হাম নিয়ে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সময়মতো সঠিক চিকিৎসা

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭ PM , আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ PM
ইনসেটে লেখক

ইনসেটে লেখক © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

হাম বা রুবিওলা একটি অত্যন্ত ছোয়াঁচে ও তীব্র ভাইরাসঘটিত রোগ। প্যারামক্সিভাইরাস গোত্রের মর্বিলিভাইরাস গণের অন্তর্গত একটি ভাইরাসের কারণে রোগটি ঘটে থাকে। ভাইরাসটি প্রথমে শ্বাসনালিতে সংক্রমিত হয়, এরপর রক্তের মাধ্যমে দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

কীভাবে শরীরে প্রবেশ করে?
শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশের পর হাম ভাইরাস প্রথমে ওপরের শ্বাসনালিতে বংশবিস্তার করে। এরপর এটি পার্শ্ববর্তী লসিকাগ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানকার কোষ ধ্বংস করে। এর ফলে রোগীর শরীরে তীব্র লিউকোপেনিয়া (শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া) দেখা দিতে পারে।

পরবর্তীতে ভাইরাস রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে প্রাথমিক ভাইরেমিয়া (primary viraemia) বলা হয়। এর মাধ্যমে ভাইরাস দেহের রেটিকুলোএন্ডোথেলিয়াল সিস্টেম (RES) এবং শ্বাসতন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রে ছড়িয়ে যায়।

এরপর ঘটে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভাইরেমিয়া (secondary viraemia)। এ পর্যায়ে ভাইরাস আরও ব্যাপকভাবে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ত্বক, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, কিডনি, মূত্রথলি ইত্যাদিকে আক্রান্ত করতে পারে।

হামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য কপলিকের দাগ (Koplik’s spots) এবং ত্বকের র‍্যাশ মূলত দেহের বিলম্বিত অতি-সংবেদনশীলতাজনিত প্রতিক্রিয়া (delayed hypersensitivity reaction)-এর ফল বলে মনে করা হয়।

সাধারণত হাম ভাইরাসের সংক্রমণ স্বতঃসীমাবদ্ধ (self-limiting)। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসে আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস ও অপসারণ করার মাধ্যমে ধীরে ধীরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনে। রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর সাধারণত আজীবন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (life-long immunity) গড়ে ওঠে।

হাম কি ছোঁয়াচে? পরিবারের একজনের হলে কি অন্যদেরও হতে পারে? 
হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। বাতাসের মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই জীবাণু অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই একই বাড়িতে থাকা অন্যদের মাঝে খুব সহজেই হামের জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে বাড়ির অন্য সদস্যরা হামে আক্রান্ত হবেন কি না, তা তাঁর রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর নির্ভর করে থাকে।

হামের লক্ষ্মণ
প্রড্রোমাল পর্যায় (৩–৪ দিন): এই পর্যায়ে সাধারণত নিম্নোক্ত উপসর্গ দেখা যায়—
জ্বর,কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া,নাক দিয়ে পানি পড়া, কপলিকের দাগ (Koplik’s spot) দেখা দেওয়া—উপরের মোলার দাঁতের বিপরীতে গালের ভেতরের মিউকোসায় ছোট ছোট সাদা দানার মতো দাগ দেখা যায়। এটি হাম রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

এক্সানথেমেটাস পর্যায় (৬–৭ দিন): এ পর্যায়ে ত্বকে হাম-এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ফুসকুড়ি বা ম্যাকুলোপ্যাপুলার র‍্যাশ দেখা দেয়। জ্বরের চতুর্থ দিনে, সাধারণত জ্বর যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, তখন নিয়মিত ধারায় র‍্যাশ দেখা দিতে শুরু করে। র‍্যাশ প্রথমে কানের পেছনে দেখা দেয় এবং পরবর্তী ৩–৪ দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য অংশ ও হাত-পায়ের প্রান্তীয় অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

আরোগ্য বা কনভালেসেন্স পর্যায়
এ পর্যায়ে রোগের উপসর্গগুলো ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। র‍্যাশ যে ক্রমে ছড়িয়ে পড়েছিল, সাধারণত একই ক্রমে তা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। র‍্যাশ সেরে যাওয়ার পর ত্বকে সূক্ষ্ম বাদামি বর্ণের খসখসে আবরণ বা চামড়া ওঠার (fine branny desquamation) প্রবণতা থাকতে পারে। কাশি প্রায় ২ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

হাম থেকে কী কী স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে? 
হামের কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। তখন বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে। অনেক শিশুর নিউমোনিয়া, এনকেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ), মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ), সেপটিসেমিয়া (রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া) মারাত্মক ডায়রিয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং কানের সংক্রমণ হতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জটিলতার ঝুঁকি বেশি। হাম-পরবর্তী জটিলতায় এ বছর বহু শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হামের চিকিৎসা
হাম নিরাময়ের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসক কিছু ওষুধ দেন, যাতে রোগীর কষ্ট উপশম হয়। তাই হামের লক্ষ্মণ প্রকাশ ফেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।

লেখক পরিচিতি
হাসান মাহমুদ শুভ 
মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ফিচার লেখক।

ট্যাগ: হাম
তাপদাহ নিয়ে রাবি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইউরিচের’ ব্যতিক্রমধর্…
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
নদীতে একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে চাচাতো-মামাতো-ফুফাতো ৫ বোনের ম…
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
হাম নিয়ে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সময়মতো সঠিক চিকিৎসা
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
কারিগরি শিক্ষকদের বদলি নিয়ে নতুন নির্দেশনা অধিদপ্তরের
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
মোমবাতি প্রজ্বলনে বন্যায় নিহতদের স্মরণ নেপালি শিক্ষার্থীদের
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
মৃত্যুর আগেই চল্লিশা, ৫ হাজার গ্রামবাসীকে খাওয়ালেন
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬