প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘যারা হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই বিচার করা হবে। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে বিচারের নামে আমরা যেন কোনো অবিচার না করি। স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে বিচার ব্যবস্থা ব্যবহার করে মানুষের ওপর অবিচার করেছে, আমরা যেন সেই পথ অনুসরণ না করি।’
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ রাস্তায় নেমেছিল এ দেশের জন্য। ৫ আগস্টের অর্জন শুধু একটি দলের নয়, এটি পুরো জাতির অর্জন। রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে সবাই জুলাই আন্দোলনে দেশের অংশ নিয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, রাষ্ট্র তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে শহীদ ও আহতদের ওপর সংঘটিত অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইতে রাকিব সেখানে ছিল, আবিদ সেখানে ছিল, পাটোয়ারি সেখানে ছিল। জুলাইয়ের দিনগুলোতে শত বাঁধা-বিপত্তির মধ্যেও আমার নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আমি সবার খোঁজ নিচ্ছিলাম। অনেকেই শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন।
জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ভাই শহীদ হয়েছেন, তিনি দেশের জন্যই জীবন দিয়েছেন। এ রাষ্ট্র, এ দেশ আপনাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করবে। আপনাদের প্রতি যে অন্যায় ও অবিচার হয়েছে, তার বিচার হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, বিচার করতে গিয়ে যেন কারও প্রতি অবিচার না হয়। নিশ্চয়ই কারো প্রতি অবিচার হলে ওপরে থাকা আমাদের শহীদ ভাই শান্তি পাবেন না।
তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন, তারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। দেশ গড়ার সুযোগ এখন আমাদের সামনে এসেছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
‘৩৬ জুলাই’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ যৌথভাবে এই স্মরণসভার আয়োজন করে। জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। শুরুতে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।