চাকরি সরকারি হতে দেরি হওয়ায় কলেজ শিক্ষকদের হতাশা

চাকরি সরকারি হতে দেরি হওয়ায় কলেজ শিক্ষকদের হতাশা
  © ফাইল ফটো

কলেজ সরকারি হয়েছে, কিন্তু শিক্ষকরা সরকারি হতে পারেনি। দেশের ৩০৩টি সরকারি কলেজের অবস্থা একই রকম। কলেজগুলো সরকারি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি সরকারি হয়নি।

এর ফলে ওই সব কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। নতুন করে আন্দোলনে যাওয়ারও কথা জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে সরকারি হওয়া কলেজগুলোর শিক্ষকদের সংগঠন সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির কাছ থেকে জানা গেছে, ‍কলেজগুলো সরকারি হওয়ার পর গত দুই বছরে ১ হাজার ২৬৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে গেছেন। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও ৬৭ জন শিক্ষক ও ৩৮ জন কর্মচারী অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারীকরণ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি ও অবহেলার কারণেই সরকারি হতে দেরি হচ্ছে। প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দীর্ঘ সময় নিয়ে যাচাই-যাচাই করে। পরে এখন আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাচাই-যাচাইয়ের কাজে সময় ক্ষেপণ করছে।

তারা জানান, আগের মতোই টিউশন ফি দিতে হচ্ছে। উপরন্তু অনেক শিক্ষককে অবসরে যেতে হচ্ছে সরকারি সুবিধা ছাড়াই। কারণ, নিয়ম করা হয়েছে, শিক্ষকেরা যখন সরকারি হবেন, তখন থেকে সরকারি সুবিধা কার্যকর হবে। যদিও শিক্ষকদের দাবি, যখন কলেজ সরকারি হয়েছিল তখন থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদেরও সরকারি সুবিধা দেওয়া হোক।

ভূক্তভোগী নেত্রকোনার কেন্দুয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাবেয়া আক্তার জানান, আমি অবসরে গেছি গত বছরের অক্টোবরে। অবসরে যাওয়ার এক বছর আগে তাদের কলেজটি সরকারি হয়।

এর ফলে তাঁকে বেসরকারি শিক্ষক হিসেবেই অবসরে যেতে হয়েছে। কারণ, কলেজ সরকারি হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি তখনো সরকারি হয়নি। তারপর আরও এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কলেজটির কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি সরকারি হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, একসঙ্গে এতগুলো কলেজ সরকারি হওয়ায় কাজের চাপ বেড়েছে। ফলে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঁচটি দল গঠন করা হয়েছে। করোনোর কারণে প্রথমে এই দলগুলো কাজ করতে পারেনি। কারণ, কলেজ থেকেও অধ্যক্ষসহ কয়েকজনকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে হয়। পরিবহন চালুর পর আবার যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দেশের যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ ছিল না, সেগুলোতে একটি করে বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণ বা সরকারি করা হয়েছে। ২০১৬ সালে কলেজগুলো সরকারীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে ওই বছরের ৩০ জুন কলেজগুলোতে নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এদিকে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট দেশের ২৭১টি বেসরকারি কলেজকে সরকারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়াও এই প্রজ্ঞাপনের আগে ও পরে আরও ৩২টি কলেজকে জাতীয় করণ করা হয়।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ