বাংলাদেশ বিমান © সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে ঢাকা–করাচি সরাসরি বিমান চলাচল। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যাতায়াত ব্যবস্থা সচল করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এই নন-স্টপ ফ্লাইট পরিচালনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ঢাকা থেকে করাচি রুটের এই পুনরুত্থান যাত্রী মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যার প্রতিফলন দেখা গেছে উদ্বোধনী ফ্লাইটের টিকিট বিক্রিতে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম যাত্রার জন্য নির্ধারিত ১৬২টি আসনের সবকটি টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, ‘প্রথম ফ্লাইটে কোনো আসন ফাঁকা নেই। দ্বিতীয় ফ্লাইটেরও ৮০ শতাংশের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।’
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ফ্লাইটটি রাত ৮টায় উড্ডয়ন করবে এবং করাচি পৌঁছাবে স্থানীয় সময় রাত ১১টায়। ফিরতি পথে করাচি থেকে রাত ১২টায় ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে পরদিন ভোর ৪টা ২০ মিনিটে। ১ হাজার ৪৭১ মাইলের এই আকাশপথ পাড়ি দিতে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হবে, যাতে যাত্রীদের সময় লাগবে প্রায় তিন ঘণ্টা। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় এখন আর কোনো তৃতীয় দেশে ট্রানজিট নিতে হবে না, ফলে যাত্রীদের শুধু সময় বাঁচবে না বরং রাউন্ড ট্রিপে খরচ কমবে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বর্তমানে একটি পর্যবেক্ষণমূলক পর্যায়ে রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই রুটে ফ্লাইট চালানো হবে এবং এই সময়ের পারফরম্যান্স ও যাত্রী চাহিদার মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী সপ্তাহে দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও শনিবার ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এর আগে পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ঢাকা–করাচি রুটে ফ্লাইট পরিচালনার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় এবং নির্ধারিত করিডর ব্যবহার করে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের বিশেষ ছাড়পত্র প্রদান করে। উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন জটিলতার কারণে ২০১২ সালে ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।