আজকের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা স্থগিত
© ফাইল ফটো
আজ রবিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘শোকরানা মাহফিলের’ কারণে পেছানো হয়েছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা জেএসসি পরীক্ষা। অনিবার্য’ কারণের কথা বলে শনিবার এই সিদ্ধান্ত জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ পরীক্ষাটি হবে আগামী শুক্রবার।
শনিবার সকালে আকস্মিকভাবে এ ঘোষণা আসায় অনেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা মনে করেন, যেহেতু বৃহস্পতিবার গণিত, শুক্রবার ইংরেজি (স্থগিত হওয়াটি) এবং শনিবার বিজ্ঞান পরীক্ষা রয়েছে। বিষয় তিনটি অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য অপেক্ষাকৃত কঠিন। পরপর টানা তিনদিন পরীক্ষা হলে তাদের ওপর খুব চাপ পড়বে। কর্তৃপক্ষ যদি বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখে।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২৭ লাখ শিশুর পরীক্ষা বন্ধ করে এ আয়োজন করা মানে আয়োজকদের এদেশে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। এতে শুধু আওয়ামীলীগ-বিএনপি বা রাজনীতির ক্ষতি হবে না, দেশের ক্ষতি হবে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় ও ইতিহাস হয়ে থাকবে আর ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা কখনও ভুলবে না বলে মনে করছেন তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খন্দকার আলী আর রাজি তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘বৃহস্পতিবার গণিত, শুক্রবার ইংরেজি এবং শনিবার বিজ্ঞান পরীক্ষা। পরপর টানা তিন দিন পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের ওপর খুব চাপ পড়ে। বিষয় তিনটিও অধিকাংশের জন্য অপেক্ষাকৃত কঠিন। শুক্রবারের পরীক্ষা সকাল নয়টায় হলে সংশ্লিষ্ট প্রায় সবারই সময়-ব্যবস্থাপনা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ যদি বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখে, শুক্রবারের ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা অন্য কোনো সুবিধাজনক দিনে নিয়ে যান, তাহলে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভার বিশেষভাবে লাঘব হয়। ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ।’
গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী মাহমুদুল হক মুন্সি বাধঁন তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘যারা দেশের জাতীয় সঙ্গীত গায় না, দেশের পতাকাকে সম্মান দেয় না, দেশের জিডিপিতে নেই ১% অবদান, দেশের সংবিধানকেও অস্বীকার করে, তাদের জন্য দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার ২৭ লক্ষ শিশুর পরীক্ষা বন্ধ করে দেশপ্রধান যাচ্ছেন সংবর্ধনা নিতে। সুযোগ পেলে এরাই দেশপ্রধানের জীবন বিপন্ন করে তুলতেও ছাড়বে? সাপকে আপনি খাঁচায় আটকে রাখতে পারেন, নিয়ে বিছানায় যেতে পারেন না।
রাজনৈতিকভাবে এদের যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে, এতে শুধু আওয়ামীলীগ-বিএনপি বা রাজনীতির ক্ষতি হবে না, দেশের ক্ষতি হয়েছে, হবে। তখন এই প্রবঞ্চনার দায় কে নিবে?’
হাবিবুল্লাহ মেজবাহ নামের একজন তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘ভোটের রাজনীতি /ক্ষমতার রাজনীতি। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি শিক্ষার্থীদের শোকরানা মাহফিল থাকায় রোববারের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা পিছিয়েছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় ও ইতিহাস হয়ে থাকবে আর তা ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা কখনও ভুলবে না।’
হাসান শান্তনু নামের এক সাংবাদিক তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘অভিধান থেকে নয়, সরকারি ভাষ্য থেকেও নয়। নির্যাতিতা সাংবাদিক নাদিরা শারমিনের কাছ থেকে জেনে নিন, হেফাজতি বর্বরতার অর্থ কী!’
বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, ‘নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়াও এক বড় অর্জন !!!!!!!!!’
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের মোতাহার হোসেন নামের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আকস্মিকভাবে এ পরীক্ষা স্থগিত করায় বাচ্চাদের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ পড়বে।’ পাবলিক পরীক্ষার মধ্যে এ ধরণের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভেবে-চিন্তে দেয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
জানা গেছে, কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের সমমান দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা জানিয়ে এ ‘শোকরানা মাহফিল’ অনুষ্ঠিত হবে। আল-হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে এ মাহফিলে সারাদেশ থেকে লক্ষাধিক মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বৃস্পতিবার (১ নভেম্বর) সারাদেশে একযোগে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তার মধ্যে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬০১ জন ছাত্রী এবং ১২ লাখ ২৩ হাজার ৭৩২ জন ছাত্র। দেশের ২৯ হাজার ৬৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুই হাজার ৯০৩টি কেন্দ্রে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।