পারেদেস ও মেদিনা © টিডিসি সম্পাদিত
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধরনের বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টিনার দুই তারকা ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও ফাকুন্দো মেদিনা। জর্ডানের বিপক্ষে আর মাত্র একটি হলুদ কার্ড পেলেই এই দুই ফুটবলারকে পরবর্তী রাউন্ড অর্থাৎ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ডাগআউটে বসে কাটাতে হবে। খবর টিওয়াইসি স্পোর্টস।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচেই তারা একটি করে হলুদ কার্ড দেখায় এই ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। আগামী শনিবার ড্যালাসে রাত ১১টায় জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচে তারা যদি আরেকটি হলুদ কার্ড পান, তবে আগামী ৩ জুলাই শুক্রবার মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গ্রুপ 'এইচ'-এর রানার্স-আপ দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না।
এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে এই দুই ফুটবলার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হলুদ কার্ডের গ্যাঁড়াকলে পড়েন। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড় কনরাড লাইমারের সাথে একটি মৃদু ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় মিশরীয় রেফারি আমিন ওমর মেদিনাকে হলুদ কার্ড দেখান। ওই ঘটনায় অস্ট্রিয়ান খেলোয়াড়টিও হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন। মেদিনার এমন হলুদ কার্ড পাওয়াটাকে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ বেশ বিরক্তির চোখেই দেখেছে।
অফিশিয়াল ব্রডকাস্টের ক্যামেরায় তখন অলিম্পিক মার্শেইয়ের এই ডিফেন্ডারকে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়। এর ছয় মিনিট পর মেদিনার জায়গায় নিকোলাস তাগলিয়াফিকো মাঠে নামেন। ঠিক একই সময়ে রদ্রিগো ডি পলের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয়েছিল লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। কিন্তু বোকা জুনিয়র্সের এই অধিনায়ক মাঠে নামার ১০ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠে এক প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে লাথি মেরে বসেন এবং রেফারি তাকেও হলুদ কার্ড দেখান।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর হলুদ কার্ডের এই হিসাব আবার শূন্য থেকে শুরু হবে, অর্থাৎ আগের কার্ডগুলো এক অর্থে 'মুছে ফেলা' হবে। তবে নিয়মটির একটি কঠিন দিক হলো, কোনো ফুটবলার যদি গ্রুপ পর্বের শেষ বা তৃতীয় ম্যাচে এসে তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি দেখেন, তবে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুবিধা তিনি পাবেন না এবং তাকে শেষ ৩২-এর ম্যাচটিতে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে হবে।
দলের বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে কেন্দ্রীয় মিডফিল্ডার পারেদেসের মূল একাদশে খেলার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ডের ম্যাচটি মিস করতে না চাইলে মাঠে তাকে অত্যন্ত সাবধানে ফুটবল খেলতে হবে। অন্যদিকে, লেফট ব্যাক মেদিনা সম্ভবত বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বেঞ্চ থেকে ম্যাচ শুরু করবেন, যার ফলে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তাগলিয়াফিকো এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার মূল একাদশে খেলার সুযোগ পাবেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অন্য কোনো ফুটবলার হলুদ কার্ড পেলেও শেষ ৩২-এর ম্যাচে তাদের খেলা নিয়ে কোনো ঝুঁকি বা নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, হলুদ কার্ডের হিসাব সম্পূর্ণ মুছে ফেলার আরেকটি ধাপ হলো সেমিফাইনাল। তবে সেক্ষেত্রেও মূল নীতিটি একই থাকবে। কোনো ফুটবলার যদি শেষ ৩২, শেষ ১৬ বা কোয়ার্টার ফাইনাল মিলিয়ে দুটি হলুদ কার্ড পান, তবে তিনি সেমিফাইনাল ম্যাচটি খেলতে পারবেন না। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমিফাইনাল—এই দুই ম্যাচে আলাদাভাবে দুটি হলুদ কার্ড পেলে কোনো খেলোয়াড়কে সম্ভাব্য ফাইনাল ম্যাচ থেকে বাদ পড়তে হবে না।