স্পেন দল © টিডিসি ফটো
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের লড়াইয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে একাদশে চমকের আভাস দিলেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মূল দলে বড় পরিবর্তন না আনলেও দুটি পজিশনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা রেখে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে জানিয়েছেন, সময় যত যাচ্ছে, স্পেন ততই ভয়ংকর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাত ১টায় মুখোমুখি হবে স্পেন ও অস্ট্রিয়া।
শেষ কয়েকটি ম্যাচে ভালো করা দলটিকেই ধরে রাখতে চান দে লা ফুয়েন্তে। তবে ডান প্রান্তের ডিফেন্স এবং আক্রমণভাগের পেছনের মিডফিল্ডে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।
ডান প্রান্তের রক্ষণে উরুগুয়ের বিপক্ষে চোটের কারণে না খেলা পেদ্রো পোরো আবারও মূল একাদশে ফিরতে পারেন। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ এবং শুরু থেকেই মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে দানি ওলমো এগিয়ে থাকলেও এই জায়গায় চমক দেখাতে পারেন দে লা ফুয়েন্তে। উরুগুয়ের বিপক্ষে তিনি মিকেল মেরিনোকে স্ট্রাইকারের ঠিক পেছনে খেলিয়ে সবাইকে অবাক করেছিলেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও সেই বিকল্প খোলা রেখেছেন স্পেন কোচ।
স্পেনের জন্য সুখবরও আছে। ইয়েরেমি পিনো ও ভিক্টর মুনিওস চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। তবে ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না নিকো উইলিয়ামস।
ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে জানান, তার দলের প্রতি বিশ্বাস আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘দিন যত যাচ্ছে, এই দলের ওপর আমার বিশ্বাস তত বাড়ছে। শুরু থেকেই আমি বিশ্বাস করেছি, কারণ আমার কাছে তারাই বিশ্বের সেরা দল।’
তার মতে, ধীরে ধীরে নিজেদের পুরোনো ছন্দে ফিরছে স্পেন। ইউরো জয়ের সময় যে বোঝাপড়া ও সমন্বয় ছিল, সেটিও আবার ফিরে আসছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে আসার পর থেকে এই সপ্তাহে দলটি আবার নিজেদের পুরোনো বোঝাপড়া ফিরে পাচ্ছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে আগের সমন্বয়ও দেখা যাচ্ছে। তবে এর আগের পারফরম্যান্স নিয়েও আমি সন্তুষ্ট ছিলাম।’
বিশ্বকাপে প্রতিটি দলই শক্তিশালী হওয়ায় সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেন।
তিনি বলেন, ‘যখন সব দলের মধ্যে এত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে, তখন সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়। আমরা প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করে পেনাল্টির প্রস্তুতিও নিচ্ছি। একটি ম্যাচে যে কেউ জিততে পারে।’
দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোর মন্তব্য প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্পেন কোচ। তার মতে, জাতীয় দলে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থই সবচেয়ে বড়।
তিনি বলেন, ‘এখানে এমন অনেক ফুটবলার আছে, যারা নিজ নিজ ক্লাবের বড় তারকা। কিন্তু জাতীয় দলে একাদশে খেলতে পারে মাত্র ১১ জন। স্বাভাবিকভাবেই সবাই খেলতে চায়। কিন্তু সবাই দলের ভালোটাই চায়। এখানে নেতিবাচক কোনো অহংকার নেই। ইতিবাচক আত্মবিশ্বাস আছে, তবে সবাই জানে দলের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমোর বোঝাপড়া নিয়েও সন্তুষ্ট দে লা ফুয়েন্তে। একই ক্লাবে বা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলার কারণে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো হলেও, স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি ভিন্ন ধরনের ফুটবলারদের একসঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘যারা পুরো বছর একসঙ্গে খেলে, তাদের মধ্যে বোঝাপড়া বেশি থাকে। তবে তারা অন্যদের সঙ্গেও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, আমরা বিভিন্ন ধরনের ফুটবল ও ভিন্ন পটভূমির খেলোয়াড়দের একসঙ্গে খেলাতে পারি।’
লামিন ইয়ামালের শারীরিক অবস্থা নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন স্পেন কোচ।
তিনি বলেন, ‘লামিন যা প্রয়োজন, তা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সে খুব ভালো অবস্থায় আছে এবং খেলার জন্য ভীষণ আগ্রহী।’
২০১০ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি স্পেন। সেই দীর্ঘ অপেক্ষা এবার শেষ হবে বলেই বিশ্বাস দে লা ফুয়েন্তের।
তিনি বলেন, ‘এই দলটি কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার জন্যই তৈরি হয়েছে। আমরা শুধু চাই, ডালাসে পরের ম্যাচেও আপনাদের সঙ্গে আবার দেখা হোক।’
স্পেনের সম্ভাব্য একাদশ হতে পারে—উনাই সিমন; মার্কোস ইয়োরেন্তে অথবা পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, এমেরিক লাপোর্তে, মার্ক কুকুরেয়া; রদ্রি, পেদ্রি, দানি ওলমো; লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারসাবাল ও আলেক্স বায়েনা।