অতিরিক্ত সময়ে গড়াল আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল © সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়েও কোনো দল গোলের দেখা পেল না। ফলে স্পেন ও আর্জেন্টিনার শিরোপার লড়াই গড়াল অতিরিক্ত সময়ে।
দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা থাকলেও গোলমুখ খুলতে পারেনি কেউই। শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দল হয়ে পড়া আর্জেন্টিনা রক্ষণ সামলে ম্যাচ ধরে রাখে।
নিয়ম অনুযায়ী এখন আরও ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময় খেলবে দুই দল। সেখানেও যদি ম্যাচের ফল নির্ধারণ না হয়, তাহলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে টাইব্রেকারে।
বিরতির পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্পেন। একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে রাখলেও গোলের দেখা পায়নি তারা। অন্যদিকে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অসাধারণ গোলকিপিং আর শেষ দিকে এনসো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনাকে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।
৪৬তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ভুল পাস থেকে দারুণ সুযোগ পান আলেক্স বায়েনা। তবে তার শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ।
৫২তম মিনিটে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বদলি হিসেবে নামা পারেদেস পিছন থেকে রদ্রিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুক্ষণ উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এরপর স্পেনের চাপ আরও বাড়তে থাকে। ৫৫তম মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দির সময়োপযোগী ট্যাকল নিশ্চিত গোল বাঁচায়। এক মিনিট পর গঞ্জালো মন্টিয়েল গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন। ৬৪তম মিনিটে দানি ওলমোর শট মার্টিনেজের হাত ফসকে গেলেও শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়ায়নি।
ম্যাচে নতুন গতি আনতে ৬২তম মিনিটে একসঙ্গে দুই পরিবর্তন করেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মিকেল ওইয়ারসাবালের বদলে ফেরান তোরেস এবং ফাবিয়ান রুইজের জায়গায় পেদ্রিকে নামানো হয়। ৭৫তম মিনিটে আলেক্স বায়েনার পরিবর্তে নিকো উইলিয়ামস ও দানি ওলমোর জায়গায় মিকেল মেরিনোকে নামিয়ে আক্রমণ আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন তিনি।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিকে একের পর এক পরিবর্তন করতে হয়। পারেদেসকে মাঠে নামানোর পর চোটের কারণে গঞ্জালো মন্টিয়েল ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো মাঠ ছাড়েন। এ ছাড়া রদ্রিগো ডি পলের পরিবর্তে জুলিয়ানো সিমেওনেকেও নামানো হয়।
ম্যাচের ৬৫ মিনিটের পর স্পেনের আক্রমণের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। লামিনে ইয়ামালের ড্রিবলিং, পেদ্রি, ফেরান তোরেস, আয়মেরিক লাপোর্তে ও পাও কুবার্সির একের পর এক প্রচেষ্টা দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। বিশেষ করে ৬৭তম মিনিটে ইয়ামালের নিখুঁত ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের হেড এবং ৮০তম মিনিটে লাপোর্তের শক্তিশালী হেড ঠেকিয়ে ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে টিকিয়ে রাখেন তিনি।
শেষ ১০ মিনিটে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ৮২তম মিনিটে প্রতিবাদ জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন এনসো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে মাঝমাঠে পাও কুবার্সির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্ত চার মিনিট যোগ হলেও গোলের দেখা মেলেনি। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।