ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি যেভাবে বদলে দিয়েছেন জাপানি ফুটবল

২৯ জুন ২০২৬, ০২:১৯ AM
ব্রাজিলের ‘সাদা পেলে’ খ্যাত কিংবদন্তি জিকো

ব্রাজিলের ‘সাদা পেলে’ খ্যাত কিংবদন্তি জিকো © সংগৃহীত

​ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার তিনি। কিন্তু গায়ে সেলেসাওদের জার্সি জড়িয়ে বিশ্বমঞ্চ কাঁপানো এই মহাতারকার নামের পাশে আরও একটি অবিশ্বাস্য পরিচয় রয়েছে—তিনি জাপানি ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন। তিনি আর কেউ নন, ব্রাজিলের ‘সাদা পেলে’ খ্যাত কিংবদন্তি জিকো।

​আজ জাপানের ঘরোয়া ফুটবল বা ‘জে-লিগ’ বিশ্বজুড়ে যেভাবে নিজের পেশাদারিত্বের জানান দিচ্ছে, নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে পরিস্থিতি এমনটা ছিল না। জে-লিগ চালু হওয়ার আগে জাপানে কোনো সম্পূর্ণ পেশাদার ফুটবল লিগই ছিল না। তৎকালীন ‘জাপান সকার লিগ’ মূলত বিভিন্ন করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক দলগুলোর ওপর ভিত্তি করে চলত। যেখানে ফুটবলাররা সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে সাধারণ চাকরি করতেন এবং কেবল সপ্তাহান্তে মাঠে নামতেন অপেশাদার ফুটবলার হিসেবে।

​জাপানি ফুটবলের এই অপেশাদার এবং করপোরেট বৃত্ত ভাঙার রূপকার হয়ে ১৯৯১ সালে অবর্তীর্ণ হন জিকো। ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পরও জাপানি ফুটবলের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি অবসর ভেঙে সুমিতোমো মেটাল ক্লাবে যোগ দেন, যা পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ‘কাশিমা অ্যান্টলার্স’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

​জাপান তখন তাদের ফুটবলকে করপোরেট কাঠামো থেকে বের করে এনে একটি পূর্ণাঙ্গ পেশাদার রূপ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। আর সেই মুহূর্তে জিকোর মতো বিশ্বসেরা এক মহাতারকার আগমন জাপানের এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টকে বিশ্বমঞ্চে এক লহমায় গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। 

জিকোর দেখানো পথ ধরেই জে-লিগের শুরুর বছরগুলোতে জাপানে পাড়ি জমান বিশ্ব ফুটবলের আরও অনেক বড় বড় নাম। গ্যারি লিনেকার, পিয়েরে লিটবারস্কি, রামন দিয়াজ কিংবা আর্সেন ভেঙ্গারের মতো কিংবদন্তিরা জাপানি ফুটবলের অগ্রযাত্রায় শামিল হন।

​কাশিমা অ্যান্টলার্সে থাকাকালীন জিকো কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবেই অবদান রাখেননি, বরং ক্লাবটির মানদণ্ড, নিয়মানুবর্তিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সত্তা তৈরিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। তার হাত ধরেই কাশিমা পরবর্তীতে জাপানের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফলতম একটি ক্লাবে পরিণত হয়।

​খেলোয়াড়ি জীবন শেষেও জাপানের সঙ্গে জিকোর এই নাড়ির টান ছিন্ন হয়নি। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি জাপান জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অধীনেই ২০০৪ সালে জাপান এশিয়ান কাপ জয় করে এবং ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। কাকতালীয়ভাবে, সেই ২০০৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই জিকোর কোচিংয়ে থাকা জাপান মুখোমুখি হয়েছিল তাঁর নিজের দেশ ব্রাজিলের।

​জাপানে প্রথম পা রাখার পর তিন দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু আজ ২০২৬ সালেও তিনি কাশিমা অ্যান্টলার্সের একজন সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবে জাপানি ফুটবলের সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন। ব্রাজিলিয়ান সাম্বার ছন্দ দিয়ে কীভাবে এশিয়ার একটি দেশের ফুটবলের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দেওয়া যায়, জিকো যেন তারই এক জীবন্ত কিংবদন্তি।

দক্ষিণ আফ্রিকার হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোয় কানাডা
  • ২৯ জুন ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি শাকিল, সম্পাদক…
  • ২৯ জুন ২০২৬
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি যেভাবে বদলে দিয়েছেন জাপানি ফুটবল
  • ২৯ জুন ২০২৬
ব্রাজিল ম্যাচের আগে জাপানের বড় চিন্তা একটাই
  • ২৯ জুন ২০২৬
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বিএম কলেজে আটক শতাধিক অটোরিকশা ও সিএনজি 
  • ২৯ জুন ২০২৬
টিউশনির ফাঁদ ভেঙে বিসিএস ক্যাডার কুবির নিহাল
  • ২৯ জুন ২০২৬