করোনার টিকাদানে ভারতে বিশাল কর্মযজ্ঞ, শুরুতেই পেলেন যারা

একজন স্বাস্থ্যকর্মী টিকা নিচ্ছেন
ভারতের নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজে একজন স্বাস্থ্যকর্মী টিকা নিচ্ছেন  © বিবিসি

ভারতে আজ থেকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হয়েছে। দেশটির তিন হাজার ছয়টি কেন্দ্রে িএ কর্মসূচীর সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশে প্রথম শুরু হলো টিকাদান কর্মসূচী। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০০ জন করে প্রায় তিন লাখ স্বাস্থ্য-কর্মীকে টিকা দেওয়া হবে।

টিকাদান কর্মসূচীর সূচনা করে ভিডিও কনফারেন্সে নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ‘ইতিহাসে এত বড় টিকাদান কর্মসূচি এই প্রথম। তবে টিকাদান শুরু হলেও, মাস্ক ব্যবহার এবং দূরত্ব বিধি বজায় রাখায় ঢিলেমি দিলে চলবে না।’

ভারতে প্রথম দফায় চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্স চালক, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাই-কর্মীরা টিকা পাবেন। এর পরে পুলিশ, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং অন্যান্য করোনা যোদ্ধাদের টিকা দেওয়া হবে। প্রথম দফায় টিকা পাবেন প্রায় তিন কোটি মানুষ। দ্বিতীয় ধাপে টিকা দেওয়া হবে ৫০ বছরের বেশি বয়স্কদের- বিশেষত যাদের আগে থেকেই কোনও না কোনও অসুস্থতা রয়েছে। তাদের সংখ্যাটা প্রায় ২৭ কোটি।

এ টিকা দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। দুই ৩৬০ জন মূল প্রশিক্ষক, ৬১ হাজার প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবং দু লাখ ভ্যাক্সিনেটার - অর্থাৎ যারা টিকা দেবেন - তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ২১২টি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে টিকা দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রথম দফায় রাজ্যের মোট ছয় লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে।

ভ্যাক্সিন নেওয়ার জন্য কো-উইন নামে একটি সরকারী অ্যাপে নাম রেজিস্টার করাতে হচ্ছে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে কবে কোন কেন্দ্রে কটার সময়ে গিয়ে টিকা নিতে হবে, সেটা এসএমএস করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। টিকা কেন্দ্রে যাওয়ার পর নথিপত্র পরীক্ষা করা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে একটি ঘরে অপেক্ষা করতে হবে। তারপরে টিকা দেওয়ার ঘরে পাঠানো হবে টিকা-গ্রহণকারীকে।

টিকা নেওয়ার পরে অন্তত আধা ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনও শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, টিকাদান কেন্দ্রেই তার চিকিৎসা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। একাধিকবার টিকাদান কর্মসূচীর ড্রাই রান করা হয়েছে। ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক করোনার দুটি ভ্যাক্সিনকে জরুরি ভিত্তিতে ছাড়পত্র দিয়েছে। এর মধ্যে একটি অক্সফোর্ড আবিষ্কৃত কোভিশিল্ড, যেটি ভারতে তৈরি করছে সিরাম ইন্সটিটিউট। অন্যটি ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণা কাউন্সিল বা আই সি এম আর ও ভারত বায়োটেক সংস্থার তৈরি কোভ্যাক্সিন। খবর: বিবিসি বাংলা।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ