পিএসজি খেলোয়ারদের উদযাপন © টিডিসি ফটো
ইউরোপিয়ান ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছে ফরাসি জায়ান্টরা। বুধবার (৭ মে) রাতে অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তারা।
প্রথম লেগে প্যারিসে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল পিএসজি। সেই ব্যবধান ধরে রেখে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পিএসজি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। তবে প্রথমে এগিয়ে যায় পিএসজি। দুর্দান্ত এক দলীয় আক্রমণ থেকে গোল করেন উসমান দেম্বেলে। গোলটিতে বড় ভূমিকা ছিল খভিচা কাভারাতসখেলিয়ার। বাম দিক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বায়ার্নের রক্ষণভাগ ভেঙে নিখুঁত কাটব্যাক পাস দেন তিনি। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজ ফিনিশে বল জালে পাঠান দেম্বেলে।
ম্যাচের ৩০ মিনিটের পর রেফারিং নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির। নুনো মেন্ডেসের সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি। এর আগেই তিনি একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। পরে পিএসজির পেনাল্টি বক্সে জোয়াও নেভেসের বিরুদ্ধেও হ্যান্ডবলের দাবি তোলে বায়ার্নের খেলোয়াড়রা। তবে সেখানেও কোনো সাড়া দেননি ম্যাচ অফিসিয়ালরা।
এই ম্যাচে অ্যাসিস্ট করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন কাভারাতসখেলিয়া। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক মৌসুমের নকআউট পর্বে টানা সাত ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা এখন ১০। পাশাপাশি রয়েছে ৬টি অ্যাসিস্টও। এই পরিসংখ্যান কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান।
দ্বিতীয় লেগের আগে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল করা দল ছিল পিএসজি ও বায়ার্ন। দুই দলের গোলসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৩ ও ৪২। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এবারই প্রথম একই মৌসুমে দুটি দল ৪০টির বেশি গোল করার রেকর্ড গড়েছে। নতুন ‘লিগ ফেজ’ ফরম্যাটকে এই রেকর্ডের বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুরো ম্যাচে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি বায়ার্ন। ম্যাচের শেষ দিকে হ্যারি কেইন একটি সান্ত্বনাসূচক গোল করলেও তাতে ফল বদলায়নি। ফলে ২০১৩ ও ২০২০ সালের মতো আবারও ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল জার্মান ক্লাবটির।
অন্যদিকে মঙ্গলবার অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্সেনাল। এবার ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই জায়ান্ট— পিএসজি ও আর্সেনাল।
ফাইনালে নামার আগে নতুন এক লক্ষ্যও সামনে পিএসজির। রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।