিবিড় পরিচর্যা (ICU) প্রয়োজন হয়। কঠিন বিষয়টি হলো এই রোগের দ্রুত পরিবর্তনশীল রূপ। রোগীরা মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে ফেলতে পারে, বিশেষ করে ক্রিটিক্যাল বা জ্বর কমার (আফেবরাইল) ধাপে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় হলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার সঠিক সময়। সিবিসি (CBC) এবং এনএস১ (NS1) অ্যান্টিজেনের মতো পরীক্ষাগুলো প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই করা উচিত। পাঁচ দিন পর এনএস১ নেগেটিভ হয়ে যায় এবং আইজিএম (IgM) ও আইজিজি (IgG)-র মতো অ্যান্টিবডি পরীক্ষাগুলো পজিটিভ হতে ৫ থেকে ৭ দিন সময় নেয়। ভুল সময়ে পরীক্ষা করলে ভুল ফলাফল এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে সাংবাদিক নিয়ে হুরহুর করে ‘নীতিনির্ধারকদের’ ঢুকে পড়া মেনে নিতে পারি না
তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষ এবং মিডিয়ার পক্ষ থেকে প্লাটিলেট কাউন্টের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে, মারাত্মক জটিলতাগুলো প্রকাশ্য রক্তপাতের চেয়ে বরং প্লাজমা লিকেজ সিন্ড্রোম, রক্তচাপ কমে যাওয়া (হাইপোটেনশন), শক এবং একাধিক অঙ্গ অকার্যকর হয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই বেশি ঘটে থাকে।
প্রশাসনিক এবং হাসপাতাল সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ডা. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তীব্র ভিড় এবং শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের প্রায়শই মেঝেতে, করিডোরে এবং লিফটের লবির কাছে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। চিকিৎসক-রোগী এবং নার্স-রোগীর পর্যাপ্ত অনুপাত না থাকায় জনবল সংকট রয়েছে, যার ফলে প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা পর পর রোগীদের ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
ডেঙ্গু চিকিৎসায় ভুল ধারণা এবং অনুপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েডের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার রয়েছে। একই সাথে প্রয়োজন ছাড়াই শিরাপথে স্যালাইন (IV fluids) বা রক্ত এবং প্লাটিলেট দেওয়ার জন্য আত্মীয়স্বজনদের পক্ষ থেকে চাপ আসে।
বৈজ্ঞানিক সেমিনারে চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে ড্যাবের মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, আপনারা যখন রোগী পাবেন, তাদের সাথে কাউন্সেলিং করবেন। কারণ আমাদের এটা বাস্তবতা মানতেই হবে যে চিকিৎসক হিসেবে আমাদের এই সীমিত জনবল, আমাদের ফ্যাসিলিটিজ অভাবের পরও আমাদের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এই ব্যাপারে আমাদের কোনো ধরনের ক্ষোভ বা রাগ থাকলে হবে না, আমাদের চিকিৎসা করতেই হবে। কারণ আমরা যেহেতু জনগণের সেবক হিসেবে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করার জন্য চিকিৎসক হয়েছিলাম, সেটা অবশ্যই তা করে যেতে হবে। আশা করি আপনারা সেটা করবেন, আমরা সেটা করব আমাদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে যেভাবে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ হচ্ছে, এটা প্রতিরোধ করার জন্য আপনারা মন্ত্রণালয় থেকে পদক্ষেপ নেন। অন্যান্য সময় দেখা যেত সরকারি হসপিটালগুলোতে আক্রমণ হতো, কিন্তু গত তিন দিনে ঢাকা শহরের তিনটি স্বনামধন্য প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এবং প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ হয়েছে, যেখানে প্রাইভেটে সবাই আস্থা রাখে—ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল এবং ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ। এটা কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, সেটা আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত নীতিনির্ধারকদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় ৩০-৪০টা দেশে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ রহমতে। আমি পৃথিবীর কোথাও এ বিষয়টা দেখিনি যে, একটি হাসপাতালে আমরা নীতি-নির্ধারকরা যখন যাই, সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বিদগ্ধ এবং প্রিয় গণমাধ্যমকর্মীদেরকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা হুরহুর করে ঢুকে পড়ি। গিয়ে সেখানে বিভিন্ন পরিস্থিতি দেখতে পাই। একদিকে পেশেন্টরা থাকেন, পেশেন্টের অ্যাটেনডেন্টসরা থাকেন, সঙ্গে আমরা ডাক্তার সাহেবদেরকে নিয়ে যাই। এইটা আমি আমার জনস্বাস্থ্য কর্মজীবনে পৃথিবীর কোনো দেশে, কোনো পলিসি মেকারকে এই কাজটা করতে আমি দেখিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেঙ্গুসহ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালে ‘স্পেশাল ফোর্স’ রাখার প্রস্তাব দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। তিনি বলেন, যখন এ ধরনের বড় ক্রাইসিস আসবে, হাজার দুয়েক লোক থাকবে, যারা টাকা দেবে, তাদেরকে আমরা ট্রেনিং দিয়ে রাখব। মিনিমাম কিছু ট্রেনিং দিয়ে রেখে দিলাম, ক্রাইসিস যখন হবে তাকে ডাকব।
স্বাস্থ্য জনবল সংকটের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটা হাসপাতালে ডাক্তারের সংখ্যা ধরেন কথার কথা ১০ জন থাকার কথা, সেখানে ৫ জনই নাই। ওই উপজেলায় বেড সংখ্যা আছে ৫১, রোগী আছে ১০০-র ওপরে। এই যে একদিকে ডাক্তারের সংকট, আর একদিকে বেড নাই, বেডের চেয়ে বেশি রোগী; শুধু রোগীর সংখ্যাই না, শুধু ডাক্তারের ক্রাইসিস না, ওই হাসপাতালটা যেই স্ট্রাকচারে তৈরি, তাতে আপনারা নার্সের সংখ্যা বলেন, ব্রাদারের সংখ্যা বলেন, আমাদের সুইপারের সংখ্যা বলেন... ওই যে সাংবাদিকরা যখন যান, তখন বলেন, ‘ডাক্তার নাই।’ আরে ডাক্তারের তো ওখানে পোস্টিংই নাই! ডাক্তার থাকবে কই থেকে? ডাক্তারেরই তো পোস্টিং দেওয়া নাই!
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ. কে এম শামসুল কবির বাবু এবং হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল শাখা ড্যাবের সভাপতি ডা. এ কে এম মাসুদ আক্তার জিতু।