যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলাররা © টিডিসি ফটো
প্রথমার্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ফ্লোরিয়ান বালোগান। দ্বিতীয়ার্ধে সেই তিনিই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। তাতে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পথে বাধা তৈরি হয়নি। ১০ জনের দল নিয়েও দারুণ লড়াই করে মালিক টিলম্যানের শেষদিকের গোলে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম।
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের দশম ম্যাচে সান ফ্রান্সিসকোয় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমার্ধের ডিহাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত গোল না এলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি স্বাগতিকদের দখলে। প্রথম ২৪ মিনিটে তারা ৭৮ শতাংশ বলের দখল ধরে রাখে। তবে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকদের দুটি প্রচেষ্টাই লক্ষ্যে ছিল না।
ক্রমাগত আক্রমণের পুরস্কার পায় যুক্তরাষ্ট্র প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে। ৪৫তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের বাড়ানো বল বসনিয়ার দুই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বালোগানের সামনে চলে আসে। সুযোগটি কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি এই স্ট্রাইকার। গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজকে পরাস্ত করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধে ৬৩ শতাংশ বল দখলে রেখে পাঁচটি শট নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বিপরীতে বসনিয়া মাত্র একটি শট নিতে সক্ষম হয়। সেই এক গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। ৬৫তম মিনিটে উড়ে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় বসনিয়ার মুহারোমোভিচের পায়ে পেছন থেকে আঘাত করেন বালোগান। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় রিপ্লে দেখে রেফারি ফাউলটিকে বিপজ্জনক বলে বিবেচনা করেন এবং সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে বালোগানকে মাঠের বাইরে পাঠান।
একজন কম নিয়ে খেললেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বরং ম্যাচের ৮২তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করেন মালিক টিলম্যান। তার অসাধারণ গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।
পরিসংখ্যানেও শেষ পর্যন্ত এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচে তাদের বল দখল ছিল ৪৮ শতাংশ, আর বসনিয়ার ছিল ৫২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র ৮টি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে বসনিয়া ৯টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারে চারটি। পাসের নির্ভুলতায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে ছিল, তাদের সফল পাসের হার ছিল ৮৮ শতাংশ, যেখানে বসনিয়ার ছিল ৮৫ শতাংশ। ফাউল করেছে যুক্তরাষ্ট্র ৭টি এবং বসনিয়া ১২টি। যুক্তরাষ্ট্র একটি লাল কার্ড দেখলেও কোনো হলুদ কার্ড দেখেনি। অপরদিকে বসনিয়া একটি হলুদ কার্ড পায়। এছাড়া কর্নারে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে ছিল ৪-৩ ব্যবধানে, আর অফসাইডে ধরা পড়ে দুইবার, যেখানে বসনিয়া একবারও অফসাইডে পড়েনি।