প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের আমদানি বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩২ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আকুর কাছে ১৫৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে। এর ফলে দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে দেশের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারি দিন শেষে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। তবে আকুর বিল পরিশোধের কারণে তা কমে আসে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা প্রকৃত ব্যয়যোগ্য রিজার্ভের একটি হিসাব রয়েছে, যা নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে নিট রিজার্ভ প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৮ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল রিজার্ভ। পরবর্তীতে অর্থ পাচার ও ডলার বিক্রির কারণে রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। ২০২৪ সালের জুলাই শেষে, সরকার পতনের আগে, রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার বিক্রি সীমিত করে এবং অর্থ পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেয়। একই সঙ্গে হুন্ডি কমে যাওয়ায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে, যা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়া পরিশোধের পরও বর্তমানে রিজার্ভ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যমান রিজার্ভ দিয়ে মাসে গড়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরলে সাড়ে ৪ মাসের বেশি আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিকভাবে একটি দেশের জন্য ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন।
আকু কী
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) একটি আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ভুটান, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তানের আমদানি-রপ্তানি লেনদেনের অর্থ পরিশোধ করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরানে এর সদর দপ্তর অবস্থিত। সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি দুই মাস অন্তর আমদানি বিল পরিশোধ করে থাকে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার আকু সদস্যপদ বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।