করোনাভাইরাস সংক্রমণ
© টিডিসি ফটো
চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে গেছে বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশ ও অঞ্চলে। চীনের পর সবচেয়ে বড় তাণ্ডব গেছে ইউরোপের দেশ ইতালিতে। এখন পর্যন্ত সেখানে করোনায় ৩১ হাজার ৫০৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৫০৩ জনের। ইতালিতে করোনা মহামারি রূপ ধারণ করার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে সেখানকার বয়স্কদের প্রতি ছোটদের ভালোবাসা ও যত্ন নেয়ার প্রাচীন রীতি।
ইউরোপের দেশ হলেও ইতালিতে কমবয়স্করা তাদের কর্মব্যাস্ত জীবনের মধ্য থেকে পরিবারের বয়স্কদের দেখাশোনার জন্য সময় বের করে নেয়। ইতালির নাগরিকদের চমৎকার বৈশিষ্টগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো এটি। কিন্তু এর কারণে করোনার সংক্রমণ আরো বিস্তৃতি লাভ করে থাকতে পারে বলে ‘ওপেন সায়েন্স ফ্রেমওয়ার্ক’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানিয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
গবেষণাটিতে বলা হয়, বিশ্বের মোট বয়স্ক জনসংখ্যার অনেক বড় একটি অংশ ২৩ দশমিক ৩ শতাংশের বাস ইতালিতে। এদের অধিকাংশেরই বয়স ৬৫ এর উপরে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনায় এই বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় খুব সহজেই আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
এদিকে ইতালিতে ঐতিহ্যগতভাবেই সন্তান, নাতী-নাতনী পরিবারের বয়স্কদের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করায় এই আশঙ্কা আরো বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষকরা জানান, এটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে মহামারিটির অগ্রগতি এবং প্রভাব জনসংখ্যার বয়সের কাঠামোর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সম্পর্কিত হতে পারে।
তরুণরা বিভিন্ন কাজে বাইরে যাওয়ায় এতে সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে তারা। পরবর্তীতে তাদের থেকে এটি বয়স্কদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে এটি রূপ নিচ্ছে মহামারিতে।
এছাড়া নিজ পরিবার ছাড়াও বিভিন্ন বৃদ্ধাশ্রম যেখানে বয়স্ক লোকজন বসবাস করেন এবং তাদের যত্ন নেয়া হয়, সেখানেও এটি ছড়িয়ে পড়ছে।
তাই করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা পালণের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট