করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নাজেহাল দেশ। তবে এ সময়ে আরেক দুশ্চিন্তার খবর দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।চলতি মাসে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস জানাচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মাসেই দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা হতে পারে।
এ ছাড়া, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এইদিকে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা আছে। দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে দুই থেকে তিন দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। বয়ে যেতে পারে মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ঝড়।
দেশের অন্য এলাকায় চার থেকে ছয় দিন বজ্রসহ শিলাবৃষ্টি ও মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে।
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সে সময় তাপমাত্রা বেড়ে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে চলে যাবে। দেশের অন্য অঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) কিংবা মাঝারি ধরনের (৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ হতে পারে।
বাংলাদেশ ও এর প্রতিবেশী এলাকায় তাপীয় লঘুচাপের উপস্থিতিতে ২৭ থেকে ৩১ মার্চ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। সে সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ২৭ মার্চ ফরিদপুরে ও ২৮ মার্চ চাঁদপুরে রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া ১৭ মার্চ টেকনাফে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক বায়ু প্রবাহের কারণে ৮ থেকে ১২ মার্চ ও ১৬ থেকে ১৯ মার্চ সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা কমে যায়। ১৭ মার্চ তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে শূন্য দশমিক এক ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল।