বন্যা পরিস্থিতি
বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল © সংগৃহীত
বন্যা পানিতে তলিয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন জেলা। এতে বেড়েছে সাপের উপদ্রুব। এমতাবস্থায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে ২১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে আরও ১ হাজার অ্যা-ভেনম এবং মাঠপর্যায়ে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯টি কলেরার স্যালাইন মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাঠপর্যায়ে খাবার স্যালাইন রয়েছে ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট। পানি বিশুকরণ ট্যাবলেট রয়েছে ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি। ডেঙ্গু কিট সিডিসি ৪৪ হাজার ১৭৫টি এবং ডেঙ্গু কিট সিডিসি কেন্দ্রীয়ভাবে ৭৫ হাজার ৭৪৫টি। নরমাল স্যালাইন সিএমএমসিতে মজুদ রয়েছে ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়। এই টিমগুলো প্রাথমিক চিকিৎসা, পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা, ঔষধ ও ওরস্যালাইন বিতরণ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করছে। মনোনীত ফোকাল পারসনরা কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা সমন্বয় রক্ষা করছেন।
দেশের উত্তর ও চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া স্থায়ী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, দেশের সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দেওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিক ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রতিবছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরাসরি আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মৌসুমী রোগের তথ্য প্রবাহ নিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের আওতাধীন ১৬২৬৩ হেল্পলাইনটি ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে, যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। আগে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের তথ্য জেলা পর্যায় থেকে বিচ্ছিন্নভাবে আসলেও এখন তা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।