কোনো প্রার্থী পুলিশের ন্যূনতম ফেভার পাবে না, বক্তব্য দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পুলিশের সেই এডিসি জুয়েল

২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪ AM
এডিসি মো. জুয়েল রানা

এডিসি মো. জুয়েল রানা © সংগৃহীত

ঢাকা-১৩ আসনে কোনো প্রার্থী পুলিশের পক্ষ থেকে ন্যূনতম কোনো ফেভার পাবে না এমন বক্তব্য দিয়ে আবারও প্রশংসায় ভাসছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের সাথে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল মূলত ভোটের অধিকার না থাকার কারণে। একইভাবে ২০২৪ সালের যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, সেটিও হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার দাবিতে। এই জায়গায় আমরা, অর্থাৎ আমাদের এই পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছিলাম। আমরা মনে করি, জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আপনারা যারা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে চেনেন, তারা জানেন যে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি ন্যূনতম কোনো পক্ষপাত বা ছাড় দিই না। ইনশাআল্লাহ, আজ এখানে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নামে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলতে পারি, ঢাকা-১৩ আসনে কোনো প্রার্থী পুলিশের পক্ষ থেকে ন্যূনতম কোনো ফেভার পাবে না। আপনারা এটি লিখে রাখতে পারেন।

এডিসি জুয়েল বলেন, এখনো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়নি। এর মধ্যেই কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে, যেগুলো আমি আবেদন হিসেবে বিবেচনা করছি। এর মধ্যে একটি হলো প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপনারা ইতোমধ্যে জানেন, যেহেতু আমি এই সংসদীয় আসনের পুলিশের মূল দায়িত্বে থাকব, তাই সকল প্রার্থীকে নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করেছি। সেখানে সব প্রার্থীকে যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল পুলিশ কর্মকর্তা, আমাদের সহায়ক বাহিনীর কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরও সেখানে যুক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই অনলাইন ভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে আপনাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকবে। পাশাপাশি প্রত্যেক প্রার্থীর প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে—দিন-রাত যেকোনো সময়, ২৪ ঘণ্টা, আপনার প্রয়োজন হোক বা না হোক, যেকোনো কারণেই হোক, আপনারা আমাদের ফোন করবেন। আমাদের ফোন খোলা থাকবে। আপনারা যখন যেখানে নিরাপত্তার প্রয়োজনে ডাকবেন, আমরা সেখানে উপস্থিত হব, ইনশাআল্লাহ। এটি আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি একটি স্পষ্ট নিশ্চয়তা।

প্রার্থীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দেখছি, নির্বাচনী আচরণবিধি এতটাই কঠোরভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে যে অনেক সময় মনে হয় হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলে দিয়ে সাতরাতে বলা হচ্ছে। যেহেতু এটি রাষ্ট্রীয় আইন, এটি আমরা কেউই পরিবর্তন করতে পারব না। তবে এর মধ্যেই আমরা আশা করব, আপনারা সর্বোচ্চ প্রচারণা চালাবেন।’

আরও পড়ুন: নতুন পে স্কেলে ভাতা বৃদ্ধির যত সুপারিশ

তিনি বলেন, আমাদের এখানে দুটি দায়িত্ব রয়েছে। একটি হলো জনগণের হাতে ভোটের অধিকার পৌঁছে দেওয়া। অর্থাৎ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করানোর মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটদের নয়; এই দায়িত্ব সকল প্রার্থীর। একই সঙ্গে এখানে উপস্থিত সাংবাদিক ভাইদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি এবং একে অপরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি না করি, তাহলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

জুয়েল রানা বলেন, আপনারা একটি বিষয় খেয়াল করবেন—এই যে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, এতে আপনারা যারা এখানে অংশ নিচ্ছেন, সবাই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন। সুতরাং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ছিল আপনাদের মূল ম্যান্ডেট। এই ম্যান্ডেট আপনাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। এই কাজে পাশে থেকে আমরা সহযোগিতা করব।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে কেউ আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করেন বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহলে ঢাকা-১৩ আসনে ইনশাআল্লাহ আমরা কোনো ধরনের ছাড় দেব না। অতীতে আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনো ছাড় দিইনি। আমার অধীনস্থ সকল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে আমরা বারবার মিটিং করেছি। আপনারা দেখবেন, আপনাদের কারো প্রতি কেউ কোনো ধরনের আলাদা সুবিধা বা পক্ষপাত দেখাবে না। এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।

‘এখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনারা জানেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক ঢাকা-১৩ আসনে বসবাস করেন। সুতরাং আমাদের যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়, সাংবাদিকরাও আমাদের কোনো ছাড় দেবেন না। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।’

‘আপনাদের প্রতিও আমাদের অনুরোধ থাকবে। আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটি ইনসিডেন্ট সম্পর্কে অবগত হয়েছি, যেগুলো নিয়ে আপনাদের সামনে আবারও আলোচনা করা হবে। যেমন, আমরা দেখেছি কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইতোমধ্যে বের হওয়ার চেষ্টা করেছে। প্রার্থীদের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ থাকবে—যদি আপনাদের সামনে থেকে এ ধরনের সন্ত্রাসী বা কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ে আসা হয়, তাহলে আপনাদের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হবে। একইভাবে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এমন কোনো ঘটনা যদি আপনাদের প্রচারণায় ঘটে এবং আমরা যদি সেখানে বাধা দিই বা ব্যবস্থা গ্রহণ করি, তাহলে সেটিও আপনাদের জন্য বিব্রতকর হবে এবং ভোটের ওপর প্রভাব ফেলবে। আমরা চাই না কোনো প্রার্থী বিব্রত হোক।’

জুয়েল রানা আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো, সকল প্রার্থীকে সমান সম্মান দিয়ে সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া। পরিশেষে আমি একটি কথাই বলতে চাই—আজ হয়তো আমরা সবাই এখানে চেয়ারে বসে আছি এবং মনে হচ্ছে আমরা সম্মানের জায়গায় আছি। কিন্তু এক মাস পর, আপনারা যখন জনগণের বৈধ, স্বতঃস্ফূর্ত ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভোটে মাননীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন, তখন আমরা আপনাদের সালাম ও স্যালুট জানাব।

সেই স্যালুট যেন আমাদের মন থেকে আসে। যেন এমন না হয় যে বাধ্য হয়ে আপনাকে স্যালুট দিতে হচ্ছে। আমি চাই, যখন আপনাকে স্যালুট দেব, তখন আমার মনে এই বিশ্বাস থাকে যে আপনি চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে, সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন, এবং সেই প্রতিনিধি হিসেবেই আমি আপনাকে মন থেকে স্যালুট জানাচ্ছি।

এই অনুরোধটুকু আপনাদের প্রতি থাকবে। ইনশাআল্লাহ আগামী ২২ থেকে ২৫ দিন আপনাদের সঙ্গে বারবার কথা হবে, দেখা হবে, যাতে কোনোভাবেই আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা খারাপ সম্পর্ক তৈরি না হয়। সবাই ভালো থাকবেন।

আরও পড়ুন: এক সপ্তাহের মধ্যে সব নির্বাচন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ

ইনশাআল্লাহ, আমরা ঢাকা-১৩ আসনের সকল মানুষের জন্য একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরাপদ এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এ কাজে আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

এদিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে প্রশংসা করতে দেখা গেছে নেটিজেনদের। রেদওয়ান নামের একজন ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, ‘আরে বাপের ব্যাটা, তোমার মত পুলিশ প্রতি থানায় একজন থাকলেই কেন্দ্র দখল বন্ধ। মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি জুয়েল রানা’র এ বক্তব্যই হোক সকল পুলিশ-সেনা-র‍্যাব-বিজিবি সদস্য, ইউএনও, ডিসি, সচিব, পোলিং অফিসার সহ সকল দায়িত্বরতপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভাষা।’

তিনি বলেন, ‘জুয়েল রানার কথাগুলো যদি সবাই ধারণ করতে পারে, তবে আশা করা যায়- জুলাই তার লক্ষ্যে উপনীত হবে, জনগণের ক্ষমতা, জনগণের হাতেই ন্যস্ত হবে। এবং গত ১৬ বছরে ভোটাধিকার বঞ্চিত ছাত্র-জনতা তার বহুল প্রত্যাশিত ভোটাধিকার ফিরে পাবে।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের কুমিল্লার এক ইউপি নির্বাচনে জুয়েল রানা ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান ভোটকেন্দ্রে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কারণে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘নৌকার প্রার্থী হয়েছেন বলে চেয়ারম্যান হবেন, এটা ভুলে যান। কেউ ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে ডাইরেক্ট গুলি চলবে।’

তার এই বক্তব্য ভাইরাল হলে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। প্রথমে তাকে ক্লোজ করে চট্টগ্রাম রেঞ্জে, পরে সিলেট এপিবিএন এবং পরে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়।

তবে তিনি জানান, সেই নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দলের বহু প্রার্থী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলেও কেউ অভিযোগ তোলেনি। বরং প্রার্থীরা ভোটের পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে পুলিশের সঙ্গে কোলাকুলি করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রত্যাহার করা হয়। জুয়েল রানা বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করি এবং তিনি সচিবের দেওয়া শাস্তি বাতিল করে দেন।’

কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন করা হবে: তারেক রহমান
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ক্যাশলেস সিস্টেমে প্রবেশ করতে যাচ্ছে যবিপ্রবি
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
আবারও ঢাকা কলেজে ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীর সংঘর্ষ
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
উইলিয়ামসনের পেশাদারিত্বে মুগ্ধ রাজশাহীর কোচ হান্নান
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইনালে ওঠার পর সুখবর পেলেন শান্ত-মুশফিকরা
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ক্যাম্পাসে সাউন্ড বক্স-মাইক বাজতে নিষেধাজ্ঞা জবি প্রশাসনের
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬