ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের কার্যালয় © সংগৃহীত
ময়মনসিংহ নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের পর একসঙ্গে ২৭ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের মধ্যে নগরীর ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ সেখানে কর্মরত সবাইকে জনস্বার্থে বিভিন্ন থানায় বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে পুলিশের মধ্যে বড় ধরনের রদবদল দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুব মিল্কী, চারজন উপপরিদর্শক (এসআই), পাঁচজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং ১৭ জন কনস্টেবলসহ মোট ২৭ জনকে পৃথক অফিস আদেশে জনস্বার্থে বদলি করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাঁড়িটিতে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পদায়ন করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট ময়মনসিংহ নগরীর ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের এই কর্মসূচির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফাঁড়ির ইনচার্জসহ সেখানে কর্মরত সব পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে, ২১ আগস্টের ওই বিক্ষোভ মিছিলের পর গত চার দিনে পুলিশের অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিমন শেখ, যুবলীগ নেতা হামিদুর রহমান আকাশ, মাসুদ, সাংস্কৃতিক জোটের নেতা ফরহাদ, যুবলীগ নেতা ওবায়দুল হক, তানভীর ওরফে লিমনসহ কয়েকজন রয়েছেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম জানান, ২১ আগস্ট নগরীতে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহার বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ওসি বলেন, ‘গত চার দিনে ওই মামলায় ২০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’