বঙ্গভ্যাক্স টিকার ট্রায়াল শুরু হচ্ছে ঢাকার হাসপাতালে

বঙ্গভ্যাক্স টিকার ট্রায়াল শুরু হচ্ছে ঢাকার হাসপাতালে
  © সংগৃহীত

দেশের কোম্পানি গ্লোব বায়োটেক তাদের উৎপাদিত করোনাভাইরাসের টিকা মানবদেহে পরীক্ষা চালানোর অনুমতির আবেদন করেছে। আজ রোববার বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের কাছে এই আবেদন করা হয়। বিবিসির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।

গ্লোব বায়োটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাকন নাগ বলেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর আবেদনটি তাদের পক্ষ থেকে করেছে ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদিত একটি প্রতিষ্ঠান।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সিআরও। যার স্পন্সর করছে গ্লোব বায়োটেক। পুরো ট্রায়ালটি পরিচালনা করবে একটি গবেষক দল।

কীভাবে করা হবে?

মানবদেহে গ্লোব বায়োটেকের টিকার ট্রায়ালটি কিভাবে করা হবে সেটি আবেদনপত্রে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি অনুমোদনের আগ পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না বলে জানান কাকন নাগ।
তিনি বলেন, ট্রায়ালটি কোথায় করা হবে সেটিও এথিক্যাল কমিটির অনুমোদনের পরই নির্ধারিত হবে। তবে আপাতত বলা যায় যে, এটি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে করা হবে।

এই ট্রায়ালে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেবেন বলেও জানানো হয়। বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের অনুমোদনের পর সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই টিকার ট্রায়াল শুরু হবে।

ট্রায়াল চলবে কতদিন?

কাকন নাগ বলেন, প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের জন্য ট্রায়ালের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। একটি শেষ হলে আরেকটি শুরু হবে। এই একটি ধাপ শেষ করতে হলে ৪০-৪৫ দিন লাগতে পারে। প্রথম ধাপটি শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপটি শুরু হবে। তবে এর মধ্যে তথ্য মূল্যায়নের বিষয়টিও রয়েছে।

টিকা আসতে কতদিন সময় লাগবে?

গত অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে কাকন নাগ বলেছিলেন, ছয় মাসের মধ্যে টিকা ব্যবহারের জন্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রায় তিন মাস পেরিয়ে চার মাস হতে চললো। তবে এখনো টিকা উৎপাদন নয় বরং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেরও তিন থেকে চারটি ধাপ রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র দুটি ধাপের অনুমোদনের জন্য রোববার আবেদন করা হয়েছে।

এই পর্যায়ে এসে টিকা বাজারে আসতে আর কতদিন লাগবে এমন প্রশ্নের উত্তরে কাকন নাগ বলেন, এখনো টিকা উৎপাদন বিষয়ক পাঁচ ছয় মাসের কাজই বাকি রয়েছে।

কিওরভ্যাক নামে জার্মানির একটি ভ্যাকসিনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই ভ্যাকসিনটি বঙ্গভ্যাক্সের দুই সপ্তাহ পরে আবিষ্কার হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সেদেশের সরকারের সহযোগিতায় ভ্যাকসিনটি এরই মধ্যে হিউম্যান ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে রয়েছে। কিন্তু বঙ্গভ্যাক্স এখনো হিউম্যান ট্রায়ালের মাত্র প্রথম ধাপ শুরু করার আবেদন করেছে। অনুমোদনের যে দীর্ঘসূত্রিতা, সেটাই জড়িত। ওখানে এটা প্রায়োরিটির ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে ওরা তৃতীয় ধাপে আছে এবং আগামী মাসে হয়তো বাজারে আনারও অনুমোদন পেয়ে যাবে। অনুমোদনের যে ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিটা এখানে আছে সেটার দীর্ঘসূত্রিতাই এটার জন্য দায়ী। এটা আর কতদিন দেরি হবে সেটাও আমি বলতে পারছি না।

বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, কোনো ধরণের দীর্ঘসূত্রিতা হয়নি এবং অনুমোদনের আবেদন পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষে তাদের কাছে টিকা উৎপাদনের আবেদন আসলে সেটিও দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুমোদন দেওয়া হবে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ