ইসমেইল সাইবারি © টিডিসি ফটো
২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মরক্কোকে শেষ ষোলোয় তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছেন ইসমাইল সাইবারি। চার ম্যাচে তিন গোল, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম আবিষ্কার হয়ে ওঠা এই ফরোয়ার্ডকে এবার দলে ভিড়িয়েছে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। পিএসভি আইন্দহোভেন থেকে ৫৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ২৫ বছর বয়সী এই তারকাকে দলে নিয়েছে বাভারিয়ানরা।
বায়ার্নের সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছেন সাইবারি। নতুন ক্লাবেও তিনি ৩৪ নম্বর জার্সি পরবেন। পিএসভিতেও একই নম্বরের জার্সি গায়ে খেলতেন তিনি।
স্পেনের তেরাসায় জন্ম হলেও সাইবারি বড় হয়েছেন বেলজিয়ামে। তার বাবা-মা মরক্কোর নাগরিক। জাতীয় দল হিসেবে তিনি মরক্কোকেই বেছে নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তের প্রতিদানও দিচ্ছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
পিএসভি আইন্দহোভেনের হয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই বহুমুখী আক্রমণভাগের ফুটবলার। ডাচ ক্লাবটির হয়ে ১৪২ ম্যাচে ৪২টি গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ২৯টি গোল করিয়েছেন।
ক্লাব ফুটবলের সেই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপেও ধরে রেখেছেন সাইবারি। চার ম্যাচে তিনটি গোল করে তিনি মরক্কোর আক্রমণভাগের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলারদের একজন হয়ে ওঠেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার নেওয়া সফল পেনাল্টিই মরক্কোকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্বকাপে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়ে। শেষ পর্যন্ত ৫৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে তাকে দলে ভেড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বায়ার্ন মিউনিখ।
সাইবারিকে দলে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বায়ার্নের ক্রীড়া পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একজন সাইবারিকে বায়ার্নে আনতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।’
নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে সাইবারি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বায়ার্নের মতো একটি ক্লাবে খেলার স্বপ্ন দেখেছি।’
বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে খেলার সুযোগ নিয়েও রোমাঞ্চিত মরক্কোর এই ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘ভিনসেন্ট কোম্পানির খেলার ধরন আমার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে যায়। এখানে আমি নিজের ফুটবল আরও উন্নত করতে পারব। দলকে সফল করতে আমি প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করব।’