উপকূলের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে মনিরার একক উদ্যোগ

উপকূলের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে মনিরার একক উদ্যোগ
  © টিডিসি ফটো

মহামারী করোনার কারণে গেল ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে সুপার সাইক্লোন আম্পানের আঘাতে গত ২০ মে ভেঙেছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। তবুও ভেঙে যায়নি খুলনার উপকূলীয় উপজেলা সুন্দরবন ঘেঁষা কয়রার কাটমারচর গ্রামের মনিরা খাতুন।

গেল চার মাস এলাকার অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন স্কুলগামী শিশুকে রাস্তার উপরে পাঠদান করছে দশম শ্রেণির এই উদ্দামী ছাত্রী। যাতে তার এলাকার শিশুগুলো শিক্ষাবিমুখ না হয়ে যায়, ঝরে না পড়ে সে জন্যই তার এ অনাবদ্য প্রয়াস। পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে হাত খরচের অর্থে তার শিক্ষার্থীদের জল খাবারেরও ব্যবস্থা করে মনিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে ঘটে যাওয়া সুপার সাইক্লোন আম্পানে বসত-ভিটা হারিয়েছে মনিরার পরিবারও। খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার কাটমারচর গ্রামের অন্য আর দশজনের মত মনিরাদের তাই ঠাঁই হয়েছে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের ওপর। এখানে মাচা করে শতাধিক পরিবার বসবাস। করোনা ও আম্পানে এসব পরিবারের শিশু ও স্কুলগামী শিশুরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। উত্তর বেদকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণি মনিরা খাতুন এসব পরিবারে শিশুদের নিয়ে তাই চিন্তা করলেন কি করা যায়।

শিশুদের পরিবারকে বুঝিয়ে সকাল-সন্ধ্যায় তাদেরকে পড়ানোর ব্যবস্থা করলেন খোলা আকাশের নিচে রাস্তার ওপর। বেড়িবাঁধের ওপর একটি তেরপুল পেতে কখনো টোঙ ঘরে ২৫ থেকে ৩০ জন শিশুকে একটানা চার মাস পাঠদান করছে মনিরা। কোনো ধরনের বিনিময় ছাড়াই।

উপকূলে মানবিক কাজ করতে গিয়ে মনিরার প্রশংসনীয় উদ্যোগের সাথে পরিচয় হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হিউম্যানিটি ফার্স্ট’ এর। মনিরাকে তারা সহায়তার প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হয়ে যান। মনিরার এই উদ্যোগে যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ও খাবারের পাশাপাশি মনিরাকে প্রতিমাসে সম্মানী দিচ্ছে সংগঠনটি।

এ ব্যাপারে মনিরা বলেন, কোন প্রতিদান চাই না আমি। নিজের থেকে এটা করতেছি। আমার ভালো লাগে। করোনা ও আম্পানের কারণে স্কুল বন্ধ। শিশুরা নিয়মিত না পড়লে সব ভুলে যাবে। আর কয়রার বেড়িবাঁধের যে অবস্থা তাতেও আমরা বাঁচবো কি না, সেটাই অনিশ্চিত।


মন্তব্য