প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সাথে সেই ভাইরাল শিক্ষিকার সাক্ষাৎ © সংগৃহীত
মাঠে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলায় অভিনব ও প্রাণবন্ত কায়দায় উৎসাহ জুগিয়েছিলেন ফেনীর প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার পলি। খেলা চলাকালীন সময়ের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান ওই শিক্ষিকা। মাঠের সেই অনন্য উৎসাহের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার দেশের নারী ক্রীড়াচর্চাকে এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যায়ে কাজ করবেন তিনি।
বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসলে তার নির্দেশক্রমে বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন ফেনী সদর উপজেলার গিল্লাবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই সহকারী শিক্ষিকা। এসময় তিনি দেশের নারী ক্রীড়াচর্চাকে আরও এগিয়ে নিতে সৈয়দা খালেদা আক্তার পলিকে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন।
বিশেষ ওই সাক্ষাৎকারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক শিক্ষিকা পলির পারিবারিক খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কোমলমতি শিশুদের খেলার প্রতি আগ্রহ গড়ে তোলার এই অনন্য উদ্যোগকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি দারুণ ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।মূলত মাঠ থেকে উঠে আসা এমন নিবেদিতপ্রাণ ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার মানুষদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ দেশের তৃণমূল ক্রীড়াকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে।
দীর্ঘ আলাপচারিতায় শিক্ষিকা পলির মুখে তাদের পারিবারিক ক্রীড়া ঐতিহ্যের বিবরণ এবং খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় প্রতিমন্ত্রী মুগ্ধ হন; যেখানে জানা যায় যে তার বাবা সৈয়দ মমিনুল ইসলাম একসময় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন, ভাই সৈয়দ মামুনুল হাসান ছিলেন ফেনীর নামী ফুটবলার, প্রয়াত স্বামী গোলাম রব্বানী ছিলেন সকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং পলি নিজে ও তার বোনও একসময় ফেনী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলেছেন।
আরও পড়ুন : সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন সময় খুদে ফুটবলারদের বৃষ্টিতে ভিজে মাঠের লাইনে দাঁড়িয়ে ওই শিক্ষিকার প্রাণবন্ত উৎসাহ দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
নিছক এক শিক্ষিকার শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা আর খেলার প্রতি নিখাঁদ আবেগের এই দৃশ্যটি দেশজুড়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া জাগায় এবং পরবর্তীতে ভিডিওটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে এলে তারই নির্দেশনায় গত ২৬ মে রাতে ফেনী জেলা প্রশাসন ওই শিক্ষিকার বাসায় বিশেষ শুভেচ্ছা ও উপহার পৌঁছে দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর সেই বিশেষ শুভেচ্ছার পর গত ২৮ মে প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি ফোনালাপ এবং বুধবার সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের মাধ্যমে এই গুণী শিক্ষিকাকে দেওয়া এই সম্মাননা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকদের সহশিক্ষা ও ক্রীড়া কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে অনন্য এক ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।