বিশ্ব ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল আন্দ্রেস মেসি © সংগৃহীত
সময় বহমান। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক হেরাক্লিটাস বলেছিলেন একই নদীতে আপনি দু’বার অবগাহন করতে পারবেন না। সময়ের পালাবদলে ৩৯ এর কোটায় পা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টাইন ফ্যানরা মানতে চান না কেননা তারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার জাদুকরের পায়ের জাদুতে মজেছেন, রাতের পর রাত মুগ্ধ হয়েছেন তার ড্রিবলিংয়ে। টিভি স্ক্রিনে একটিবার বল পায়ে মেসিকে ছুটতে দেখায় নির্ঘুম কাটিয়ে দিয়েছেন রাতের পর রাত। সেই ধারাবাহিকতা মেনে উত্তর আমেরিকার মাটিতে ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনা চলছে। আর সেখানে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে পা রেখেছে নকআউটে।
বিশ্ব আর্জেন্টাইন ফ্যানদের কাছে এই রূপকথাকে যিনি বাস্তবে রূপ দিয়েছেন, সেই মহানায়ক লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন আজ। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি—একদা যাকে বলা হয়েছিল তার শরীর আর বাড়বে না, আজ তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন।
এক মৌসুমে ৯১টি গোল, লা লিগায় রেকর্ড ৪৭৪টি গোল, আটটি ব্যালন ডি’অর এবং ৪৪টি ট্রফি নিয়ে মেসি ফুটবলের এমন এক জীবন্ত কিংবদন্তি যার নজির ইতিহাসে নেই। দুই দশকের ক্যারিয়ারে অনেক নির্মম পরাজয় আর বুকভাঙা কষ্টের পর তিনি অবশেষে ছুঁয়েছেন আরাধ্য সেই সোনালী ট্রফি। রোজারিওর এক চিলতে গলি থেকে শুরু হওয়া সেই জাদুকরের সম্পূর্ণ জীবনের গল্প কজনই বা জানে?
রোজারিও: এক অবাস্তব ছেলের গল্প
১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন লিওনেল মেসি। বাবা হোর্হে মেসি কাজ করতেন স্টিল কারখানায় আর মা সেলিয়া ঘরদোর পরিষ্কারের কাজ করতেন। রোজারিওতে কোনো শর্টকাট ছিল না, তবে সেখানে ফুটবলের অভাব ছিল না।
মেসি হাঁটার আগেই তার পায়ে বল চলে এসেছিল। মাত্র ৪ বছর বয়সে তিনি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলিতে যান, কিন্তু বড্ড ছোট বলে কোচ তাকে প্রথমে নিতে চাননি। তখন পাশে এসে দাঁড়ান তার নানি সেলিয়া। নানির জোরাজুরিতেই কোচ মেসিকে মাঠে নামান এবং এরপর মেসি আর কখনো মাঠ থেকে বের হননি। ১০ বছর বয়সে নানি মারা যান। আজও মেসি গোল করার পর দুই হাত দিয়ে আকাশের দিকে যে ইশারা করেন, তা মূলত তার স্বর্গীয় নানির প্রতি উৎসর্গ করা।
নিউক্যাসল ওল্ড বয়েজে (Newell's Old Boys) যোগ দেওয়ার পর মেসির খেলা এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে, প্রতিপক্ষ কোচেরা প্রায়ই ম্যাচের আগে তার বয়সের প্রমাণ দেখতে চাইতেন। যুব ফুটবলে তিনি প্রায় ৫০০ গোল করেছিলেন। এরপর মাত্র ১০ বছর বয়সে এলো সেই দুঃসংবাদ। তার শরীরে ‘গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি’ (বৃদ্ধি হরমোন ঘাটতি) ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, কৃত্রিম হরমোন ইনজেকশন ছাড়া তাঁর উচ্চতা ৪ ফিট ৭ ইঞ্চির বেশি হবে না। এই চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে প্রয়োজন ছিল ১,৫০০ মার্কিন ডলার, যা জোগাড় করা হোর্হে মেসির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
রিভার প্লেটসহ আর্জেন্টিনার বড় বড় ক্লাব এই চিকিৎসার খরচ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে মেসির পরিবার সব বাজি ধরে পাড়ি জমায় কাতালোনিয়ায়। বার্সেলোনার তৎকালীন স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লেস রেক্সাচ ট্রায়ালে মেসির খেলা মাত্র কয়েক মিনিট দেখেই মুগ্ধ হন এবং কোনো চুক্তিপত্র না পেয়ে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটি টিস্যু পেপারে (ন্যাাপকিন) মেসির প্রথম চুক্তি সই করেন। (পরবর্তীতে এই ঐতিহাসিক ন্যাপকিনটি নিলামে প্রায় ১০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়)।
১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় একা থেকে যান মেসি। স্প্যানিশ বা কাতালান ভাষা ঠিকমতো বলতে পারতেন না। লা মাসিয়ার সতীর্থরা তার চরম চুপচাপ স্বভাবের কারণে তাঁকে বোবা ভাবত। কিন্তু তিনি বোবা ছিলেন না, তিনি নিঃশব্দে এক বিশ্বজয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
লা মাসিয়া ও এক বিস্ময়ের উত্থান
বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমি ‘লা মাসিয়া’ কেবল ফুটবল শেখায় না, এটি ফুটবলের একটি দর্শন। ১৪ বছর বয়সে মেসির হরমোন থেরাপি শেষ হয় এবং যুব দলগুলোতে তিনি বড় বড় রক্ষণভাগকে একাই বোকা বানাতে শুরু করেন।
২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর মাত্র ১৭ বছর বয়সে এস্পানিওলের বিপক্ষে বার্সেলোনার মূল দলে মেসির অভিষেক হয়। ২০০৫ সালের ১ মে আলবাসেতের বিপক্ষে রোনালদিনহোর পাস থেকে আলতো চিপে নিজের প্রথম সিনিয়র গোলটি করেন তিনি। ২০০৮ সালে পেপ গার্দিওলা বার্সেলোনার দায়িত্ব নিয়ে মেসিকে ‘ফলস নাইন’ পজিশনে নিয়ে আসেন। অদৃশ্য সুতোয় বল পায়ে বেঁধে মেসির সেই রক্ষণভাগ চূর্ণ করার দৃশ্য প্রতিপক্ষকে অবশ করে দিত। ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বার্সেলোনা ইতিহাসের সবচেয়ে আধিপত্যশীল ফুটবল খেলে।
২০১১-১২ মৌসুমে মেসি ক্লাব ও দেশের হয়ে সব মিলিয়ে ৯১টি গোল করেন, যা গার্ড মুলারের ৩৯ বছর পুরনো রেকর্ড ভেঙে দেয়। শুধু লা লিগাতেই তিনি করেন ৫০টি গোল। ব্যালন ডি’অর জয় করাটা তার বার্ষিক অভ্যাসে পরিণত হয়। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ۲۰۱৯, ২০২১ এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে মোট আটবার এই ট্রফি জিতে তিনি ইতিহাসকে নিজের করে নেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো প্রতিভাবান প্রতিদ্বন্দীর সাথে দেড় দশকব্যাপী দ্বৈরথ তাঁদের দুজনকে নিয়ে গিয়েছিল অন্য এক উচ্চতায়।
নীল-সাদা জার্সির রক্তাক্ত ক্ষত
ক্যাম্প ন্যু-তে যত ট্রফিই জমা হোক না কেন, আর্জেন্টিনার জার্সিটি মেসির জন্য এক উপশমহীন ক্ষত হয়ে উঠেছিল। ২০০৫ সালের আগস্টে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের মাত্র ৪৭ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। ২০০৮ সালে অলিম্পিক সোনা জিতলেও দেশের মানুষ তাঁর কাছে বিশ্বকাপের দাবি জানায়।
২০১৪ বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে যান এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল) হন। কিন্তু ফাইনালে জার্মানির মারিও গোটজের অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়। এরপর ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে যান মেসি। ২০১৬ সালের শতবর্ষী কোপার ফাইনালে পেনাল্টি মিস করার পর তীব্র হতাশায় ২৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।
অবশ্য দুই মাসের মধ্যেই তিনি অবসর ভেঙে ফিরে আসেন। আর্জেন্টিনায় দিয়াগো ম্যারাডোনার সাথে তার তুলনা করে প্রায়ই সমালোচনা করা হতো—ম্যারাডোনা ছিলেন আগ্রাসী, আর মেসি শান্ত-অন্তর্মুখী। অনেকেই প্রশ্ন তুলতেন দেশের প্রতি তার ভালোবাসা নিয়ে। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় এবং ২০১৯ কোপা আমেরিকায় তৃতীয় হওয়া সেই সমালোচনাকে আরও উস্কে দেয়।
মহাকাব্যিক মুক্তি: কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়
২০২১ সালের জুলাই মাসে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে ইতিহাস বদলাতে শুরু করে। ব্রাজিলের বিপক্ষে কোপা আমেরিকার ফাইনালে আনহেল ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ ২৮ বছর পর দেশের হয়ে ট্রফি জিতে মাঠে হাঁটু গেড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৩৩ বছর বয়সী মেসি।
এরপর শুরু হয় সোনালী অধ্যায়। ২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে ফিনালিসিমা জয় এবং ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই ফাইনালকে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফাইনাল বলা হয়। ম্যাচে মেসি দুটি গোল করেন এবং নিজের দ্বিতীয় গোল্ডেন বল জিতে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন।
২০২০ সালে ম্যারাডোনা মারা যান। এই বিশ্বকাপ জয়ের পর প্যারাগুয়েতে কনমেবল (CONMEBOL) সদর দপ্তরের সামনে পেলে ও ম্যারাডোনার মূর্তির পাশে মেসির একটি স্থায়ী ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কলম্বিয়াকে হারিয়ে আবারও কোপা আমেরিকা জেতে আর্জেন্টিনা। এর মাধ্যমে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি মেজর আন্তর্জাতিক ট্রফি (কোপা-বিশ্বকাপ-কোপা) জেতার অনন্য রেকর্ড গড়ে আলবিসেলেস্তেরা।
প্যারিস ও ইন্টার মায়ামির গোলাপি জার্সি
২০২১ সালের আগস্টে বার্সেলোনার আর্থিক সংকটের কারণে লা লিগার নিয়মানুযায়ী মেসিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ক্লাবটি। প্রিয় ক্লাব ছাড়ার সংবাদে সংবাদ সম্মেলনে অঝোরে কেঁদেছিলেন মেসি। এরপর তিনি পিএসজিতে (PSG) যোগ দিয়ে নেইমার ও এমবাপ্পের সাথে জুটি বাঁধেন। সেখানে দুটি লিগ ওয়ান ট্রফি জিতলেও প্যারিসের পরিবেশের সাথে তিনি কখনোই পুরোপুরি মিশতে পারেননি।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (MLS) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। মেসির আগমনে তলানিতে থাকা ক্লাবটি রাতারাতি লিগস কাপ জেতে। ২০২৪ মৌসুমে ১৯ ম্যাচে ২০ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করে লিগের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (MVP) হন তিনি। ২০২৫ সালে ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট নিয়ে মায়ামিকে প্রথম এমএলএস কাপ জেতান এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এমভিপি হন। এই প্লে-অফ চলাকালীন ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪০৫টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়ে ফেরেঙ্ক পুসকাসকে ছাড়িয়ে যান মেসি। বর্তমানে মায়ামির সাথে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তাঁর চুক্তি রয়েছে, তখন তাঁর বয়স হবে ৪১ বছর।
অতুলনীয় কিছু পরিসংখ্যান ও অর্জন
৮টি ব্যালন ডি’অর এবং ৬টি ইউরোপীয় গোল্ডেন শু (ইতিহাসের সর্বোচ্চ)।
বার্সেলোনার হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে ৬৭২টি গোল।
এক ক্যালেন্ডার বছরে (২০১২) ৯১টি গোল।
ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ -৪৪টি ট্রফি।
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪১৪টি অ্যাসিস্ট।
২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক প্রেসিডেন্ট মেডেল অব ফ্রিডম লাভ।
২০২৬ সালে ফোর্বসের তালিকায় প্রথমবার বিলিয়নেয়ার (১০০ কোটি ডলারের মালিক) হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তি।
কিংবদন্তিদের চোখে লিও মেসি
সময়ের অন্যান্য ফুটবলাররা মেসিকে আখ্যায়িত করেছেন বিস্ময় বালক হিসেবে। মেসিকে নিয়ে দিয়াগো ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আমি সেই খেলোয়াড়কে পেয়ে গেছি যে আর্জেন্টাইন ফুটবলে আমার জায়গা নেবে, তার নাম মেসি। মেসি একজন জিনিয়াস।’ ক্লাব ফুটবলের মোগলখ্যাত স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন মেসিকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি প্রচুর ফুটবল দেখি, মেসি বনাম রোনালদো বিতর্ক নিয়ে মানুষ মেতে থাকে। কিন্তু আমার কাছে কোনো তুলনাই নেই। মেসি সবার চেয়ে আলাদা স্তরের।’
ইংলিশ ফুটবল বস খ্যাত কোচ পেপ গার্দিওলা অবশ্য মেসিকে নিয়ে সবাই ছাড়িয়ে গেছেন। তার মতে, আমি পেলেকে দেখিনি, তবে লিও-ই ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। ও অনন্য।’
আর প্রতিদ্বন্দি ও সময়ের জনপ্রিয় দ্বৈরথ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চোখে মেসি একজন সেরা খেলোয়াড়। সিআর সেভেনের মতে, ‘ও একজন অসাধারণ খেলোয়াড়। ম্যাজিক! একজন মানুষ হিসেবে আমরা ১৬ বছর ধরে একই মঞ্চ ভাগ করেছি। ভাবা যায়, দীর্ঘ ১৬ বছর!’
আজ ৩৯ বছর বয়সেও মেসি উত্তর আমেরিকার মাঠে আরেকটি বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন। আজ বাংলাদেশ, বলিভিয়া বা বুর্কিনা ফাসো হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের কোনো এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলে মাঝরাত জেগে মেসির খেলা দেখছে। মেসি যখন মাঠে বল পান, তখন মনে হয় পদার্থবিজ্ঞানের সব সূত্র যেন তার পায়ের কাছে এসে থমকে গেছে। মেসি নিজে বলেন, ‘আমি কখনো আগে থেকে কিছু ভেবে খেলি না, সেই মুহূর্তে যা আসে তা-ই করি। পুরোটাই সহজাত প্রবৃত্তি।’
যে ছেলেকে একদিন বলা হয়েছিল তার শরীর আর বাড়বে না, সেই ছেলেই আজ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও প্রতিভাবান ফুটবলার।
শুভ জন্মদিন, ফুটবলের বরপুত্র লিওনেল আন্দ্রেস মেসি!