ফুটবল বিশ্বকাপ © সংগৃহীত
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কেবল মাঠের ফুটবল নয়, বরং বৈচিত্র্যের মাঝেও ঐক্যের এক অনন্য চিত্র দেখা যাচ্ছে। অংশগ্রহণকারী অনেক দেশের জাতীয় দলে বিভিন্ন জাতিগত, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পটভূমির ফুটবলাররা একসঙ্গে খেলছেন। ক্রীড়াপ্রেমীদের চোখে বিষয়টি তাদের দেশের বহুমাত্রিক সমাজেরই প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত হচ্ছে। এতে বিশ্বমঞ্চে শুধু গোল, জয়-পরাজয় বা শিরোপার লড়াই নয়; ভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মানুষের একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার গল্পও সমানভাবে উঠে আসছে।
ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের মতো ইউরোপীয় দলগুলোতে খ্রিস্টান ও মুসলিম—দুই ধর্মের খেলোয়াড়ই রয়েছেন। স্পেনের তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল এবং সুইডেনের মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারির মতো ফুটবলাররা বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে মুসলিম খেলোয়াড়দের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির উদাহরণ।
ফ্রান্স দলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের উপস্থিতি বহুদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য, যেখানে সেনেগাল, আলজেরিয়া, মালি ও ক্যামেরুন-উৎসের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত একটি বহুজাতিক কাঠামো হিসেবে পরিচিত দলটি।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলে আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের উপস্থিতিও চোখে পড়ে। জার্মানি দলে তুর্কি ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তারা।
নেদারল্যান্ডস দলেও সুরিনাম, মরক্কো ও ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ দেখা যায়; বিষয়টি তাদের ফুটবল সংস্কৃতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে। বেলজিয়াম দলও দীর্ঘদিন ধরে কঙ্গো ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে আগত খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি মিশ্র পরিচয়ের দল হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন, পরিচয় ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও জাতীয় ফুটবল দলগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, ভিন্ন পটভূমির মানুষ একসঙ্গে কাজ করে কীভাবে সফল হতে পারে।
আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে কাজ করা একটি মার্কিন সংগঠনের সভাপতি এবু প্যাটেল বলছেন, মাঠে ফুটবলারদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়।
তার ভাষ্যমতে, “কেউ গোল করার পর নিজের ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করে, এরপর সতীর্থদের সঙ্গে আলিঙ্গন করে উদযাপন করে। একটি সফল দল গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”