গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী। © সংগৃহীত
পরীক্ষার সময় কীভবে কমানো যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে এই পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গণভবনে শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে মাধ্যমিকের ফল গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা আছে। ডিজিটাল সুবিধার সুফলের পাশাপাশি কুফলও রয়েছে জানিয়ে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একইসাথে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এবার ফাস হয়নি বলেও জানান সরকারপ্রধান।
পরীক্ষায় সকলেই ভালো ফল করে তাই অকৃতকার্যদের বকাঝকা না করতে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থিদের প্রতি আহবান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ত্রাস,মাদক ও জঙ্গীবাদের বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতেও আহবান জানান তিনি।
এর আগে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন।
এ সময় জানানো হয়, এ বছর মোট পাস করেছে আট লাখ ৫৮ হাজার ১০১ জন। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন। এ বছর পাসের হার ও জিপিএ ৫ উভয়ই কমেছে।
গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ ভাগ। সেবার পাস করেছিল আট লাখ এক হাজার ৭১১ জন। এ বছর পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৭ ভাগ। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে এবার ৫৭ হাজার ৯০ জন কম পাস করেছে।
গত বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন। কমেছে আট হাজার ৭০৭ জন।
গত বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫৩২টি। এবার সেই সংখ্যা ৪০০-তে নেমে এসেছে। অর্থাৎ শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ১৩২টি।
অন্যদিকে এ বছর ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৭২টি।
প্রসঙ্গত, এবার সারাদেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সাধারণ আট বোর্ডে শিক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন। মাদ্সা বোর্ডের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১২৭ জন। এছাড়াও কারিগরি শিক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪।
২ এপ্রিল এই পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১৩ মে। ১৪ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হয়। সেই হিসাবে ৫৮ দিনে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।