প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
মধু শুধু প্রাকৃতিক মিষ্টি নয়—এটি হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালীর স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে মধু খেলে সিস্টোলিক (ওপরের) রক্তচাপ কিছুটা কমতে পারে। কারণ, মধুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান, যা রক্তনালীর কার্যকারিতা ও রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে।
মধু কীভাবে রক্তচাপে প্রভাব ফেলে?
‘সৌদি মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মধুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন উপকারী যৌগ রক্তনালীর স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু ছোট আকারের গবেষণায় দেখা গেছে, মধু সেবনের পর অংশগ্রহণকারীদের সিস্টোলিক রক্তচাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যদিও প্রভাব খুব বড় নয় এবং গবেষণার সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, মধু কোনোভাবেই চিকিৎসার বিকল্প নয়—এটি পরিমিতভাবে গ্রহণ করলেই কেবল উপকার পাওয়া সম্ভব।
মধুর খাওয়ার উপকারীতা
রক্তনালী শিথিলকরণ (ভ্যাসোডাইলেশন): মধু শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা ধমনীগুলোকে শিথিল করে রক্তচাপ হ্রাসে সহায়তা করে।
খনিজ উপাদানের ভূমিকা: মধুতে সামান্য পরিমাণ পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে, যা রক্তনালীর স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক প্রভাব: এ উপাদানগুলো রক্তনালীর দেয়ালকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
মেটাবলিক ও লিপিড নিয়ন্ত্রণ: মধু রক্তে চিনি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়।
কেন বেশি মধু খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ:
অতিরিক্ত মধু খেলে ক্যালরি ও চিনি শরীরে বেড়ে যায়, যা ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করা বৃদ্ধির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণাগুলোতেও দেখা গেছে—মধুর উপকারিতা সাধারণত ছোট পরিমাণ ও স্বল্প সময়ের ব্যবহারে পাওয়া যায়; বেশি পরিমাণে খেলে তা উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে।
যাদের মধু খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা উচিত:
ডায়াবেটিস রোগী: মধু রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।
রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণকারীরা: খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
যারা ওজন কমাতে চান: মধুর অতিরিক্ত ক্যালরি ওজন কমানোর পথে বাধা হতে পারে।
যাদের মৌমাছিজাত পণ্যে অ্যালার্জি আছে: তাদের জন্য মধু খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
হার্ট-স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে মধু ব্যবহার করার সঠিক উপায়:
প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শ নয়। খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ বা জীবনধারায় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। [সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া]