পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ © টিডিসি ছবি
দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১৩টি করে মসজিদ নির্ধারণ করে সেসব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি। তিনি বলেছেন, এ উদ্যোগ চলতি মাসেই বাস্তবায়ন করা হবে।
রবিবার সকালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে ১৩টি করে মসজিদ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা ভাতা পাবেন।’
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আমরা অনেকে এখনো ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কথা বলি। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে টিটকারি-মশকরা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এ বছর ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড আমাদের মায়েদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া ৪৩ লাখ কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।’
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত দিনে যারা আমাদের জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন, যারা বিভ্রান্ত করে বলেছেন, তাদের প্রতি ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যায়—তারা আজ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।’
বর্তমান সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাস হলো। আপনারা দেখবেন, বিশেষ করে সরকার গঠনের ঠিক ১০ দিনের মাথায় ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধের কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। সে সময় প্রতিটি দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তেলের দাম বাড়াননি।’
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল আজ লংমার্চ করছে। আপনারা করতেই পারেন। কিন্তু এই লংমার্চ করতে গিয়ে হাজার হাজার লিটার তেল খরচ হয়, সেই তেল আপনারা কোথায় পান? কাজেই আজকের বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে।’
সারের সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি বিভিন্ন জায়গায় সারের তেলেসমাতি করা হচ্ছে এবং আমাদের সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার মধ্যে পঞ্চগড়ে কোনো সারের সংকট নেই। তবে বেশ কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় স্থানীয় জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় তা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বচ্ছতার সঙ্গে আরও ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে আমাদের কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার নিতে পারেন এবং হয়রানির শিকার না হন।’
সার নিয়ে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সার নিয়ে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এটি এই মাসেই বাস্তবায়িত হবে। তখন আর সার নিয়ে হয়রানি হতে হবে না, সংকটও সৃষ্টি হবে না।’