সিলেটে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন
সিলেটে ‘নতুন কুড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমনা © সংগৃহীত
খুদে শিক্ষার্থীদের ‘আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের পড়াশুনা ও খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে উঠার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছ, প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বেসেডর হবে, তোমাদেরকেই বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ ইউ আর দি ফিউচার, তোমরাই ভবিষ্যৎ। এখন পড়তে হবে, নিজেকে রেডি করতে হবে, আর খেলতে হবে। একই সঙ্গে যে গান শিখতে চায় সে গান শিখবে, সেই ব্যবস্থা আমরা করব। যে মিউজিশিয়ান হতে চায় সে মিউজিশিয়ান হবে সেই ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করব। যে খেলতে চায় সে খেলায়াড় হবে সেই ব্যবস্থা আমরা ইনশাল্লাহ করব।’
শনিবার (২ মে) বিকালে সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের প্রতি এসব কথা বলেন। সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ অনুষ্ঠানে উপস্থিত খুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই খুদে শিক্ষার্থীরা তোমরাই প্রধান অতিথি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তোমরাই (খুদে শিক্ষার্থীরা) হচ্ছ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্যে থেকে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে। দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমাদের মধ্য থেকে এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হবে ইনশাল্লাহ।’
তারেক রহমান বলেন, ‘ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। তোমাদের দিকে এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। বাংলাদেশকে তোমাদেরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ তিনি শিশুদের জিজ্ঞাসা করেন, ‘পারবে?’ এই সময় পুরো গ্যালারিতে থাকা শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলে, ‘হ্যাঁ।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইয়েস, সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।’
সিলেট স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এরপর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়। পরে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাডি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।
পরে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন। এরপরে স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে ৮টি ক্রীড়া ইভেন্টের প্রতিযোগী শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদপ্তর। আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভার অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে আসলো, সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে আসলো সেই গল্পটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর হবে। আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে। আমি লন্ডনে থাকতাম আমিনুল গিয়ে আমার সাথে কথা বলছে। ওকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়েছি। আমার সাথে তোমাদের আন্টি (জুবাইদা রহমান) গিয়েছেন, এখানে কয়সর বসে আছে সেও ছিল।
তিনি বলেন, এখন আমরা গল্প করছি, কথা বলছি বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তারপরে আমরা কথা শুরু করলাম যেহেতু আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ। আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম যে, স্পোর্টস নিয়ে আমরা কি কি করব? বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করলাম। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা নতুন কুড়ি স্পোর্টস চালু করব বাংলাদেশে।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এমএ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি উধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।