মায়ামিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল © টিডিসি ফটো
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের লড়াই সামনে রেখে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে না দেখে ম্যাচের দুই দিন আগেই পরিকল্পনা বদলে মায়ামিতে পৌঁছে গেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে প্রতিপক্ষকে নিয়ে সতর্ক থাকলেও এখনো শুরুর একাদশ চূড়ান্ত করতে পারেননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পজিশন নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভাবতে হচ্ছে তাকে।
মূল সূচি অনুযায়ী আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগের দিন মায়ামিতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা বদলে বুধবার কানসাসে শেষ অনুশীলন শেষে দলটি ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা দেয়। শুক্রবার হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচ খেলবে আলবিসেলেস্তেরা।
বুধবার আর্জেন্টিনা সময় দুপুর ১টায় কানসাসে দলের শেষ অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়। পুরো অনুশীলন সেশনটি সংবাদমাধ্যমের জন্য বন্ধ রাখা হয়। মায়ামিতে যাওয়ার আগে এটিই ছিল দলের শেষ অনুশীলন এবং সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে কাজ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টায় কানসাস থেকে মায়ামির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা থাকলেও ফ্লাইটে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টারও বেশি পরে যাত্রা শুরু করে দলটি।
আগের সূচিতে পরিবর্তন এনে স্কালোনি ও তার কোচিং স্টাফ সিদ্ধান্ত নেন, কানসাসেই শেষ অনুশীলন শেষ করে এরপর ভেন্যু পরিবর্তন করা হবে। বিশ্বকাপজুড়ে যে প্রস্তুতি পদ্ধতি অনুসরণ করেছে আর্জেন্টিনা, সেই ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে চেয়েছে দলটি। অর্থাৎ ফুটবল-সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি শেষ করেই তারা মায়ামিতে গেছে।
বৃহস্পতিবার মায়ামিতে পৌঁছে স্কালোনির অধীনে শেষবারের মতো অনুশীলন করবে আর্জেন্টিনা। এরপর শুক্রবার হার্ড রক স্টেডিয়ামে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সুখস্মৃতিও জড়িয়ে আছে। ২০২৪ সালে এই হার্ড রক স্টেডিয়ামেই কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। তাই ভেন্যুটি দলটির কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তবে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে শুরুর একাদশ নিয়ে। বুধবারের অনুশীলনে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার কথা থাকলেও আগের দিনের মতো এবারও কোনো ইঙ্গিত দেননি স্কালোনি।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত সময়টুকুতে তিনি নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে জায়গার লড়াইয়ে থাকা ফুটবলারদের মিলিয়ে মোট ১৩টি প্রশিক্ষণ জার্সি বিতরণ করেন। ফলে সম্ভাব্য একাদশ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
প্রথম অনিশ্চয়তা বাম প্রান্তের রক্ষণে। নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও ফাকুন্দো মেদিনা জায়গার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দ্বিতীয় সংশয় সেন্টার-ব্যাক পজিশনে। চোট কাটিয়ে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ফিরতে পারবেন কি না, নাকি নিকোলাস ওতামেন্দিই একাদশে থাকবেন—সেটি এখনো নিশ্চিত হয়নি।
তৃতীয় অনিশ্চয়তা আক্রমণভাগে। লিওনেল মেসির সঙ্গী হিসেবে খেলবেন লাউতারো মার্তিনেজ, নাকি হুলিয়ান আলভারেস—সেই সিদ্ধান্তও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কোচিং স্টাফ যদি মনে করে রোমেরো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাহলে টটেনহ্যামের এই ডিফেন্ডার আবারও শুরুর একাদশে ফিরবেন।
অন্যদিকে চোট থেকে সেরে ওঠায় তাগলিয়াফিকোরও একাদশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। আর মেসির সঙ্গী নির্বাচনের লড়াইয়ে লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও আপাতত কিছুটা এগিয়ে আছেন লাউতারো।