ক্যান্সার চিকিৎসার নতুন দিগন্ত ‘ইমিউনোথেরাপি’, এটি কিভাবে কাজ করে

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৭ AM , আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ AM
ক্যান্সার কোষ শনাক্তকারী সেল

ক্যান্সার কোষ শনাক্তকারী সেল © বিবিসি

শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার নির্মূলের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ১০০ বছরের নিরলস গবেষণার পর পূর্ণতা পাওয়া এই ‘ইমিউনোথেরাপি’ পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়ে এখন অসংখ্য রোগী নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছেন। খবর বিবিসি।

নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোন কেটারিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসাধীন ৭১ বছর বয়সী মরিন সিডরিস এই পদ্ধতির এক বিস্ময়কর উদাহরণ। কোনো অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন ছাড়াই মাত্র চার মাসের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে তার শরীরের ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে। অভূতপূর্ব এই সাফল্য দেখে সিডরিস বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য, অনেকটা সায়েন্স ফিকশনের মতো।’

টেক্সাসের এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের অধ্যাপক জেনিফার ওয়ার্গো বলেন, ‘মানুষ এখন শুধু বেঁচে নেই, বরং সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। আমরা এখন ক্যানসার নিরাময় বা কিউর নিয়ে কথা বলছি।’

ইমিউনোথেরাপি যেভাবে কাজ করে

আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেমের স্বাভাবিক ক্ষমতা আছে বাইরের ক্ষতিকর কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করার। কিন্তু ক্যান্সার কোষগুলো অত্যন্ত চতুর হওয়ার কারণে সুস্থ কোষের ছদ্মবেশ ধরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে বেড়ে ওঠে। ইমিউনোথেরাপির মূল লক্ষ্য হলো ক্যান্সার কোষের এই ছদ্মবেশ বা মুখোশ খুলে দেওয়া। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সচেতন করে তোলে যাতে তারা ক্যান্সার কোষগুলোকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

চিকিৎসার বর্তমান পদ্ধতিসমূহ

বর্তমানে ইমিউনোথেরাপির দুটি ধরন বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে:

কার টি-সেল থেরাপি: এটি মূলত ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এতে রোগীর রক্ত থেকে বিশেষ রোগ প্রতিরোধকারী টি-সেল সংগ্রহ করে ল্যাবে সেগুলোকে শক্তিশালী করা হয় এবং পুনরায় শরীরে প্রবেশ করানো হয় যাতে তারা ক্যান্সার কোষ খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে পারে।

ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর: শরীরের ইমিউন সিস্টেমের একটি ‘অফ সুইচ’ থাকে যা সুস্থ কোষকে আক্রমণ থেকে বাঁচায়। ক্যান্সার কোষ এই সুইচটি ব্যবহার করে ইমিউন সিস্টেমকে থামিয়ে দেয়। এই বিশেষ ওষুধ সেই সুইচটি বন্ধ হতে দেয় না, ফলে ইমিউন সিস্টেম পুরোদমে ক্যান্সার আক্রমণ করতে পারে। ২০১৮ সালে এই উদ্ভাবনের জন্য বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

ব্যক্তিগত চিকিৎসা ও সীমাবদ্ধতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার প্রায় ২০০টি ভিন্ন ভিন্ন রোগের সমষ্টি, তাই প্রতিটি রোগীর জন্য ভিন্ন চিকিৎসা প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ জেনেটিক প্রোফাইল সম্পন্ন টিউমারগুলো ইমিউনোথেরাপিতে খুব ভালো সাড়া দেয়। স্লোন কেটারিং-এর ডা. লুইস ডিয়াজ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পাকস্থলী বা মূত্রাশয় কেটে ফেলার মতো মধ্যযুগীয় বর্বর চিকিৎসা থেকে আমাদের বেরিয়ে এসে আধুনিক যুগের উন্নত চিকিৎসায় পৌঁছাতে হবে।’

তবে এই পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি বর্তমানে সব রোগীর ক্ষেত্রে (সাধারণত ২০% থেকে ৪০%) সমানভাবে কাজ করে না এবং কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে।

ক্যান্সার ভ্যাকসিনের সম্ভাবনা

ভবিষ্যতে সাধারণ টিকার মতো ক্যান্সার ভ্যাকসিনের মাধ্যমেও ইমিউনোথেরাপি দেওয়ার কাজ চলছে। এটি মূলত রোগ প্রতিরোধের চেয়ে রোগ নিরাময়ে বেশি কাজ করবে। ইতিমধ্যে মেলানোমা ও কিডনি ক্যান্সারের চিকিৎসায় এই ভ্যাকসিনের প্রাথমিক সফলতার প্রমাণ মিলেছে।

যদিও এই পথে এখনো অনেক গবেষণা বাকি, তবুও ইমিউনোথেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন আশার আলো। মরিন সিডরিসের মতো রোগীরা বিশ্বাস করেন, আগামী এক দশকের মধ্যে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের মতো যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতিগুলো সেকেলে বা 'রক্তমোক্ষণ' (Bloodletting) এর মতো পুরনো ইতিহাসে পরিণত হবে।

কেনাকাটা-দুর্নীতি নিয়ে যে বক্তব্যের পর সাধারণ হাসপাতালে পাঠ…
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
স্কুল থেকে বিদায় নিল ছুটির ঘণ্টা, ক্লাস শেষের সময় জানাবে এআই
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
পহেলা বৈশাখে ডাকসুর বায়োস্কোপ প্রদর্শনীতে জুলাই বিপ্লবের ছবি
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬
শিকড়ের টানে নবোল্লাসে বৈশাখ, শিক্ষার্থীদের ভাবনায় ১৪৩৩
  • ১৪ এপ্রিল ২০২৬