বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুততম গোল © টিডিসি ছবি
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যাওয়ার নজির কম নেই। মাঠের লড়াই শুরু হতে না হতেই গোল—এমন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত ফুটবলপ্রেমীরা দেখেছে মাত্র ১৩ বার, যেখানে খেলা শুরুর এক মিনিট পার হওয়ার আগেই বল জড়িয়েছে জালে। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেও শুক্রবার ও শনিবারের মাঝরাতে ফুটবল বিশ্ব দেখল দুটি 'ঝলকানি গোল'। কিন্তু অবিশ্বাস্য দ্রুততায় গোল করেও ফিফার অফিশিয়াল রেকর্ড বইয়ের '১ মিনিটের কম সময়ের' এলিট তালিকায় জায়গা পেলেন না মরক্কোর সাইবারি ও প্যারাগুয়ের গ্যালারজা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের আক্ষেপ নিয়ে তারা ছিটকে গেলেন ইতিহাসের পাতা থেকে।
চলমান আসরে শুক্রবার বিকেলে মরক্কোর হয়ে সাইবারি মাত্র ১ মিনিট ৯ সেকেন্ডে বল জালে জড়ান। এরপর দিনের শেষ ম্যাচে তাকেও ছাড়িয়ে যান প্যারাগুয়ের গ্যালারজা, যিনি খেলা শুরুর মাত্র ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডে গোল করেন। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত এগুলোই 'সবচেয়ে দ্রুততম দুটি গোল' হলেও ফিফার অল-টাইম তালিকায় ঢুকতে তাদের দুজনেরই আরও কয়েক সেকেন্ডের কমতি ছিল।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি এখনো অক্ষুণ্ণ রেখেছেন তুরস্কের হাকান শুকুর। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তিনি বাঁশি বাজার মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোলটি করেছিলেন। তিনি ভেঙেছিলেন চেকোস্লোভাকিয়ার ভাকলাভ মাশেকের রেকর্ড, যিনি ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপে মাত্র ১৫ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন।
হাকান শুকুরের ওই ঐতিহাসিক রেকর্ডের পর গত দুই দশকে মাত্র দুটি গোল '১ মিনিটের কম সময়ের' তালিকায় জায়গা করে নিতে পেরেছে। এর একটি ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিন্ট ডেম্পসি। অন্যটি এসেছে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে, যেখানে ডেনমার্কের ম্যাথিয়াস জর্গেনসেন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৫ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন।
এমনকি গ্যালারজা ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডে গোল করলেও এটি তার নিজের দেশ প্যারাগুয়ের ইতিহাসেও দ্রুততম নয়। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের ম্যাচে প্যারাগুয়ের সেলসো আয়ালা মাত্র ৫২ সেকেন্ডে গোল করে দেশের পক্ষে দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি নিজের করে রেখেছিলেন।
ফিফার রেকর্ডে বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম ১৩টি গোল:
হাকান শুকুর (তুরস্ক) – ১১ সেকেন্ড (২০০২, বিপক্ষ: দক্ষিণ কোরিয়া)
ভাকলাভ মাশেক (চেকোস্লোভাকিয়া) – ১৫ সেকেন্ড (১৯৬২, বিপক্ষ: মেক্সিকো)
আর্নেস্ট লেহনার (জার্মানি) – ২৫ সেকেন্ড (১৯৩৪, বিপক্ষ: অস্ট্রিয়া)
ব্রায়ান রবসন (ইংল্যান্ড) – ২৮ সেকেন্ড (১৯৮২, বিপক্ষ: ফ্রান্স)
ক্লিন্ট ডেম্পসি (যুক্তরাষ্ট্র) – ৩০ সেকেন্ড (২০১৪, বিপক্ষ: ঘানা)
বার্নার্ড ল্যাকম্বে (ফ্রান্স) – ৩১ সেকেন্ড (১৯৭৮, বিপক্ষ: ইতালি)
আর্নে নাইবার্গ (সুইডেন) – ৩৫ সেকেন্ড (১৯৩৮, বিপক্ষ: হাঙ্গেরি)
এমিল ভেনান্ট (ফ্রান্স) – ৩৫ সেকেন্ড (১৯৩৮, বিপক্ষ: বেলজিয়াম)
ফ্লোরিয়ান অ্যালবার্ট (হাঙ্গেরি) – ৫০ সেকেন্ড (১৯৬২, বিপক্ষ: বুলগেরিয়া)
আদালবার্ট ডেসু (রোমানিয়া) – ৫০ সেকেন্ড (১৯৩০, বিপক্ষ: পেরু)
সেউং জিন পাক (উত্তর কোরিয়া) – ৫০ সেকেন্ড (১৯৬৬, বিপক্ষ: পর্তুগাল)
সেলসো আয়ালা (প্যালাগুয়ে) – ৫২ সেকেন্ড (১৯৯৮, বিপক্ষ: নাইজেরিয়া)
ম্যাথিয়াস জর্গেনসেন (ডেনমার্ক) – ৫৫ সেকেন্ড (২০১৮, বিপক্ষ: ক্রোয়েশিয়া)