পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন

শত শত পদ খালি, অপেক্ষমাণ তালিকা নিয়ে গড়িমসি

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ PM , আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১ PM
স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও পিডিবিএফ’র লোগো

স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ও পিডিবিএফ’র লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)সরকারের একটি সংস্থা যা দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের দারিদ্র্য হ্রাস ও সঞ্চয় বৃদ্ধি দ্বারা পল্লী এলাকার জীবনমান উন্নয়নের জন্য দায়বদ্ধ। সকল জেলা ও উপজেলায় এটির শাখা রয়েছে। স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সংস্থাটিতে বর্তমানে ৯ম থেকে ১২তম তিনটি গ্রেডের বিপরীতে খালি রয়েছে ৪ শতাধিকের মতো পদ, যা সবগুলো স্থায়ী চাকরি। ২০২৫ সালের শেষের দিকে এসে সংস্থাটির নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার পর প্রথম ও দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করলেও তৃতীয় তালিকা প্রকাশ না করেই নতুন করে শূন্যপদে নিয়োগ দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। 

নিয়ম অনুযায়ী, অপেক্ষমাণ তালিকা সংরক্ষণের মেয়াদ হবে বিবেচ্য বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রথম নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের তারিখ হতে এক বছর বা শূন্য পদ পূরণের জন্য পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ যেটি আগে ঘটে। কিন্তু পিডিবিএফের তিনটি পদের প্রথম ফলাফল ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট প্রকাশ হয়। আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্যানেল (অপেক্ষমাণ তালিকা) প্রকাশ করা হয় যথাক্রমে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর আর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি।

কিন্তু চলতি মাসের ১১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীন দপ্তর/সংস্থাসমূহের প্রধান এবং প্রকল্প পরিচালকগণের সাথে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪.২-এ বলা হয়েছে দপ্তর/সংস্থাসমূহে বিদ্যমান শূন্যপদসমূহ পূরণের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ ও সম্পন্ন করতে হবে।

পরিপত্রের তথ্য বলছে, অপেক্ষমাণ তালিকা সংরক্ষণের মেয়াদ হবে বিবেচ্য বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রথম নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের তারিখ হতে এক বছর বা শূন্য পদ পূরণের জন্য পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ যেটি আগে ঘটে।

ফলাফল প্রকাশের সাড়ে ৮ মাস না যেতেই নিয়ম ভঙ্গ করে নতুন করে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সংস্থাটি, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রণালয়ে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তারা বিস্তারিত বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর পিডিবিএফের উপপরিচালক (প্রশাসন বিভাগ) মো. মামুনুর রশিদ) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিডিবিএফ-এর শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে ৯ম, ১১তম ও ১২তম গ্রেডে মোট ১ হাজার ৬৬৫টি পদে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মেধাক্রমানুযায়ী মোট ১ হাজার ৬৬৫টি পদের একটি অপেক্ষমাণ প্যানেল প্রস্তুত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুপারিশকৃত প্রার্থীদের মধ্যে বর্ণিত পদসমূহে যোগদান না করা ও ইস্তফা প্রদানের কারণে সৃষ্ট শূন্যপদে নিয়োগের জন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আলোকে যথাশীর্ঘ অপেক্ষমাণ প্যানেল থেকে আবশ্যিকভাবে মেধাক্রম অনুযায়ী শূন্যপদে নিয়োগ প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রেও পূর্বের ন্যায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ন রাখার ক্ষেত্রে পিডিবিএফ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় (২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জারিকৃত একটি পরিপত্রে বলা হয়, সরকার, মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীন সরকারি দপ্তর/পরিদপ্তর/অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের চাকরিতে যেহেতু কোটাপদ্ধতি পরিবর্তন করেছে, সেহেতু অপেক্ষমাণ তালিকা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনপূর্বক সকল গ্রেডের পদে সরাসরি জনবল নিয়োগে অপেক্ষমাণ তালিকা সংরক্ষণে কয়েকটি পদ্ধতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

‘‘এরমধ্যে নিয়োগ কমিটি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মেধা তালিকা এবং বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি অনুসরণ করে শূন্য পদে প্রার্থী সুপারিশের পাশাপাশি সুপারিশকৃত প্রতিটি পদের বিপরীতে ১:২ অনুপাতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য হতে অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরিপূর্বক কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষরে সিলগালাকৃত খামে গোপনীয়তার সাথে সংরক্ষণ করবে। অপেক্ষমাণ তালিকা প্রণয়নের সময় ডিপিসি শূন্য পদে নিয়োগে যে ধরনের কোটায় সুপারিশ করবে, সেই কোটার যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য হতে প্রতিটি সুপারিশকৃত প্রার্থীর বিপরীতে ১:২ অনুপাতে অপেক্ষমাণ তালিকা প্রণয়ন করবে। তবে অপেক্ষমাণ তালিকা প্রণয়ন করার সময়ে কোনো কোটার অধীন সংশ্লিষ্ট কোটার যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা কোটা হতে মেধাক্রমের ভিত্তিতে অপেক্ষমাণ তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।’’

পরিপত্রের তথ্য বলছে, অপেক্ষমাণ তালিকা সংরক্ষণের মেয়াদ হবে বিবেচ্য বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রথম নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের তারিখ হতে এক বছর বা শূন্য পদ পূরণের জন্য পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ যেটি আগে ঘটে।

‘‘নিয়োগের জন্য সুপারিশকৃত প্রার্থীদের মধ্যে কেউ চাকরিতে যোগদান না করলে বা চাকরিতে যোগদানের পর চাকরি হতে ইস্তফা প্রদান করলে শূন্য পদ পূরণের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ডিপিসির সভায় অপেক্ষমাণ তালিকা এবং উত্তীর্ণ প্রার্থীদের রেজাল্ট শিট উপস্থাপনপূর্বক শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী সুপারিশ করতে হবে। পাশাপাশি কমিটির সদস্যগণের উপস্থিতিতে অপেক্ষমাণ তালিকা হতে সুপারিশকৃত প্রার্থীকে তার নিয়োগের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে।’’

পরিপত্রের তথ্য আরও বলছে, ডিপিসি কর্তৃক অপেক্ষমাণ তালিকা হতে সুপারিশকৃত প্রার্থীদের রোল নম্বরের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং ডিপিসির সদস্য-সচিব কর্তৃক প্রার্থীকে তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোন কল, এসএমএস, ই-মেইল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)-এর মাধ্যমে অবহিত করতে হবে।

সরকারের ডাক অধিদপ্তরে ৬ বার প্যানেল দিলেও নতুন সরকার আসার পর পিডিবিএফ কোনো নতুন করে কোনো প্যানেল দেয়নি। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিজিএফআইয়ের এসআই পদেও নতুন সরকার এসে প্যানেল দিয়ে চাকরিবান্ধব নীতি নিয়েছে অথচ পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে অযৌক্তিক কারণে প্যানেল বন্ধ করে নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষোভ চাকরিপ্রত্যাশীদের।

‘‘সুপারিশকৃত প্রার্থীকে মোবাইল ফোন কল, এসএমএস, ই-মেইল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অবহিত করার পাশাপাশি তার স্থায়ী ঠিকানায় রেজিস্ট্রি পত্রযোগে কমপক্ষে ১০ কার্যদিবস সময় দিয়ে নিয়োগপত্র দিতে হবে।’’

‘‘অপেক্ষমাণ তালিকা হতে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের জ্যেষ্ঠতা প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পরে নির্ধারিত হবে। ডিপিসি অপেক্ষমাণ তালিকার কোনো প্রার্থীকে চাকরিতে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করলে তার জ্যেষ্ঠতা তার ওই পদে যোগদানের তারিখ হতে নির্ধারিত হবে। অপেক্ষমাণ তালিকা হতে দুই বা ততোধিক প্রার্থী যদি একই দিনে একই পদে যোগদান করেন সেক্ষেত্রে তাদের পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা পূর্বে প্রস্তুতকৃত রেজাল্টের মেধাক্রম অনুসারে নির্ধারিত হবে। তবে একই নম্বর প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বয়সের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে এবং বয়স একই হলে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের শিক্ষাবর্ষের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।’’

অথচ চলতি মাসের ১৬ এপ্রিল পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পিডিবিএফ-এ শূন্য পদে জনবল নিয়োগপূর্বক পরবর্তীতে পদ শূণ্য হলে অপেক্ষমাণ তালিকা (Waiting List) হতে শূন্য পদগুলো পূরণ করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু অপেক্ষমাণ তালিকার তথ্য ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়ে গেছে মর্মে অভিযোগ সৃষ্টি হওয়ায় স্বচ্ছতার জন্য অপেক্ষমাণ তালিকা বাতিল করে নতুন করে দ্রুত নিয়োগ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

জানা গেছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ এবং ফলাফল প্রকাশ করে ১৪ আগস্ট। ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা অনুযায়ী ৯ম, ১১ ও ১২ গ্রেডে যথাক্রমে ৫৬, ১২৪ ও ৫৪ জন প্রার্থীর রোল নম্বর প্রকাশ করা হয়। আর চলতি ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা অনুযায়ী ৯ম, ১১ ও ১২ গ্রেডে যথাক্রমে ৪৩, ৮৪ ও ২৮৮ জনের প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ অপেক্ষমান তালিকা অনুযায়ী এখনো ৪১৫টি শূন্য পদ পিডিবিএফে ফাঁকা রয়েছে। তৃতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। 

পিডিবিএফের উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা-১৫৫ (৯ম গ্রেড); মাঠ কর্মকর্তা-১১৭৫ (১২ গ্রেড); সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা-৩৩৫ পদের (গ্রেড ১১) জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেয় পিডিবিএফ। তিনটি স্থায়ী পদে এখনো কাগজে কলমে ৪১৫টি পদ খালি রয়েছে।

অথচ সরকারের ডাক অধিদপ্তরে ৬ বার প্যানেল দিলেও নতুন সরকার আসার পর পিডিবিএফ কোনো নতুন করে কোনো প্যানেল দেয়নি। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিজিএফআইয়ের এসআই পদেও নতুন সরকার এসে প্যানেল দিয়ে চাকরিবান্ধব নীতি নিয়েছে অথচ পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে অযৌক্তিক কারণে প্যানেল বন্ধ করে নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষোভ চাকরিপ্রত্যাশীদের।

এদিকে প্যানেল হতে নিয়োগ দিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি আবেদনও দেয় ৯ম, ১১ ও ১২তম গ্রেডের প্যানেলপ্রত্যাশীরা। আবেদনে তারা বলেন, গত বছরে অনুষ্ঠিত পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের নিয়োগ কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে প্রণীত প্যানেল তালিকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১:২ অনুপাতে ১ (এক) বছরের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। উক্ত প্রজ্ঞাপন অনুসারে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শূন্যপদ বিদ্যমান থাকলে প্যানেল হতে নিয়োগ প্রদান করার সুযোগ বিদ্যমান। কিন্তু দুঃখের বিষয়, প্যানেলের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনকে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যদিও বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শূন্যপদ বিদ্যমান রয়েছে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বলা হয়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পিডিবিএফ-এ শূন্য পদে জনবল নিয়োগপূর্বক পরবর্তীতে পদ শূণ্য হলে অপেক্ষমাণ তালিকা (Waiting List) হতে শূন্য পদগুলো পূরণ করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু অপেক্ষমাণ তালিকার তথ্য ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়ে গেছে মর্মে অভিযোগ সৃষ্টি হওয়ায় স্বচ্ছতার জন্য অপেক্ষমাণ তালিকা বাতিল করে নতুন করে দ্রুত নিয়োগ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

‘‘এমতাবস্থায়, প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে প্রস্তুতকৃত প্যানেল হতে অন্তত আরও একটি প্যানেল প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি প্রদান করা হোক। এতে একদিকে যেমন সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’’

চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, বয়স শেষ হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় প্যানেলের জন্য অপেক্ষা করছেন অনেকে। পিডিবিএফ-এ অনেক কর্মচারী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে যার চাকরি করছেন তাদের সুযোগ দিতেই নতুন করে তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না। এখনো প্রায় ৬০০ পদ খালি রয়েছে বলে দাবি তাদের।

৯ম গ্রেডে উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা পদপ্রত্যাশী শফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি ৯ম গ্রেডের উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা পদের ৩য় প্যানেলের রেজাল্টের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু পিডিবিএফ-এর কিছু অসাধু চক্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে বিভ্রান্তিকর ও হাস্যকর যুক্তি উপস্থাপন করে শেষ মুহূর্তে প্যানেল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় খুবই হতাশ হয়ে পড়েছি। আমি আশাবাদী ছিলাম ইনশাআল্লাহ ভালো পরীক্ষা দেওয়ায় এইবার আমার চাকরি হয়ে যাবে কিন্তু কর্তৃপক্ষ অহেতুক কারণে নতুব বিজ্ঞাপন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমি আবেদন করতে পারব না। কারণ আমার চাকরির বয়স শেষ হয়ে গিয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে তীব্র জনবল সংকট থাকায় দ্রুত জনসেবা দেওয়ায় বাধা সৃষ্টি হবে প্যানেল না দিলে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি যাতে আমাদের প্যানেল থেকে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হয়।’

পিডিবিএফের অতিরিক্ত পরিচালক (মাঠ পরিচালন বিভাগ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ) মো. শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নতুন করে কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। তবে মন্ত্রণালয়ে একটি আলোচনা হয়েছে শুনেছি। তবে বিস্তারিত আমি বলতে পারব না। বিষয়টি ভালো বলতে পারবে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। 

পরে এ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক ফকির জিল্লুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘১৫ দিন হয়েছে আমি এখানে এসেছি। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে হবে।’

তবে পিডিবিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) সুব্রত কুমার সিকদারের (যুগ্ম সচিব) মুঠোফোনে একাধিক কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে কল দিলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।

মদ খেয়ে ৫ বন্ধু মিলে বান্ধবীকে ধর্ষণ
  • ১৯ মে ২০২৬
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আপাতত তিন প্রত্যাশা ফাহামের
  • ১৯ মে ২০২৬
এমসি কলেজের নতুন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদ
  • ১৯ মে ২০২৬
বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় শক্তিশালী শান্তিরক্ষা ব্যবস্থার…
  • ১৯ মে ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ বিষয়ে রচিত হবে নতুন পাঠ্যপুস্তক…
  • ১৯ মে ২০২৬
অটোরিকশার ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081