ইউরোপে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: ডয়েচে ভেলে © সংগৃহীত
করোনাভাইরাসের আক্রান্ত রোগী ও মানুষের ভেতর আতঙ্ক দিন দিন বেড়েই চলছে। বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরাও এর ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য হয়ে উঠেছে। যেমন: ইসলাম ধর্মের অনেক অনুসারী ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেছেন। তারা হাদিসে বর্ণিত একটি অসুখের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, পৃথিবী শেষ হওয়ার আগে একটি রোগ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। আবার অনেকে বলছেন, কেয়ামতের আগে কাবায় ‘তাওয়াফ’ বন্ধ হবে। এই ঘটনার সঙ্গে চলমান করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাবায় ওমরাহ বন্ধের তুলনা করেছেন তারা। এছাড়াও অনেকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার আগে ওযু করার সঙ্গে মিলিয়েছেন।
অপরদিকে হিন্দু ধর্মের অনেক অনুসারীও করোনা নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভার সভাপতি স্বামী চক্রপাণি এই ভাইরাসকে একটি ‘রাগী দেবতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘করোনা এটা ভাইরাস নয়। এটা নিরীহ প্রাণীকে রক্ষার অবতার। যারা এদের ভক্ষণ করেন, তাদের মৃত্যু ও সাজার শাস্তি শোনাবার জন্য এরা এসেছে।’
আবার কেউ বাইবেলের উক্তি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এমন একটি সময় আসবে যখন একটি রোগে অনেক মানুষ মারা যাবে।’
মহামারি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে একেক ধর্মের অনুসারীরা নানাভাবে ব্যাখ্যা করছেন। তবে এ নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দিয়েছেন।
বাইবেলের উক্তিও তুলে ধরে অনেক খ্রিস্ট্রীয় অনুসারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, এমন একটি সময় আসবে ‘যখন একটি রোগে অনেক মানুষ মারা যাবেন।’
এদিকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে চার হাজার ৬০০ জন মারা গেছে। আর বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় সোয়া লাখে।
.jpg?1584072656411)
এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনা ভাইরাস প্রাণী ও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ছড়াতে পারে। এটি ভাইরাসের একটি বিশাল পরিবার যা সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্টজনিত জটিল রোগ মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (মার্স-কোভ) ও সিভিয়ার অ্যাক্যুট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (সার্স-কোভ)-এর কারণ হতে পারে।
এই পরিবারের নতুন সদস্য নতুন করোনা ভাইরাসটি, যা কোভিড-১৯ নামের নিউমোনিয়াসদৃশ রোগের কারণ হতে পারে। এই রোগ মানুষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
সার্স ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল সিভেট নামের একরকমের প্রাণী থেকে। মার্স ছড়িয়েছিল উট থেকে। তবে নতুন করোনা ভাইরাসটি কোথা থেকে ছড়িয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা।
এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন এবং এদের প্রায় চার হাজার ৩০০ মারা গেছেন। এদের বেশিরভাগই চীনের হুবেই প্রদেশের।
.jpg?1584072709001)
তবে পৃথিবীতে এর আগে রোগের এর চেয়েও ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। যেমন চতুর্দশ শতকে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটায় ইউরেশিয়া অঞ্চলের কমপক্ষে সাড়ে সাত কোটি থেকে ২০ কোটি মানুষ মারা গেছেন। এই প্লেগকে বলা হত ‘ব্ল্যাক ডেথ’। এটি ইঁদুর থেকে ছড়িয়েছিল ও এক রকমের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।
১৯১৮ সালে ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে পরিচিত ইনফ্লুয়েঞ্জা ৫০ কোটি মানুষকে আক্রমণ করে এবং ১.৭ কোটি থেকে ৫ কোটি মানুষ মারা যান। কেউ কেউ অবশ্য বলেন তখন ১০ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে।