নেইমার ও আনচেলত্তি © সংগৃহীত
ব্রাজিল তারকা নেইমার পুরো ম্যাচ খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তিনি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চোট কাটিয়ে ফেরা এই তারকা ফরোয়ার্ডের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দারুণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ রসিকতা করে বলেন, ‘সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে। আমিও ৯০ মিনিট হাঁটতে হাঁটতে মাঠে থাকতে পারি। সে ভালো আছে, খুব ভালোভাবে অনুশীলন করেছে। আমি তাকে নিয়ে খুবই খুশি।’
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর তৃতীয় রাউন্ডের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল।
এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আজ মঙ্গলবার শেষ সকালের দিকে ফ্লোরিডা ভ্রমণের পূর্বে নিজেদের শেষ অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে ব্রাজিল দল। অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিট সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও সেখানে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের মূল একাদশ কেমন হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। খেলোয়াড়রা কেবল গা গরম করার প্রথাগত কিছু ওয়ার্ম-আপ এবং ‘ববিনহো’ খেলে সময় কাটিয়েছেন।
তবে পুরো অনুশীলনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে নেইমারের দারুণ চনমনে ভাব ও সক্রিয় উপস্থিতি। গত সপ্তাহ থেকেই দলের সাথে মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করা নেইমারকে একটি প্রস্তুতিমূলক খেলায় বল ফিরে পাওয়ার জন্য প্রতিপক্ষের ওপর কড়া চাপ সৃষ্টি করতে দেখে মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো হাততালি দিয়ে সাধুবাদ জানান। গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে কুরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে ডান পায়ের কাফ মাসলে চোট পাওয়ার পর থেকে নেইমার আর কোনো অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেননি। অবশেষে এই তারকা ফরোয়ার্ডকে ম্যাচ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে চলতি বিশ্বকাপে তাঁর অভিষেক হওয়ার বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কার্লো আনচেলত্তি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের কৌশল ও স্কোয়াডের অন্যান্য বিষয় নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন। গত শুক্রবার হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া উইঙ্গার রাফিনহার অনুপস্থিতিতে তরুণ ফুটবলার রায়ান মাঠের প্রস্থ কাজে লাগানোর দায়িত্ব নিতে পারেন বলে তিনি জানান।
পাশাপাশি দলের তরুণ সেনসেশন এন্দ্রিকের সম্ভাব্য একাদশে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এন্দ্রিক সব ম্যাচেই খেলতে পারে। পরের ম্যাচেও খেলতে পারে, আবার যেকোনো সময় মাঠে নামতে পারে। তার সেই সামর্থ্য আছে। সমর্থকেরা তাকে খুব পছন্দ করে। তবে আগামীকাল নেইমারও থাকবে। তারা কাকে সমর্থন করবে—নেইমারকে নাকি এন্দ্রিককে? আমার মনে হয় দুজনকেই সমর্থন করবে।’
এছাড়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে বিবেচনা করা যায় উল্লেখ করে কোচ বলেন, ‘আমার মনে হয় অবশ্যই যায়। শেষ ম্যাচে মাতেউস কুনিয়াও দারুণ খেলেছে। আক্রমণভাগে আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। অন্য বড় দলগুলোরও অসাধারণ খেলোয়াড় আছে।’
ম্যাচে ব্রাজিলের সম্ভাব্য রণকৌশল এবং প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘তারা শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী একটি দল। তাদের কৌশলও পরিষ্কার। সাধারণত তারা ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলে। অনেক লং বল খেলে এবং ক্রসের মাধ্যমে আক্রমণ গড়ে তোলে। এই বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’ এই শারীরিক শক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের খেলার ধরন কেমন হওয়া উচিত, তা স্পষ্ট করে তিনি আবারও বলেন, ‘হাইতির বিপক্ষে প্রথমার্ধের মতো খেলতে হবে। বল নিয়ে তীব্রতা দেখাতে হবে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং ভুল কমাতে হবে। দল অনুশীলনে উন্নতি করছে। আমি আত্মবিশ্বাসে যে আমরা আরও উন্নতি করব।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধের মতো পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে হবে, যেখানে বল দখলে তীব্রতা রাখা, সঠিক পাস দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় ভুল ও বল হারানো এড়ানোই হবে ব্রাজিলের মূল পথ।
আগামীকালের ম্যাচের জন্য কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে আরও কিছু বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ করে দলের যে তিনজন খেলোয়াড় ইতিমধ্যে একটি করে হলুদ কার্ড পেয়ে পরবর্তী রাউন্ডে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে আছেন, তাদের তিনি এই ম্যাচে বিশ্রাম দেবেন কি না, সেই পরিকল্পনা সাজাতে হবে। কার্ডের ঝুঁকিতে থাকা এই খেলোয়াড়রা হলেন দুই নিয়মিত মূল একাদশের সদস্য ক্যাসেমিরো ও দগলাস সান্তোস এবং বদলি ডিফেন্ডার ইবানেজ।
তবে দলের সার্বিক কৌশলগত পরিকল্পনা ও মাঝমাঠের শক্তি নিয়ে ভরসা রেখে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা হাইতির বিপক্ষে যে কৌশল ব্যবহার করেছি, সেটিই অনুসরণ করব। ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করব, মাঝমাঠে ভালো ফুটবল খেলব এবং রক্ষণ থেকে সুন্দরভাবে আক্রমণ গড়ে তুলব। পাকেতা ও কাসেমিরোর মতো খেলোয়াড়দের অনেক অভিজ্ঞতা ও মান আছে। মাঝমাঠে আমাদের অভিজ্ঞতার অভাব নেই। আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ দল আছে। আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। তাদের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হলেও তারা ধীরে ধীরে আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে।’
সবশেষে দলের এ পর্যন্ত পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং শিরোপা জয়ের বড় লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সন্তুষ্ট। তবে আমাদের সামনে বড় একটি লক্ষ্য আছে, সেটি হলো এই শিরোপার জন্য লড়াই করা। প্রথম ম্যাচে আমরা ভালো শুরু করেছি। দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো খেলেছি। আমরা বিশ্বাস করি তৃতীয় ম্যাচে আরও উন্নত পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’