দুই অধিনায়কের ফটোসেশন © সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার পর আবারও দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত স্বাগতিকরা।
ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে আছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের পর আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তান সফরে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরে এসেছে। তবে ইতিহাস বলছে, শক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই সবসময়ই কঠিন।
পরিসংখ্যান অবশ্য স্বাগতিকদের জন্য কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। শেষ পাঁচ দেখায় তিনবার অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ওয়ানডে ইতিহাসে একমাত্র জয় ২০০৫ সালের কার্ডিফের সেই স্মরণীয় ম্যাচে।
১৫ বছরের বিরতির পর এই সিরিজ তাই দুই দলের জন্যই নতুন এক পরীক্ষা। বিশেষ করে মিরপুরের কন্ডিশন এবার ভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সাধারণত স্পিননির্ভর হলেও এবার পেস বোলাররাও বড় ভূমিকা রাখছেন। চলতি বছরে বাংলাদেশের মাটিতে ছয়টি ওয়ানডেতে পেসাররা ৬৯ উইকেট নিয়েছে গড়ে ২২.৬০-এ, যেখানে স্পিনারদের শিকার ২৬ উইকেট গড়ে ৩৫.৫০।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হলো অধিনায়ক মিচেল মার্শের অনুপস্থিতি এবং ট্রাভিস হেডের ছুটি। ফলে তুলনামূলক তরুণ দল নিয়েই মাঠে নামছে সফরকারীরা। পাকিস্তান সিরিজে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও জয় তুলে নিতে পারেনি।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণ—নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান—এবার বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে ফর্মে না থাকা মার্নাস লাবুশেনের জন্য এটি কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
লাবুশেনের সাম্প্রতিক ফর্ম চিন্তার বিষয়—শেষ ১৩ ইনিংসে তার সর্বোচ্চ রান ৪৭, গড় মাত্র ১২.৪৬। পাকিস্তান সিরিজেও তিনি ছিলেন ব্যর্থ।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বড় শক্তি হয়ে উঠছেন তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। শেষ ছয় ওয়ানডেতে তিনি ১৬ উইকেট নিয়েছেন গড়ে ১৭.৪৩-এ। আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে তার পারফরম্যান্স আলাদা করে নজর কাড়ছে।
বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে মোসাদ্দেক হোসেনের প্রত্যাবর্তন। প্রায় তিন বছর পর তিনি আবারও ওয়ানডে দলে ফিরতে পারেন।
সব মিলিয়ে এই সিরিজে দুই দলের শক্তির ভারসাম্য বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কন্ডিশন, ফর্ম ও চাপ—সবকিছু মিলিয়ে মিরপুরে জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষা।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
বাংলাদেশ:
তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা
অস্ট্রেলিয়া:
ম্যাট শর্ট, জশ ইংলিস (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), মার্নাস লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, ওলি পিক, জেভিয়ার বার্টলেট, ম্যাট কুনেম্যান, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা