১৩ নং ইসলামিয়া ইউনিয়ন © সংগৃহীত
তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের সেবা নিশ্চিত করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখে স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব হলো স্থানীয় সেবা প্রদান যেমন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরণ। এ ছাড়া, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এর বিরুদ্ধে ভিজিএফ এর চাল বিতরণের অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রমগুলো স্থবির হয়ে পড়ে।
ফলে তৃণমূলের জনগণ বিভিন্ন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন মুকুল ও প্যানেল চেয়ারম্যান -১ খলিল মিয়াজীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে এবং ভাতা বিতরণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে। যারা ওয়ারিশ সনদ, চারিত্রিক সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সেবাপ্রার্থীদের জটলা দেখা যায়। জন্মসনদ, ওয়ারিশান সনদ, পরিচয়পত্র, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে পরিষদে আসেন তারা। কিন্তু চেয়ারম্যান না থাকায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে এসব সেবা গ্রহিতাদের।
উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের মো. হালিম সরকার রিঙ্কু বলেন, আমার জমি নামজারি ও জমা ভাগ (খারিজ) করার জন্য দ্বৈত প্রত্যয়ন পত্রের প্রয়োজন। দ্বৈত প্রত্যয়ন পত্রের জন্য দিনের পর দিন ঘুরছি। চেয়ারম্যান না থাকায় আমরা ইউনিয়নবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি।
উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের মধ্য ইসলামাবাদ গ্রামের মো. আজিজ জানান, আমার মেয়ে তাসলিমা আক্তারের জন্ম নিবন্ধনের ভুল সংশোধন করার জন্য গত এক মাস ধরে চেয়ারম্যান না থাকায় হয়রানির শিকার হচ্ছি।
হতাশ হয়ে লামছরি গ্রামের গ্রামের মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আমার মায়ের মৃত্যু সনদের জন্য গত এক মাস ঘুরছি কিন্তু চেয়ারম্যান না থাকায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু সনদ পাইনি।
ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজীব চন্দ্র ভক্ত বলেন, স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ (ইউনিয়ন পরিষদ) এর অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান-২ কে দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও অন্যান্য সদস্যদের আপত্তি থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে কয়েক দফা সভা হলেও এখনো কোন সুরাহা হয়নি। আশা করছি খুব দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, আমি প্যানেল চেয়ারম্যান-২ এবং অন্যান্য সদস্যদের বলেছি ওনাদের মধ্য থেকে সকলের সম্মতিতে যেকোনো একজনকে প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব দেওয়ার জন্য যদি তারা সকলে একমত হতে না পারে তাহলে আমি জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে একজন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে দিব।