আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পুররাইন © সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দলের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর হাতে আটক হয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পুররাইন। তার বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়াও চলছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফুটবল লিগে খেলা মাতিয়াস পুররাইন মিয়ামি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস যাওয়ার পথে ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরে ICE-এর হাতে আটক হন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দলের সঙ্গে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহরে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছিলেন তিনি।
পুররাইনের ভাই হুয়ান পুররাইন আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম C5N-কে বলেন, 'দশ মিনিটের মধ্যে ফিরে আসবে বলে তাকে নিয়ে গেল। কিন্তু তাকে আর ফেরত দেয়নি।'
পুররাইনের ক্লাব ক্লাব দে লিয়ন এফসি জানিয়েছে, তিনি 'যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন না'। তিনি শুধু দেশটির একটি শহর থেকে অন্য একটি শহরে যাচ্ছিলেন। ক্লাবটির দাবি, পুররাইন বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং গত সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। এই সময়ে তিনি কাজ করার পাশাপাশি নিয়মিত করও পরিশোধ করেছেন।
ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, 'সে কোনো অপরাধী নয়।'
পুররাইনের পরিবারও বলছে, তার 'সবকিছু বৈধ'। তার ভাই জানান, তিনি 'স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় ছিলেন'। একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কায় দলের আরও চারজন খেলোয়াড় ভ্রমণ করা বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পুররাইনের আইনজীবী রেজিনা বোর্হেস আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম TN-কে জানান, তিনি পর্যটক ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। আইনজীবী বলেন, 'সে দলে খেলছে এবং তাদের একাডেমিতেও কাজ করছে।'
পুররাইনের সঙ্গে কথা বলার পর তার অবস্থার কথা জানিয়ে বোর্হেস বলেন, 'আজ তার সঙ্গে কথা বলেছি এবং সে ভয় পেয়ে গিয়েছিল।'
তিনি জানান, আইনজীবী হিসেবে পুররাইন তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। তবে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাকে মাত্র এক মিনিট ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।
পুররাইনের স্ত্রী স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছেন জানিয়ে বোর্হেস বলেন, 'সে খুব ভালো একজন মেয়ে। সে ভীষণ হতাশ ও অসহায় হয়ে পড়েছে।'
পুররাইনকে একটি প্রসেসিং সেন্টারে রাখা হয়েছে বলেও জানান তার আইনজীবী। সেখানে বিভিন্ন ধরনের মামলায় আটক ব্যক্তিরা রয়েছেন। তার ভাষায়, সেখানে 'সব জায়গা থেকে আসা মানুষ রয়েছে, যারা হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে কারাগারে ছিল এবং সেখান থেকে সদ্য বের হয়েছে।'
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক আটক অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বোর্হেস। তিনি বলেন, 'বিমানবন্দরগুলোতে যা করা হচ্ছে, তা গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে। এটি একেবারেই নতুন একটি বিষয়। এই কাজের সঙ্গে ২৬ বছর ধরে যুক্ত থাকার পরও আমি এমন কিছু কখনো দেখিনি।'
তিনি আরও বলেন, 'কোনো অপরাধ না করেও, শুধু দেশের ভেতরে ভ্রমণ করার সময় মানুষকে আটক করা হচ্ছে। বিষয়টি খুবই অদ্ভুত।'
মাতিয়াস পুররাইন বর্তমানে ক্লাব দে লিয়ন এফসির মিডফিল্ডার হিসেবে খেলছেন। ক্লাবটি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল কাঠামোর তৃতীয় স্তরের লিগ NISA-তে খেলে। এই লিগটি MLS-এর সমান্তরাল একটি প্রতিযোগিতা।
এর পাশাপাশি পুররাইন Showtime FC-এর হয়ে ফরোয়ার্ড হিসেবেও খেলেন। দলটি ৬ বনাম ৬ ফুটবলের Baller League-এ অংশ নেয়। Baller League হলো কিংস লিগের একটি সংস্করণ, যা রোনালদিনহো ও উসাইন বোল্টের মতো বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদদের প্রচারণার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।