আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক মূসো © সংগৃহীত
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার নতুন ঠিকানায় পাড়ি জমাতে পারেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়া এই গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে আগ্রহী ইতালিয়ান ক্লাব নাপোলি। বর্তমান গোলরক্ষক ভানিয়া মিলিনকোভিচ-সাভিচ ক্লাব ছাড়লে মুসোকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছে নাপোলি।
৩২ বছর বয়সী মুসো ২০২৫/২৬ মৌসুমে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে পাওয়া সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করেছেন। দলের নিয়মিত গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক চোট পাওয়ার পর তার জায়গায় খেলেছেন মুসো। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দারুণ পারফরম্যান্স করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
এই পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন মুসো। তার পারফরম্যান্স একই সঙ্গে নাপোলির নজরও কেড়েছে।
ইতালিয়ান ফুটবলের দলবদলবিষয়ক সাংবাদিক মাত্তেও মোরেত্তোর তথ্য অনুযায়ী, ভানিয়া মিলিনকোভিচ-সাভিচ যদি নাপোলি ছেড়ে চলে যান, তাহলে তার জায়গায় মুসোকেই দলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ক্লাবটি। নাপোলিতে যোগ দিলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিয়মিত প্রথম একাদশে খেলার সুযোগও পেতে পারেন এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
এর আগে গত বছরও নাপোলির নজরে ছিলেন মুসো। তবে শেষ পর্যন্ত অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদেই থেকে যান তিনি। সেখানে ওবলাকের চোটের কারণে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুসোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভের কারণে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে বার্সেলোনাকে হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠে যায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ইয়ামালের একটি শক্তিশালী শটও দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দলকে বিপদ থেকে বাঁচিয়েছিলেন মুসো।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও মুসোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা ও ২০২২ সালের ফাইনালিসিমায় আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন তিনি। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ী দলে জায়গা পাননি এই গোলরক্ষক।
এরপর মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আবারও মুসোকে জাতীয় দলে ডাকেন লিওনেল স্কালোনি। যদিও সে সময় কোনো ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি, তবে তার পারফরম্যান্স স্কালোনির নজর কাড়ে। পরে এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্তিনেস ও জেরোনিমো রুলির সঙ্গে মুসোকেও ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনা দলে রাখা হয়।
সব মিলিয়ে মুসোর সামনে এখন নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে নিজেকে প্রমাণ করার পর এবার নাপোলিতে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতে পারেন তিনি।