টয়লেটে বসে ফোনে স্ক্রল করছেন? জেনে নিন ক্ষতি

১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১২ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/এআই

টয়লেটে বসে ফোনে স্ক্রল করা এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। বসেই ফোন বের করা, তারপর ভিডিও বা খবর দেখতে দেখতে কখন যে ১০ মিনিট পার হয়ে যায়—অনেকেই টেরই পান না। বিষয়টি সাধারণ ও নিরীহ মনে হলেও চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস নিঃশব্দে শরীরের ক্ষতি করছে, বিশেষ করে শ্রোণীচক্রের স্বাস্থ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

টয়লেটের একটি নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে। সেখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় কাটানো শরীরের রক্তনালী ব্যবস্থার ওপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করে। সাধারণ চেয়ারের মতো টয়লেটে বসলে মলদ্বার যথাযথ সাপোর্ট পায় না। ফলে মাধ্যাকর্ষণের কারণে মলদ্বারের নিচের অংশ ও পায়ুপথে রক্ত জমা হয়। দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে এই চাপ আরও বাড়ে। ১০ মিনিটের বেশি সময় বসে থাকলে রক্তনালীগুলো এমন চাপের মুখে পড়ে, যা সহ্য করার জন্য সেগুলো তৈরি নয়। এর ফল হতে পারে হেমোরয়েডস বা পাইলস—মলদ্বারের ভেতরের শিরা ফুলে যাওয়া, ব্যথা ও রক্তপাতের মতো সমস্যায় রূপ নেয়।

শরীরে মলত্যাগের একটি স্বাভাবিক সংকেতব্যবস্থা রয়েছে, যা স্ক্রলিংয়ের কারণে ব্যাহত হয়। আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসে ফোন ব্যবহার করতে করতে অনেক সময় মানুষ সেই সংকেত উপেক্ষা করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস এবং অ্যানাল ফিশারের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ফোন দেখার জন্য সামনের দিকে ঝুঁকে বসলে দেহে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়, যা মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে আরও বাধাগ্রস্ত করে।

এছাড়া মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের সমন্বিত কার্যক্রম—পেরিস্টালসিস—স্ক্রলিংয়ের কারণে বিঘ্নিত হয়। কোনো ভিডিও বা কনটেন্টে মনোযোগী থাকলে শরীরের প্রাথমিক সংকেতগুলো উপেক্ষিত হয়। ফলে মল দীর্ঘসময় কোলনে থেকে শুকিয়ে যায় এবং তা বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেকটি বিষয় হলো ‘স্ট্রাইনিং প্যারাডক্স’। সরাসরি চাপ না দিলেও দীর্ঘসময় বসে থাকার কারণে পেলভিক ফ্লোরে একধরনের অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়। শরীর অবচেতনভাবে নিচের দিকে চাপ দিতে থাকে, যা মলদ্বারের নাজুক আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে অ্যানাল ফিশার বা ফাটল তৈরি হয়, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং সারতে সময় লাগে।

সমাধান হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যে মলত্যাগ সম্পন্ন না হলে উঠে দাঁড়ানো উচিত এবং পরে আবার চেষ্টা করা উচিত। বাথরুমকে কখনোই সময় কাটানোর জায়গা হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঁচ মিনিটই যথেষ্ট। এর মধ্যে না হলে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করে পরে আবার চেষ্টা করা ভালো। তবে এই নিয়ম কার্যকর করতে হলে ফোনকে বাথরুমের বাইরে রাখতেই হবে।

প্রকৃতির ডাকে দেরি না করে সাড়া দেওয়া জরুরি। মল চেপে রাখলে তা শক্ত হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ। এই মৌলিক অভ্যাসগুলোর সঙ্গে ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখা এবং পাঁচ মিনিটের নিয়ম মেনে চললে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব।

টয়লেটে বসে স্ক্রল করা তুচ্ছ অভ্যাস মনে হলেও শরীর প্রতিটি অতিরিক্ত মিনিটের হিসাব রাখে। অন্যমনস্ক স্ক্রলিং অন্ত্রের সংকেত বিলম্বিত করে এবং অজান্তেই শরীরে ক্ষতি ডেকে আনে। তাই এখনই সচেতন হন—ফোনটি দূরে রাখুন, সময় সীমিত করুন। ভবিষ্যতে সুস্থ থাকতে এই ছোট পরিবর্তনই বড় উপকারে আসবে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
  • ৩১ মে ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে ‘নূরজাহান বেগম’-এর স্…
  • ৩১ মে ২০২৬
লক্ষ জিয়ার দরকার নেই, একজন প্রকৃত জিয়াই যথেষ্ট: ডেপুটি স্পি…
  • ৩০ মে ২০২৬
চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পারেদেস
  • ৩০ মে ২০২৬
কানাডায় যাওয়ার প্রথম ৭ দিনে যা যা করবেন
  • ৩০ মে ২০২৬
‘প্রেসিডেন্ট জিয়া যদি নেতৃত্ব না দিতেন, তাহলে বাংলার দামাল …
  • ৩০ মে ২০২৬