পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৩ জেলার ১১টি উপজেলার মোট ২২ হাজার ৬৮ জন কৃষককে প্রাথমিকভাবে এই কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।

০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৯ PM
টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী © টিডিসি

বাংলা নতুন বছরের প্রথমদিন পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ (আগামী ১৪ এপ্রিল) পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজেই এ কথা জানান। ক্রীড়া কার্ড কার্যক্রমের ওই অনুষ্ঠানের  তারেক রহমান বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি। এভাবেই দেশ ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’। 

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৩ জেলার ১১টি উপজেলার মোট ২২ হাজার ৬৮ জন কৃষককে প্রাথমিকভাবে এই কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।

সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির এই কর্মসূচি শুরু হবে।

টুকু বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় দেশের জনগণের কাছে আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কয়েকটি নির্দিষ্ট অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যেই সরকারের মাত্র দেড়মাস বয়সে ওনার দেয়া বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতির (ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, খতীব-ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পুরহিতদের সন্মানীভাতা প্রদান) বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। 

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। সেই কৃষকদের কল্যাণে সরকারের গৃহিত এই কর্মসূচি আমার নিজের জেলা থেকে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন, এটা টাঙ্গাইলবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের। পুরো টাঙ্গাইল জেলার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আগমনের প্রতীক্ষায় আছে।

এর আগে, গেল ৪ মার্চ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওইদিন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, কর্মসূচি তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস সচিব বলেন, কৃষক কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি দেশের প্রতিটি কৃষকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়া হবে। 

তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমার সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্য এবং ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে পরামর্শ পাবেন।

সালেহ শিবলী বলেন, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর দেশের ৮ বিভাগের ৯টি উপজেলার ৯টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। 

এ সুবিধা শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মৎস্য চাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধ খামারিরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন বলে জানান প্রেস সচিব।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইল সদরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রি-পাইলটিং প্রজেক্টের উদ্বোধন করবেন। সারা দেশে ১১টি উপজেলায় একযোগে এই কার্ড কৃষকদের সহায়তার জন্য তাদের হাতে তুলে দেবেন।

তিনি জানান,  কার্যক্রম শুরু হওয়া ১১টি উপজেলা হচ্ছে- টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লা আর্দশ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।

জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা গড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। কার্ডধারী কৃষকরা রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। 

এছাড়া খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় শেষ করে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথমদিন আমাদের টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে জনগণের কাছে দেয়া বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

প্রশ্নের জবাবে শাহিন বলেন, অনুষ্ঠানটি সরকারী। নিরাপত্তা, মঞ্চসজ্জা, শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড জেলা প্রশাসন দেখভাল করছে। আমরা বিএনপির নেতাকর্মী ও কৃষকরা অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় আছি।

শাহিন জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণের মধ্যদিয়ে দেশবাসী এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।

কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ফেনী, উদ্বৃত্ত যাবে জেলার বাইরে
  • ১৯ মে ২০২৬
সরকারি পেনশনভোগীদের সুবিধাও বাড়ছে
  • ১৯ মে ২০২৬
শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, আবেদন ২…
  • ১৯ মে ২০২৬
জাবিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, ২১ হলে লাগানো হবে দুই হ…
  • ১৯ মে ২০২৬
১ জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী
  • ১৯ মে ২০২৬
এমসি কলেজের নতুন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদ
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081