প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ

যারা চায় না বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে

০১ মে ২০২৬, ০৮:০৮ PM
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান  তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান  তারেক রহমান © সংগৃহীত

স্বৈরাচার বিদায় নিলেও এখনো ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান  তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। স্বৈরাচার বিদায় নিলেও ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। যারা চায় না বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, তারা নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

শুক্রবার (১ মে) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সতর্ক থাকতে জনগণের প্রতি এই আহ্বান জানান। 

শ্রমিক সমাবেশে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের মতো ষড়যন্ত্র চলছে। ১২ তারিখ যখন তারা সফল হয়নি, তখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। তারা চেষ্টা করছে বাংলাদেশকে বন্ধুহীন করতে। কিন্তু বিশ্ব দরবার দেখছে, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত। তারা গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কথা বলছে, বিনিয়োগ করতে চায়। আমাদের বিশ্ব দরবারের সুযোগ গ্রহণ করতে হবে।’

সবাইকে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার এবং শক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্ব দরবারে ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। তারপরও চোখ-কান খোলা রাখতে হবে, স্বৈরাচারকে যেভাবে জবাব দেওয়া হয়েছে, একইভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।’

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র কয়েক বছর আগেও এই রাজপথে বা দালানের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে গেলে স্বৈরাচারের বাহিনী হামলা চালাত। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ থেকে স্বৈরাচারকে চিরতরে বিদায় করা হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিগত এক যুগের বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারী সরকার দেশের অর্থনীতিকে লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে। শিল্প কলকারখানা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক ও নারীসহ দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষকে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।’

দেশ গড়তে নিজেকে এবং নিজের মন্ত্রিসভাকে শ্রমিক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজ কথা একটাই, কাজ একটাই, সেটি হচ্ছে দেশ গড়া। সেজন্যই শ্রমিকরা কেউ কারখানায় কাজ করেন, কেউ ইমারত নির্মাণ করেন, কেউ জুটমিলে কাজ করেন, কেউ পোশাক শিল্পে কাজ করেন, কেউ হয়ত রেস্টুরেন্টে কাজ করেন, কেউ হয়ত পরিবহনে পরিবহনে কাজ করেন, বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণীতে শ্রমিক ভাইরা আছেন। আজ সেই সকল শ্রমিক ভাইদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, আপনারা যেমন বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেন। আপনাদের খাতায় আমি আমার নামটি লেখাতে চাই একজন শ্রমিক হিসাবে।’

কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যেরকম ইমারত শ্রমিক হিসেবে এই ইমারতটি গড়ে তুলছেন এই দালানটি গড়ে তুলছেন, আপনি একজন পাট শ্রমিক হিসেবে পাঠকলের উৎপাদন বৃদ্ধি করছেন, আপনি একজন পোশাক শিল্প শ্রমিক হিসেবে পোশাক শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি করছেন। ঠিক একইভাবে আপনার খাতায় নাম লিখিয়ে আমিও দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত করতে চাই নিজেকে। একই সাথে আমি মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্যের নাম শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। কারণ আপনারা যেমন একেকটি জিনিস গড়ে তুলছেন আমরা আপনাদের পাশে থেকে দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে চাই, দেশকে গড়তে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিশ্রম করে যেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের সাথে থেকে তাদের পাশে থেকে আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চায়। এজন্যই  আমাদের নির্বাচনের সময় স্লোগান ছিল ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এটি হচ্ছে আমাদের শ্লোগান, এটি হচ্ছে আমাদের বর্তমান স্লোগান, এইটি হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ স্লোগান। যেই স্লোগানের বলে বলিয়ান হয় ইনশাআল্লাহ আমরা এই প্রিয় মাতৃভূমিকে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আজকের এই মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে আসুন, আমরা আজকে প্রত্যেকে এখানে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি, প্রত্যেকে শপথ গ্রহণ করি যেই বাংলাদেশের প্রত্যাশা প্রত্যেকটি নারী পুরুষ, প্রত্যেকটি মানুষের মনে রয়েছে সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আসুন আমরা প্রত্যেকে একেক জন দেশ গড়ার হিসেবে নিজেদেরকে প্রস্তুত করব। আমরা প্রত্যেকে একেকজন দেশগড়া শ্রমিক হিসেবে আমাদের জীবনের বাকি দিনগুলোকে আমরা অতিবাহিত করব।’

স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল বলে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের স্ত্রীরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। কৃষকদের আমরা ১০ হাজার ঋণ মওকুফ করেছি। কৃষকদের কার্ডের বিষয়েও কাজ চলছে। অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। তারা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে পানি পায় না। সেজন্য আমরা খাল খনন শুরু করেছি। কৃষক, শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারলে বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যাবে।’

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ শ্রমিক ভাইদের পাশাপাশি নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শ্রমিক দলের যে ৭২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, আজ এই দিনে আমি সেই সব বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধারসঙ্গে স্মরণ করছি।’

বিগত সরকারের দমন-পীড়নের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছি। কিন্তু মাত্র কয়েক বছর আগেও এই রাজপথ ও আশেপাশের পরিবেশ ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। বিএনপি বা এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো যখনই কোনো কর্মসূচির আয়োজন করত, তখনই স্বৈরাচারের বাহিনীর হামলার আশঙ্কায় আমাদের তটস্থ থাকতে হতো। সেই ভীতিকর পরিস্থিতি নিশ্চয়ই আপনারা ভুলে যাননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আমরা দেখেছি, শুধু শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক বা নারীরাই নন বরং এ দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার। আর লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল দেশের অর্থনীতিকে। সেই বঞ্চনা আর শোষণের হাত থেকে মুক্তি পেতেই ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে এই স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ‘স্বৈরাচারের সময় স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাত ধ্বংস করার মাধ্যমে শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। ২০২৪ সালে মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে। এখন দেশ গড়ার পালা।’

বিএনপি জনগণের সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক মাস আগে নির্দেশনা দিয়েছি-কত দ্রুত আমরা কলকারখানা চালু করতে পারবো। এই সপ্তাহে আবার মিটিং করবো। বাংলাদেশের যেসব কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, পর্যায়ক্রমে চালু করবো। এর বাইরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদেশেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।’

শ্রমিক ও কৃষকদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিক-কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।’

হকারদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যানজট ও দুর্ভোগের কারণে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করতে পারেন, আমরা সেই উদ্যোগ নিয়েছি এরই মধ্যে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আড়াই বছর আগে ৩১ দফা দিয়েছিলাম, কীভাবে আমরা দেশ মেরামত করতে চাই। এখানে প্রত্যেক মানুষের কথা আছে। এই সরকার কী করতে চায়, তার বিবরণ ৩১ দফায় আছে। সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করছি। কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি, কৃষক কার্ড দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যেমন নতুন কোনো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিভাবানদের তুলে আনতেন, আমরাও সে কাজ শুরু করছি।
খাল খনন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, খাল খনন শুরু করেছি। এটি কৃষক ভাইদের সেচ, মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করবে। সময় এসেছে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারলে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’

তারেক রহমান জানান, ‘যখনই বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পক্ষে যাত্রা শুরু করেছিল, ধীরে ধীরে দেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’ খ্যাতি পেয়েছিল।
বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, নয়াপল্টন কেন্দ্রিক যেসব কর্মসূচি হয়েছে, সেসব কর্মসূচিতে বিগত স্বৈরাচার সরকারের হামলা হয়েছে। এসময় নয়াপল্টনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।’

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

এআই দিয়ে এডিট করে এসএসসির আইসিটি প্রশ্নফাঁসের ভুয়া দাবি
  • ০১ মে ২০২৬
গ্যাস ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়েছে ভারত 
  • ০১ মে ২০২৬
‘দেশের মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতিতে একটি অপশক্তি তৎপর’
  • ০১ মে ২০২৬
দেশ-বিদেশে কর্মরত শ্রমজীবীদের কৃতজ্ঞতা জানালেন নাহিদ
  • ০১ মে ২০২৬
খেলায় কর্তৃপক্ষের পক্ষপাত, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিচার চাইল শ…
  • ০১ মে ২০২৬
হামের টিকা নিয়ে মুখ খুললেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন…
  • ০১ মে ২০২৬