ফিজিওথেরাপি শিক্ষা ও চিকিৎসা: স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে মানবসেবা

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৪ AM
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা © সংগৃহীত

ফিজিওথেরাপি বলতে একটি ফিজিওথেরাপিউটিক চিকিৎসা পদ্ধতি বোঝায়, যা একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক স্বীকৃত, স্বাতন্ত্র্য ও বিজ্ঞান সম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ফিজিওথেরাপিকে আন্তর্জাতিক পেশার মান শ্রেণীবিভাগ (ISCO) কোড ২২৬৪ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে, এবং এটিকে প্যারামেডিক্যাল ধারা থেকে পৃথক একটি স্বাধীন স্বাস্থ্য পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যায়াম (Therapeutic Exercise), ম্যানিপুলেশন, মোবিলাইজেশন, এবং ইলেক্ট্রোথেরাপির মতো শারীরিক পদ্ধতির মাধ্যমে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির নড়াচড়া (Movement), এবং কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনার উপর গুরুত্বারোপ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরো বলেন যে, ফিজিওথেরাপিস্টরা হলেন অটোনোমাস প্র্যাক্টিশনার, অর্থাৎ First Contact Practitioner (FCP), যারা আঘাত, রোগ বা অক্ষমতার কারণে কার্যকরী সীমাবদ্ধতাযুক্ত রোগীদের নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রদান করেন, স্বাধীনভাবে কাজ করেন।

বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল (বিআরসি)-এর সঙ্গা মতে ফিজিওথেরাপি হচ্ছে একটি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ও স্বতন্ত্র চিকিৎসা ব্যবস্থা যেখানে সকল ধরনের বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস সহ প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি এবং/অথবা রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষণ, নিরীক্ষণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োগসহ উপদেশ ও ব্যবস্থাপত্র প্রদানের মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর অঙ্গ সঞ্চালনে সব ধরণের শারীরিক সমস্যার সমাধান ও প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধ করে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় বিভিন্ন ভৌত উপাদান, থেরাপিউটিক পন্থা বা এক্সারসাইজ, ফার্মাকোথেরাপি, দৈনন্দিন কার্যক্রম সহায়ক সামগ্রী ও গবেষণালব্ধ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীকে চিকিৎসা ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রদান করা হয়।

ফিজিওথেরাপিস্ট কে বা কারা?
একজন ফিজিওথেরাপিস্ট হওয়া অত সহজ যাত্রা নয়, যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও বায়োলজী সহ এইচএসসি পরীক্ষা পাশের পর প্রতিযোগীতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের সরকার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ (৫ বছর) সহ ফিজিওথেরাপি ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮ মোতাবেক একজন ফিজিওথেরাপিস্টকে "রিহ্যাবিলিটেশন প্র্যাক্টিশনার" অর্থাৎ, স্বাধীন প্র্যাক্টিশনার হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফিজিওথেরাপিস্টদের তাদের নামের আগে "ডাক্তার" লেখার অধিকার রয়েছে, এবং যা আইনি প্রক্রিয়া দ্বারা সুরক্ষিত। এখানে উল্লেখ্য যে, যারা চিকিৎসা পেশায় স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন তারাই চিকিৎসক বা ডাক্তার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, এবং এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপিতে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনকারীই একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক বা ডাক্তার হিসেবে পরিগণিত হবেন। 

ফিজিওথেরাপিস্টরা কী করতে পারেন?
WHO’র মতে, ফিজিওথেরাপিস্টরা পুনর্বাসনমূলক চিকিৎসা মূল্যায়ন, পরীক্ষণ, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করেন, যা মানুষের মোটর ফাংশন (গতি সচল) উন্নত বা পুনরুদ্ধার করে, চলাচলের সক্ষমতা বাড়ায়, পেইন বা ব্যথা উপশম করে ও আঘাত, রোগ এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার সাথে সম্পর্কিত শারীরিক চ্যালেঞ্জগুলির চিকিৎসা বা প্রতিরোধ করে (ISCO, 2008)। ফিজিওথেরাপিস্টরা পেশী, হাড়, জয়েন্ট, স্নায়ুতন্ত্র, হৃৎযন্ত্র, রক্ত ​​সঞ্চালন, এবং ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এমন রোগ বা প্রতিবন্ধকতার চিকিৎসা করেন। তারা শারীরিক, মানসিক, পেশাগত এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত এবং নির্ণয় করার জন্য স্বায়ত্তশাসিত পেশাদার এবং বিভিন্ন শারীরিক (Physical), বৈদ্যুতিক বা ইলেক্ট্রোথেরাপি প্রদানে বিশেষায়িত জ্ঞান এবং ফার্মাকোলজিকাল এজেন্ট ব্যবহার করে স্বাস্থ্য শিক্ষা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে কাজ করেন।

ক্লিনিক্যাল বিশেষত্ব:
যেহেতু ফিজিওথেরাপির জ্ঞানের পরিধি বেশ বিস্তৃত,  তাই একজন ফিজিওথেরাপিস্ট নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল  ‍পুনর্বাসন চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে, যার মধ্যে রয়েছে: মাস্কুলো-স্কেলিটাল/অর্থোপেডিক মেডিসিন, কার্ডিওপালমোনারি, স্নায়ুবিজ্ঞান, শিশুচিকিৎসা, স্পোর্টস মেডিসিন/স্পোর্টস ফিজিও, রিউমাটোলজি, বয়স্ক ব্যক্তি / বার্ধক্য, বাত-ব্যথা, নারী স্বাস্থ্য, অনকোলজি, জনস্বাস্থ্য, ইত্যাদি। এছাড়াও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অথবা প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিবর্গের পুনর্বাসনে বেসরকারী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় কাজের সাথে বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে থাকেন, যেখানে উচ্চমানের বেতনকাঠামোর সুযোগ থাকে। 

রোগীর যত্নে ফিজিওথেরাপিস্টের ভূমিকা:
বয়স, আঘাত, রোগ, ব্যাধি, অবস্থা, বা পরিবেশগত কারণগুলি শরীরের চলাচল, গতিশীলতা এবং কার্যকারিতা ব্যাহত করলে শারীরিক, মানসিক, এবং সামাজিক সুস্থতার দিক চিন্তা করে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট তাদের ক্লায়েন্টদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে (Quality of Life) ফিজিওথেরাপিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফিজিওথেরাপির ভবিষ্যত ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে, যা ব্যথা নিরাময় অথবা অন্যান্য রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জন্য উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রমাণ-ভিত্তিক (এভিডেন্স বেস্ড) চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন।

চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি মানবসেবায় ফিজিওথেরাপি পেশা হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ:
ব্যক্তিগত পছন্দ এবং ক্যারিয়ারের লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা সেবায় ফিজিওথেরাপি অবশ্যই একটি দুর্দান্ত পেশা হতে পারে। বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার সমস্যার কারণে এই পেশার গুরুত্ব ও চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসা সেবায় ফিজিওথেরাপি একটি অত্যন্ত সম্মানজনক, প্রতিশ্রুতিশীল এবং দ্রুত বর্ধনশীল পেশা, যা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সরাসরি কাজ করে। অপারেশন বা ঔষধ ছাড়াই ব্যথামুক্ত জীবন প্রদান, পুনর্বাসন এবং রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে (Quality of Life) ফিজিওথেরাপিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা একে ক্যারিয়ার হিসেবে প্রথম পছন্দ করার উপযুক্ত কারণ, এছাড়াও আরো কিছু যৌক্তিক কারণ হচ্ছে-

স্বতন্ত্র পেশা: প্রথমত এটি একটি স্বতন্ত্র চিকিৎসাজীবি পেশা, যা একজন ফিজিওথেরাপিস্ট সরাসরি রোগী পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন, যা তাকে পেশাগত স্বাধীনতা দেয়।

স্বাধীন ও পেশাদার ক্যারিয়ার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর নির্দেশনায়, ফিজিওথেরাপি একটি স্বাধীন চিকিৎসা ব্যবস্থা, যেখানে স্বতন্ত্রভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান করার অপার সুযোগ।

বিশাল চাহিদা: খেলাধুলা, পক্ষাঘাত (Stroke), বাত-ব্যথা, এবং বয়সজনিত হাড়-মাংসের সমস্যার চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপিস্টদের বিকল্প নেই।

বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার অপূর্ব সুযোগ: উন্নত দেশগুলোতে ফিজিওথেরাপিস্টদের ব্যাপক চাহিদা এবং আকর্ষণীয় বেতন রয়েছে, বিধায় দেশের বাইরে অর্থাৎ, ইউরোপ/পশ্চিমা দেশ সহ আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, জাপানসহ অন্যান্য উন্নত দেশে সরাসরি ক্যারিয়ার গড়া এবং উচ্চতর পেশাগত ডিগ্রী অর্জন করার পাশাপাশি উন্নত জীবন-যাপনের অবারিত সুযোগ।

চাহিদা ও কাজের সুযোগ: সরকারী অথবা বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্পোর্টস সেন্টার, রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, এবং নিজস্ব চেম্বার দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থায় (NGO/INGO) ক্যারিয়ার গড়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। 

কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্য: ফিজিওথেরাপিস্টরা মাস্কুলো-স্কেলিটাল/অর্থোপেডিক মেডিসিন, কার্ডিও-রেসপাইরেটরী, নিউরোলজিক্যাল, পেডিয়াট্রিক, এক্সেসিবিলিটি, এবং স্পোর্টস ইনজুরির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে পারেন।

মানবিক সেবার সুযোগ: রোগীদের পঙ্গুত্ব থেকে রক্ষা করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে সরাসরি মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায়। শারীরিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখার মাধ্যমে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই পেশাটি একই সাথে মানবিক এবং পেশাগতভাবে লাভজনক।

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ: বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বয়সজনিত সমস্যা এবং স্পোর্টস ইনজুরির কারণে ফিজিওথেরাপিস্টদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

সেবার আনন্দ: সর্বোপরি ওষুধ বা সার্জারি ছাড়াই রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা অতুলনীয়।

কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফিজিওথেরাপিতে ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করা যায়: 
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে ফিজিওথেরাপিতে ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করার তেমন কোনো সুযোগ ছিলনা, শুধুমাত্র ছিল জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর), যা পূর্বে RIHD (Rehabilitation Institute and Hospital for the Disabled) নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে ও একটি মাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসভিত্তিক ফিজিওথেরাপিতে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রী প্রদান করা হয়ে থাকে, যার নাম- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া যে সকল কলেজ বা ইন্সটিটিউটে ফিজিওথেরাপিতে ব্যাচেলর কোর্স করা যায়, তাদের নাম ও অধিভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিম্নে তুলে ধরা হলো:
চিকিৎসা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- একমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), ঢাকা- যা ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশন্স ইন্সটিটিউট (বিএইচপিআই), সাভার, ঢাকা- যা সিআরপি’র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এখানে ফিজিওথেরাপিতে মাস্টার্স প্রোগ্রামও চালু রয়েছে। ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এণ্ড হেলথ সায়েন্সেস (এমসিপিএইচএস), ময়মনসিংহ- যা ঢাকার বাইরে অবস্থিত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ একটি ফিজিওথেরাপি কলেজ।

ঢাকা কলেজ অফ ফিজিওথেরাপি (ডিসিপিটি), ঢাকা।
স্টেট কলেজ অব হেলথ সাইন্স, ঢাকা- যা ল্যাব এইড‘র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ইনস্টিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি, মহাখালী, ঢাকা।
সাইক কলেজ অফ মেডিকেল সায়েন্স এণ্ড টেকনোলজি (এসসিএমএসটি), মিরপুর, ঢাকা।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ সায়েন্স (আইআইএইচএস), ঢাকা।
ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল টেকনোলজি, ঢাকা।
জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কলেজ অফ ফিজিওথেরাপি এণ্ড হেলথ সায়েন্স, ঢাকা।
অগ্রণী কলেজ অফ ফিজিওথেরাপি এণ্ড হেলথ সায়েন্স, ঢাকা।
গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক কলেজ অফ ফিজিওথেরাপি এণ্ড হেলথ সায়েন্স, নলাম, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।
প্রিন্স কলেজ অফ ফিজিওথেরাপি এণ্ড হেলথ সায়েন্স, সাভার, ঢাকা। 

আরও কিছু ইনস্টিটিউট রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে রাজশাহী বিভাগে এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে চট্টগ্রাম বিভাগে পরিচালিত হচ্ছে।

তার মধ্যে, আপনি ফিজিওথেরাপিতে ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জনের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের অধিনে পরিচালিত ঢাকার বাইরে অবস্থিত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এণ্ড হেলথ সায়েন্সেস (এমসিপিএইচএস)-কে রাখতে পারেন আপনার প্রথম পছন্দের তালিকায়। কারণ হিসেবে ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এণ্ড হেলথ সায়েন্সেস‘র ফিজিওথেরাপি বিভাগের কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

ময়মনসিংহ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এণ্ড হেলথ সায়েন্সেস (এমসিপিএইচএস)’র ফিজিওথেরাপি বিভাগটি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত, যার লক্ষ্য হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন ক্ষেত্রে দেশ ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য যোগ্য ও দক্ষ ফিজিওথেরাপি পেশাদার তৈরি করা। বর্তমানে, বিভাগটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মেডিসিন অনুষদের অধীনে ১ বছরের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সহ ৪ বছরের ফিজিওথেরাপিতে স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করছে।

এমসিপিএইচএস হল বেলা হেলথ এণ্ড এডুকেশন ফাউন্ডেশনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা ফিজিওথেরাপিতে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি অকুপেশনাল থেরাপিতে স্নাতক, এবং স্পিচ এণ্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিতেও স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করে। বিশ্বখ্যাত সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অফ দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি), ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ এণ্ড হাসপাতাল, এনাম মেডিকেল কলেজ এণ্ড হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর), জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য অনেক দেশের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে অত্র কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লিনিক্যাল প্লেসমেন্টের সুযোগ পেয়ে থাকে, যা তাদের ক্লিনিক্যাল সেক্টরে জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের মধ্যে একাডেমিক জ্ঞান বিনিময়ের জন্য এমসিপিএইচএস বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের (যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আসাম ডাউন টাউন বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত, ইত্যাদি) সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

আমাদের রয়েছে, নিজস্ব পুনর্বাসন হাসপাতাল, কমিউনিটি হাসপাতাল, আধুনিক ও উন্নতমানের ডায়াগনস্টিক ল্যাব, সিবিআর প্রোগ্রাম, সুবিশাল খেলার মাঠ, নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস, ঢাকায় পুনর্বাসন কেন্দ্র ও প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা ভিত্তিক স্কুল, যেখানে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ক্লিনিক্যাল প্র্যাক্টিসের অবারিত সুযোগ পায়। 

আমাদের আরো রয়েছে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারনেট এক্সেসযোগ্য নান্দনিক ক্লাসরুম, সুবিশাল ক্যাম্পাস, একঝাঁক অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী, নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট ফ্যাসিলিটি সহ কম্পিউটার ল্যাব, সুবিশাল ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, যেখানে ৫,০০০ টিরও বেশি বই, জার্নাল এবং অন্যান্য শিক্ষণ উপকরণ রয়েছে। এমসিপিএইচএসের শিক্ষার্থীরা নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধার মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত প্রকাশকদের জার্নাল অ্যাক্সেস করতে পারে।

বর্তমানে আমাদের ভর্তি কার্যক্রম চলমান আছে। আপনি যদি ভর্তির নিম্নোক্ত মানদণ্ডে উপযুক্ত হোন, তাহলে আর দেরি কেন, অতিসত্বর আমাদের কলেজে স্বশরীরে এসে অথবা দেয় লিঙ্কে ক্লিক করে এখনই ভর্তির ফরম ফিলাপ করুন: 
ভর্তির জন্য আবেদনের যোগ্যতা: জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নসহ মাধ্যমিক/সমমান ও উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৭.০০ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পৃথক পৃথক ভাবে জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে। আবেদনকারীকে ২০২২ অথবা ২০২৩ সালে মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায়, এবং ২০২৪ অথবা ২০২৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, এবং প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। 

বিস্তারিত তথ্য ও ভর্তির জন্য ভিজিট করুন- www.mcphs.edu.bd অথবা https://belaedubd.com/Online_Admission.html.

বগুড়ায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ছাত্রদলের পাঠশালা
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রোজা রেখে যে ২ সময় দোয়া করলে কবুল হয়
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুলনায় শপিং সেন্টারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬টি ইউনিট
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফিজিওথেরাপি শিক্ষা ও চিকিৎসা: স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যম…
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় আহত কাউন্সিলরের মৃত্যু
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জুলাইয়ের শক্তিগুলোকে সংগঠিত করে বিকল্প বলয় তৈরি করতে হবে: ন…
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬