নির্বাচন কমিশন © সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে দেশের সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের চার ধাপের বিশেষ সময়সূচী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন শাখা-৩ থেকে জারিকৃত এক জরুরি অফিস আদেশে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে জানানো হয়, গত বছর ২৬ জুন গেজেটে প্রকাশিত 'স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫' এবং এর সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী, জেলা পরিষদ ব্যতীত বাকি সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই নির্দিষ্ট এলাকার ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্রের খসড়া প্রকাশ, তার ওপর দাবি বা আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তির সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন কমিশন।
অনুমোদিত নতুন সময়সূচী অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের প্রাথমিক খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই খসড়া তালিকার ওপর যেকোনো ধরণের দাবি কিংবা আপত্তি দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে প্রাপ্ত সব দাবি ও আপত্তি যাচাই-বাছাইপূর্বক নিষ্পত্তির শেষ তারিখ রাখা হয়েছে ২৩ আগস্ট। আর এই পুরো প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৭ আগস্ট সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের এই সময়সূচী কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, কোনো এলাকায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকার হার্ড কপি এবং সফট কপি বিশেষ বাহকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের মূল সচিবালয়ের নির্বাচন সহায়তা-৩ শাখায় সরাসরি প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ব্যয়নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। আদেশে বলা হয়, সম্ভাব্য সকল কেন্দ্রে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান স্থায়ী ভবনের অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভবনের অভ্যন্তরে স্থায়ী ভোটকক্ষ করা সম্ভব হলে, কাপড়ের বা বাঁশের তৈরি যেকোনো ধরণের অস্থায়ী ভোটকক্ষ বা বুথ স্থাপনের প্রস্তাব সম্পূর্ণ পরিহার করে তালিকা তৈরি করার জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।