হেরেই গেল তুরস্ক © টিডিসি ছবি
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার বাঁচামরার লড়াইয়ে ১০ জনের প্যারাগুয়েকেও হারাতে পারল না তুরস্ক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষ দলটির একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে তুর্কিরা।
ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারের পর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে এই পরাজয়ে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল তুরস্কের। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা এখন কেবলই নিয়মরক্ষার খাতিরে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করা শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পুরো ম্যাচে তুরস্কের চরম আধিপত্য ছিল। তারা ম্যাচের ৭৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে (পজেশন) রেখেছিল এবং প্যারাগুয়ের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ৩৩টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৬টি ছিল অন-টার্গেট। বিপরীতে প্যারাগুয়ে মাত্র ২২ শতাংশ বল পজেশন নিয়ে মাত্র ৬টি শট মারতে পারে, যার ২টি ছিল অন-টার্গেট। এছাড়া তুর্কিরা ম্যাচে ৬৩৮টি পাস দেয় যার নিখুঁততার হার (পাস অ্যাকুরেসি) ছিল ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে মাত্র ১৫৪টি পাস দিতে পেরেছে এবং তাদের পাস অ্যাকুরেসি ছিল মাত্র ৫৮ শতাংশ। তুরস্ক পুরো ম্যাচে ১২টি কর্নার আদায় করলেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি।
ম্যাচে রোমাঞ্চের শুরুটা হয়েছিল রেফারির কিক অফ বাঁশি বাজার পরপরই। ম্যাচের মাত্র ৬৫ সেকেন্ডের (১ মিনিট ৫ সেকেন্ড) মাথায় গোল করে প্যারাগুয়েকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন মিডফিল্ডার মাতিয়াস গালারজা। এটি এবারের বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত 'সবচেয়ে দ্রুততম গোল'। এর আগে একই দিন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি গোল করেছিলেন ৭১ সেকেন্ডে, যাকে পেছনে ফেললেন গালারজা। ম্যাচের শুরুতেই খাওয়া এই এক গোলের লিড শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।
১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা তুরস্ক ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে বড় একটি সুযোগ পায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+৩ মিনিটে) লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। মাঠে তুরস্কের খেলোয়াড় মের্ত মুলদুরের সঙ্গে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলেছিলেন আলমিরন। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বলা নিষিদ্ধ। রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) চেক করে আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফিফার এই নতুন নিয়মে এটিই বিশ্বকাপের ইতিহাসে 'প্রথম লাল কার্ড'।
আলমিরন মাঠ ছাড়ার পর পুরো দ্বিতীয়ার্ধ প্যারাগুয়েকে ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই চরম গতিময় ফুটবল উপহার দেয়। আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে ম্যাচ জমজমাট হয়ে উঠলেও তুরস্ক ১০ জনের প্যারাগুয়ের জমাট ডিফেন্স কোনোভাবেই ভেদ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে ৩ পয়েন্ট পকেটে পুরে মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে এবং ০ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় তুরস্ক।